দার্জিলিং: আবির্ভাবের বছরেই বাজিমাত্র করল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা (বিজিপিএম)। ৪৫টার মধ্যে ২৭টা আসন জিতে গোর্খাল্যান্ড আঞ্চলিক পর্ষদ (জিটিএ)-এর বোর্ড গঠন করতে চলেছে তারা। বিজিপিএমের সুপ্রিমো অনীত থাপা বলছেন, পাহাড়ের বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে রাজনীতি করার ফলই হাতেনাতে পেয়েছেন তিনি।

অনীতের কথায়, ‘‘আবেগের রাজনীতি আর নয়। পাহাড়ে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে রাজনীতি করতে হবে। এই ভাবনা নিয়েই এখানে কাজ করছিলাম। বিভিন্ন নির্বাচন এসেছে আর আমাদের দল এগিয়েছে। কখনও থেমে যাইনি আমরা।’’

অনীতের কথা এই প্রসঙ্গে খুব তাৎপর্যপূর্ণ। পাহাড়ের প্রধান আবেগ হল গোর্খাল্যান্ড। তা হলে গোর্খাল্যান্ড কি এখন আর পাহাড়ে কোনো ইস্যু নয়? অনীত জানান ভবিষ্যতের লক্ষ্যও স্থির তাঁর। তাঁর কথায়, ‘‘অনেক চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে জয় এলেও আমাদের বোর্ডের কাজে সাধারণ মানুষ খুশি হলে তবেই আমরা জয়ী হব। জনসাধারণের দেওয়া ভোটকে সম্মান দিতে হবে। পাহাড়ে শান্তি বজায় রাখতে হবে।”

এই ভোটে কার্শিয়াং থেকে নিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন অনীত। তাঁর প্রচারের ধরনও ছিল ‘অন্য ধরনের’। জাঁকজমক নয়, পাহাড়ের গ্রামে গ্রামে গিয়ে ‘পকেট রুটে’ প্রচার সেরেছিলেন অনীত। শুধুমাত্র দার্জিলিং বা কার্শিয়াংকেন্দ্রিক প্রচার নয়। কালিম্পং থেকে মিরিক— কোথাও ভোটপ্রচার বাদ রাখেননি। সে তুলনায় বিজিপিএম-এর ‘প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী’ হামরো পার্টির শক্ত ঘাঁটি ছিল শুধুমাত্র দার্জিলিংকেন্দ্রিক। ফলে সেখানেই বেশির ভাগ প্রচার করেছে তারা। আর তাই দার্জিলিং অঞ্চলের সিংহভাগ আসনই গিয়েছে হামরো পার্টির দখলে।

বিজিপিএমের মতো হামরো পার্টিরও আত্মপ্রকাশ মাত্র কয়েক মাস আগে। সে তুলনায় তাদের দ্বিতীয় স্থান দখল ক্রয়াও যথেষ্ট তাৎপর্যের। চলতি বছরের গোড়ায় দলের পথচলা শুরু হয়েছিল। তবে হামরো পার্টির প্রধান অজয় এডওয়ার্ডসের মতে, নতুন দল হিসাবে জিটিএ-তে ৮টি আসন দখল করাকে সাফল্য হিসাবেই দেখছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা জয়লাভ করতে পারিনি বলে অবশ্যই দুঃখ হচ্ছে। শুধুমাত্র দার্জিলিং সদর বা পুর এলাকাগুলোর ভোট পেয়েছি। তার পরও আমরা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছি। মাত্র ছ’মাসের ব্যাবধানে দ্বিতীয় স্থানে আসাটাও অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। অনীত থাপা এবং তাঁর দলকে অনেক শুভেচ্ছা। তবে পাহাড়ে জনতার রাজ চলে এসেছে। আমরা বিরোধী আসনে রয়েছি। দেখা যাক, কত জন নির্দল প্রার্থী আমাদের সঙ্গ দেন। বিগত দিনে জিটিএ-তে যে দুর্নীতিগুলো হয়েছে, এ বার আর তা হতে দেব না।”

পাহাড়ে রাজনীতির নতুন দিগন্তও এ বারের ভোটে খুলে গেল। পাহাড়ে আগে তৎকালীন সর্বেসর্বার রাজ চলত। আশি-নব্বইয়ের দশকে জিএনএলএফের সুভাষ ঘিসিংয়ের ডাকে পাহাড়ে বাঘে গোরুতে এক ঘাটে জল খেত। ২০০৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত সেটা ছিল বিমল গুরুং এবং গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার দখলে। সে অর্থে গণতন্ত্র কখনই পাহাড়ে ছিল না।

কিন্তু এ বারের জিটিএ-এর ভোটের মধ্যে দিয়ে পাহাড়ে প্রকৃত গণতন্ত্র যে এল সেটা মনে করিয়ে দিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়তে পারেন

এ বার হুল দিবসের দোহাই! বুধবার রাতে বিজ্ঞপ্তি জারি করে পরীক্ষা স্থগিত করে দিল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ

মহারাষ্ট্রে সরকার গড়ার প্রস্তুতি বিজেপির, তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন ফড়ণবীস

পড়ে গেল মহারাষ্ট্র সরকার, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা উদ্ধবের

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন