দার্জিলিং জেলায় আক্রান্ত ৬৪ কিন্তু দার্জিলিং শহরে মাত্র ৩, তবুও কোভিড সংক্রমণের জন্য পর্যটকরা দায়ী?

0

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ আটকানোর জন্য মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু কোথাও যেন মনে হচ্ছে যে বেছে বেছে পর্যটকদেরই ঘাড়ে পুরো দায়টা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমনি এমনিও ভিড় হচ্ছে, রাজনৈতিক কারণে ভিড় হচ্ছে, প্রতিবাদ বিক্ষোভের কারণে ভিড় হচ্ছে, কিন্তু এমন ভাবে প্রচার করা হচ্ছে যেন শুধুমাত্র পর্যটকরাই ভিড় করছেন সব জায়গায়।

গত ধরে পশ্চিমবঙ্গে করোনার দৈনিক সংক্রমণের নিরিখে দেখা যাচ্ছে যে কলকাতা আর দার্জিলিং জেলার কোভিড সংক্রমণের চিত্রটা কার্যত এক রকম। কলকাতায় এখন যখন দৈনিক গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন মানুষ কোভিডে আক্রান্ত হচ্ছেন, তখন দার্জিলিংয়ে সেটা ৮০ থেকে ৯০-এর মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। আর এতেই সব দোষ যেন চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে পর্যটকদের ঘাড়ে।

Shyamsundar

অথচ খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করলে চমকপ্রদ একটা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। দার্জিলিং জেলায় দৈনিক যা সংক্রমণ হচ্ছে, তার অর্ধেকেরও বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটছে শিলিগুড়ি এবং তার সন্নিহিত অঞ্চল থেকে। পাহাড়ে তার দাপট খুবই কম। আর দার্জিলিংয়ের মতো পর্যটনস্থলে তো প্রায় নেই বললেই চলে।

দার্জিলিং জেলার স্বাস্থ্য দফতরের তরফে পাওয়া তথ্যে জানা গিয়েছে যে মঙ্গলবার সারা দিনে দার্জিলিং জেলায় ৬৪ জন কোভিড আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে শিলিগুড়ি শহরে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ জন। শিলিগুড়ির পার্শ্ববর্তী সমতলের অঞ্চল অর্থাৎ সুকনা, মাটিগাড়া, নকশালবাড়ি মিলিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১৩ জন। অর্থাৎ ৬৪ জনের মধ্যে ৩৬ জনই আক্রান্ত হয়েছেন সমতলে।

মিরিক মহকুমা থেকে ১০ জন আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। কিন্তু মিরিক পুরসভা এলাকায় কোনো আক্রান্তের সন্ধান মেলেনি। মিরিক লেক কিন্তু পুরসভা এলাকার মধ্যেই পড়ে, যেখানে প্রচুর পর্যটক বেড়াতে যান এবং বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার পর থেকে নতুন করে ফের যাওয়া শুরু করেছেন।

এ ছাড়া বিজনবাড়ি, শুখিয়াপোখরি এবং তাকদহ থেকে ১৩ জন আক্রান্তের খবর মিলেছে। এই জায়গাগুলিতে কিন্তু এখনও পর্যটক ভিড় করেননি। কারণ অনেক হোমস্টে এবং রিসর্টই নিজেদের দরজা পর্যটকদের জন্য খোলেননি। কার্শিয়াং পুরসভা এলাকা থেকে ৩ জন আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে।

এর পর আসা যাক দার্জিলিং শহরের কথায়। ৩২টা ওয়ার্ড নিয়ে বেশ বড়ো শহরই বলা যায় দার্জিলিংকে। বিধিনিষেধ থাকাকালীনও এখানে পর্যটক আসছিলেন। আর এখন তা শিথিল হওয়ায় পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। অবশ্যই শিমলা বা মানালির মতো ভিড়ের ছবি দার্জিলিংয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি, কিন্তু এখানেও ধীরে ধীরে মানুষ বেড়াতে আসছেন। তবুও এই শহরে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন মাত্র ৩ জন।

উল্লেখ্য, জেলা স্বাস্থ্য দফতরের হিসেবের সঙ্গে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিনের হিসেব মিলবে না। কারণ জেলা স্বাস্থ্য দফতর একটা অন্য সময়সীমার মধ্যে আক্রান্তের হিসেবটা দেখায়, কিন্তু রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের সময়সীমাটা অন্য। কিন্তু এটা বোঝাই যাচ্ছে যে গোটা রাজ্যের মতো দার্জিলিং জেলাতেও সংক্রমণ কমছে।

সেই সঙ্গে এটাও বোঝা যাচ্ছে যে পর্যটন চালু করে দেওয়ার জন্য সংক্রমণ আদৌ বাড়ছে না। সংক্রমণ বেশি হওয়ার মূল কারণ হল শহুরে অঞ্চলগুলিতে বাজারে ভিড় নিয়ন্ত্রণ না হওয়া।

পর্যটনের গুরুত্ব অপরিসীম আমাদের দেশে। দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকার ফলে মানুষ যখন মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত, তখন এই ভ্রমণের হাত ধরেই মনটাকে ঠিক করতে চাইছেন তাঁরা। আর এই পর্যটকদের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এক বিশাল সংখ্যক মানুষ যাদের ব্যবসা শুধুমাত্র ভ্রমণের ওপরেই নির্ভরশীল।

আরও পড়তে পারেন সাড়ে ১৩ মাস পর কলকাতায় সক্রিয় কোভিডরোগীর সংখ্যা এক হাজারের নীচে

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন