ফের বদলাচ্ছে দার্জিলিং পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ?

দার্জিলিং: এনআরসি, এনপিআর আর সিএএ ইস্যুকে কেন্দ্র করে কি পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ ফের বদলাতে শুরু করেছে? গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ কিন্তু সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে।

গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা (বিনয়পন্থী) আর জিএনএলএফ, পাহাড়ের রাজনীতিতে দুই মেরুতে থাকা দু’টি দল। বিনয়পন্থী মোর্চা তৃণমূলঘনিষ্ঠ। অন্য দিকে বিজেপির সঙ্গে জোটে রয়েছে জিএনএলএফ। কিন্তু এখন দুই দলই কাছাকাছি এসে গিয়েছে।

নাগরিকত্ব আইন রুখতে পাহাড়ে আইএলপি (ইনারলাইন পারমিট) চালুর দাবিতে সরব হয়েছিল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা (বিনয়পন্থী)। মঙ্গলবার জিএনএলএফ এই আইন রুখতে সামনে আনল ষষ্ঠ তফশিলের দাবি।

নাগরিকপঞ্জি নিয়ে দলের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকের পরে জিএনএলএফ মুখপাত্র মহেন্দ্র ছেত্রী জানিয়েছেন, নাগরিকত্ব আইন নিয়ে আতঙ্কিত গোর্খারা। কারণ এই আইন খতিয়ে দেখার পর তাঁদের মনে হয়েছে এই আইন লাগু হলে নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণে অসুবিধায় পড়বেন তাঁরা।

তিনি আরও বলেন, “এনআরসির প্রাথমিক পর্যায়ে এনপিআর নোটিস জারি হলে, সরকারি কর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে প্রত্যেকের বাবা-মার জন্মস্থান জানতে চাইলে তার উত্তর নেই গোর্খাদের অনেকের কাছেই। তাই আগে ষষ্ঠ তফশিল চালু করে গোর্খাদের নিরাপত্তা দেওয়া হোক। তার পর বাকি কথা হবে।”

জিএনএলএফের এই বক্তব্যের সঙ্গে তাঁরা সম্পূর্ণ সহমত বলে জানান গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার (বিনয়পন্থী) নেতা কেশব পোখরেল। তিনি বলেন, “আমরা তো প্রথম থেকেই বলছি, এনআরসি চালু হলে গোর্খাদের ভালো হবে না। এই লড়াইয়ে ওঁরাও আমাদের পাশে থাকুক।”

এমনকি পাহাড়ের বিজেপি নেতৃত্বকেও এই লড়াইয়ে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন পোখরেল।

আরও পড়ুন স্কুলের প্রার্থনায় পড়তেই হবে সংবিধানের প্রস্তাবনা, নির্দেশিকা জারি এক রাজ্যে

এমনিতে পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় নানা রকম পোস্টার পড়েছে। কোনো পোস্টারে দাবি করা হয়েছে সিএএর আওতা থেকে পাহাড়কে বাইরে রাখা। আবার কোথাও দাবি উঠেছে ১৯৯০ সালে বাতিল হওয়া ইনার লাইন পারমিট (আইএলপি) ফের চালু করা। এই আইএলপি চালু থাকলে সেই ভূখণ্ডে নাগরিকত্ব আইন লাগু করা যায় না।

উল্লেখ্য, গত লোকসভা নির্বাচনের সময়েই দার্জিলিং কেন্দ্রে বিধানসভা উপনির্বাচন হয়। দু’টি ভোটেই বিজেপির সঙ্গে জোট করেছিল জিএনএলএফ। সঙ্গে ছিল জনমুক্তি মোর্চার গুরুংপন্থী শাখা। সাংসদ এবং বিধায়ক, দু’টিই হয়েছে জোট প্রার্থীরা।

কিন্তু নাগরিকপঞ্জি আর নাগরিকত্ব আইনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়ার পরিস্থিতিতে পাহাড়ে রাজনৈতিক সমীকরণ আবার বদলে যাওয়ারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.