২৬ জুন পাহাড়ে ভোট। প্রতীকী ছবি

দার্জিলিং: জিটিএ (GTA)-র গ্রুপ ‘সি’ এবং গ্রুপ ‘ডি’ চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নিয়মিতকরণ এবং মাপকাঠি বজায় রেখে অন্যান্য সুযোগসুবিধার দাবিতে লাগাতার আন্দোলনে নেমেছে ইউনাইটেড এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন। কর্মী সংগঠনটির দাবি, একাধিক বার রাজ্য সরকারের তরফে এ বিষয়ে অনুমোদন মেলার পরেও এ ধরনের কর্মীদের সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করা হচ্ছে।

প্রায় আট বছর আগে দার্জিলিং গোর্খা হিল কাউন্সিল (Darjeeling Gorkha Hill Council) বা ডিজিএইচসি (DGHC) ভেঙে গঠিত হয় গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (Gorkhaland Territorial Administration) বা জিটিএ। সংগঠনের অভিযোগ, নতুন প্রশাসন গঠিত হলেও নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মীরা পড়ে থাকেন অন্ধকারেই। ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কর্মরত থাকলেও নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মীরা বঞ্চিত প্রাপ্য সুযোগ থেকে।

নতুন প্রশাসন চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ‘ক্যাজুয়্যাল ওয়ার্কার’ থেকে ‘পে ব্যান্ড এমপ্লয়ি’র তকমা দিয়েছে। কিন্তু অধরা রয়ে গিয়েছে প্রাপ্য সুযোগগুলি। বর্তমানে এ ধরনের কর্মীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার।

সংগঠনের অভিযোগ, দীর্ঘকালীন কর্মজীবনেও মিলছে না সম্মানজনক অবস্থান। নেই কোনো পেনশন অথবা গ্র্যাচুইটির সুবিধা। স্বাভাবিক ভাবেই অবসরের পর কর্মীদের চরম আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এই ঘটনা গ্রুপ ‘সি’ এবং ‘ডি’ কর্মীদের মানসিক অশান্তির বড়ো কারণ হয়ে উঠেছে। অথচ এমনটা হওয়ার কথা নয় বলে সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে।

সংগঠনের পক্ষে সুবাস ছেত্রী বলেন, ১৯৯৭ সালে ডিজিএইচসি গঠনের সময় কর্মী নিয়োগের সুস্পষ্ট দিশা ছিল। সাব-অর্ডিনেট সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমে এই শ্রেণির চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের স্থায়ীকরণের নির্দেশও দেওয়া হয়। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়েনি। বছর দশেক বাদে এই ইস্যুতে ২০০৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার, ডিজিএইচসি কর্তৃপক্ষ এবং কর্মী সংগঠনের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে বিষয়গুলিকে গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। এর পর ২০১২ সালে জিটিএ গঠনের সময়ও কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মীদের স্থায়ীকরণ এবং নিয়োগের ব্যাপারে শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারি কর্মীরা যে ধরনের সুযোগসুবিধা পেয়ে থাকেন, বিষয়টি বিবেচনা করে তা কার্যকর করার কথা বলা হয়।

এ ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক কালে গ্রুপ ‘এ’ পর্যায়ের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য যথোপযুক্ত পদক্ষেপে তাঁদের নিয়মিতকরণে সিলমোহর পড়লেও ব্রাত্য হয়ে পড়ে থাকেন গ্রুপ ‘সি’ এবং’ডি’ কর্মীরা।

লাগাতার আন্দোলন

দীর্ঘ আন্দোলনেও কোনো সুরাহা না মেলায় গত ১৫ জুলাই জিটিএ-র প্রশাসনিক পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং প্রধানসচিবকে স্মারকলিপি দেয় কর্মী সংগঠন। বলা হয়, দু’টি ইস্যুতে অবিলম্বে পদক্ষেপ করতে হবে। এর জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় ১৬ আগস্ট। হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, তার মধ্যে কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না করলে আন্দোলনের পথে যাবে সংগঠন।

প্রথমত, গ্রুপ সি এবং ডি পে ব্যান্ড কর্মীদের নিয়মিতকরণের ব্যবস্থা নিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, অবসরকালীন সুবিধা চালু করতে হবে। একই সঙ্গে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলেও পর্যাপ্ত সুবিধা দিতে হবে।

জিটিএ কর্তৃপক্ষ অবশ্য রাজ্য সরকারের অনুমোদনের বিষয়টিকে ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে কোনো হেলদোল দেখাননি বলে অভিযোগ করেন সুবাস।

১৬ আগস্টের সময়সীমা পার হতেই পর দিন থেকে লাগাতার ধরনায় শামিল হন সংগঠনের সদস্যরা। বর্তমানে দার্জিলিংয়ের লুইস জুবিলি কমপ্লেক্স এবং লালকুঠিতে জিটিএ-এর প্রশাসনিক দফতরের সামনে ধরনা চলছে নিয়মিত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত দু’ ঘণ্টা ধরে ধরনায় শামিল হচ্ছেন অংসখ্য কর্মী।

সুবাস বলেন, “তবে আগামী সোমবার থেকে এই আন্দোলনের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। ওই দিন থেকে লালকুঠি এবং লুইস জুবিলি কমপ্লেক্সের পাশাপাশি জিটিএ-র সমস্ত কার্যালয়ের সামনেই শুরু হবে ধরনা। এখন দেখার, জিটিএ কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে কি না”!

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন