Connect with us

দার্জিলিং

অসময়ের বরফে ঢাকল টাইগার হিল, ঘুম-দার্জিলিংয়েও তুষারপাত

দার্জিলিং: ফেব্রুয়ারির শেষলগ্নে বরফ পড়ল দার্জিলিংয়ে! কোথাও হালকা কোথাও ভারী। আর তা দেখে পর্যটকদের খুশির একশেষ। অসময়ের তুষারপাত উপভোগ করতে দার্জিলিংয়ে ভিড় করছেন তাঁরা।

ফেব্রুয়ারির শেষে সান্দাকফু অঞ্চলে তুষারপাত স্বাভাবিক ঘটনা। এমনকি উচ্চতা অনেক বেশি থাকায় আর পূর্ব হিমালয়ের অন্তর্গত হওয়ায় সেখানে মার্চ পেরিয়ে এপ্রিলেও বরফ পড়ে। কিন্তু অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার দার্জিলিংয়ে এর আগে ফাল্গুনে আদৌ বরফ পড়েছে কি না, মনে করতে পারছেন না দার্জিলিংবাসী।

সোমবার থেকে বেশ কয়েক দফায় বরফ পড়েছে সান্দাকফুতে। কিন্তু তা ছিল মূলক হালকা। সান্দাকফু বা সিঙ্গালিলা অঞ্চলের বাইরে কোথাওই বরফ পড়েনি। কিন্তু মঙ্গলবার রাত থেকে পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়।

উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মঙ্গলবার রাতে ভারী বৃষ্টি হয়। দার্জিলিং শহরে বৃষ্টি হয়েছিল ৫০ মিলিমিটার। বৃষ্টির প্রভাবে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার পর শুরু হয় তুষারপাত।

এ দিন দার্জিলিংয়ের ম্যালে বরফ না পড়লেও, ঘুম, জলাপাহাড় বরফের চাদরে ঢেকেছে। তবে সব থেকে বেশি বরফ পড়েছে টাইগার হিলে। গত জানুয়ারিতেও টাইগার হিলে বরফ পড়েছিল। কিন্তু এ দিনের বরফের কাছে সেটার কোনো তুলনা নেই।

তুষারপাত হয়েছে শুনে এ দিন সকাল এগারোটা নাগাদ দার্জিলিং থেকে টাইগার হিলের উদ্দেশে রওনা হন উমা গোয়েঙ্কা। তাঁর কথায়, “আমার নিজের রাজ্যে এ রকম বরফ দেখব আমি কোনো দিনও ভাবতে পারিনি। ঘুম ছাড়ার একটু পরেই রাস্তার ধারে বরফ দেখতে পাচ্ছিলাম। টাইগার হিলে যখন পৌঁছলাম, তখন তো চারিদিক বরফে ঢাকা। হালকা বরফ তখনও পড়ছিল। এই অভিজ্ঞতা আমি সহজে ভুলছি না।”

টাইগার হিলে যখন এই পরিমাণ বরফ তখন আরও বেশি বরফ পড়েছে সাড়ে আট হাজার ফুট উচ্চতার ধোতরেতে। রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে নতুন এই টুরিস্ট স্পটের হোম-স্টের মালকিন পদ্মা শেরপা তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বরফের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে কী পরিমাণ ভারী তুষারপাত হয়েছে ধোতরেতে।

আরও পড়ুন দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার উন্নতি হলেও উত্তরে ভারী বৃষ্টি, সঙ্গী প্রবল তুষারপাত

সব মিলিয়ে অসময়ের তুষারপাতে বুধবার শিহরিত হল দার্জিলিং। তবে বৃহস্পতিবার থেকে আবহাওয়া পরিষ্কার হয়ে যাবে।

কলকাতা

দু’মাস পর কলকাতা ও বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে চালু হল যাত্রীবাহী উড়ান

কলকাতা ও শিলিগুড়ি: দীর্ঘ দু’মাস পর ফের যাত্রীবাহী উড়ান চালু হল কলকাতা (Kolkata) আর বাগডোগরা (Bagdogra) থেকে। বৃহস্পতিবার থেকে রোজ দশটি করে বিমান চলাচল করবে এই দুই বিমানবন্দরে।

এ দিন সকাল ৬:২০-তে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে দিল্লির (Delhi) উদ্দেশে প্রথম বিমানটি উড়ে যায়। ৬:৫০-এ দিল্লি থেকেই একটি বিমান অবতরণও করে কলকাতা বিমানবন্দরে।

যে দশটি বিমান ওঠানামা করবে তাদের মধ্যে দিল্লি ছাড়াও মুম্বই, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু ও ডিব্রুগড়ের বিমান রয়েছে। কলকাতা থেকে ইন্ডিগোর পাঁচটি, স্পাইস জেটের দু’টি , এয়ার ইন্ডিয়া, এয়ার এশিয়া ও ভিস্তারার একটি করে বিমান ওঠানামা করবে।

বিমান পরিষেবা চালু হলেও বিমানবন্দরের চিত্রটা অনেকটাই বদলে গিয়েছে। সংক্রমণ ঠেকাতে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে বিমানবন্দরকে। কলকাতা বিমানবন্দরে প্রবেশ করলেই যাত্রীদের টিকিট ও পরিচয়পত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে যন্ত্রের মাধ্যমে। তাঁদের বোর্ডিং পাশ দেওয়া হবে শারীরিক দূরত্ববিধি মেনে।

এ ছাড়া, জিনিসপত্রে ট্যাগ লাগাতে হবে সংশ্লিষ্ট যাত্রীকেই। বোর্ডিং পাস ইশু হয়ে যাওয়ার পর বিমানে ওঠার আগে নিরাপত্তারক্ষীরা যাত্রীদের শরীরের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন দূরত্ব বিধি মেনে।

কলকাতার পাশাপাশি বৃহস্পতিবার বাগডোগরা বিমানবন্দরেও শুরু হয়েছে পরিষেবা । আগামী ৩৬ দিনের বিমানসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে বাগডোগরা বিমানবন্দরের তরফে ৷

উল্লেখ্য, ২৫ মে কলকাতা-সহ বাগডোগরা ও অন্ডাল বিমানবন্দর থেকেও পরিষেবা শুরু হওয়ার কথা ছিল । কিন্তু, ঘূর্ণিঝড় উম্পুনে কলকাতা তছনছ হয়ে যাওয়ার কারণে কয়েক দিনের জন্য বিমান পরিষেবা শুরু করার ব্যাপারটি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এ দিকে রাজ্যের দুই বিমানবন্দরে পরিষেবা শুরু হলেও অন্ডাল বিমানবন্দরে এখনই শুরু হচ্ছে না পরিষেবা । সেখানে ৩১ মে পর্যন্ত কোনো বিমান ওঠানামা করবে না বলে জানানো হয়েছে।

দুই বিমানবন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়ার বিমান পরিষেবা শুরু হলেও এখনও কলকাতা আর বাগডোগরার মধ্যে কোনো পরিষেবা চালু হয়নি। ফলে আকাশপথে উত্তরের সঙ্গে বিচ্ছিন্নই রয়েছে দক্ষিণবঙ্গ। কিছু দিনের মধ্যে এই পরিষেবা চালু হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Continue Reading

দার্জিলিং

নাইসেডকে টপকে নমুনা পরীক্ষায় নজির উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের

শিলিগুড়ি: নাইসেডকে (NICED) টপকে গিয়ে করোনা (Coronavirus) পরীক্ষায় রাজ্যে নজির গড়ছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের (North Bengal MCH) ভাইরোলজি রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনোস্টিক ল্যাবরেটরি। বৃহস্পতিবারের হিসেব বলছে নমুনা পরীক্ষার নিরিখে নাইসেডকে টপকে প্রথম স্থানে উঠে এসেছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল।

গত ২৯ মার্চ থেকে এই ভাইরোলজির ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা শুরু হয়। দেরিতে দৌড় শুরু করেও যে ভাবে নাইসেডকে টেক্কা দিচ্ছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল, তাতে অভিভূত রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। 

রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের হিসেবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নাইসেডে ৯৩৫০টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। সেখানে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে পরীক্ষা হয়েছে ৯,৮৭২টি। স্বাস্থ্য দফতরের খবর, উত্তরবঙ্গের সাফল্যের পিছনে পুল টেস্টের বড়ো ভূমিকা রয়েছে।

নাইসেডের মতো এখানে অত্যাধুনিক অটোমেটেড রিয়্যাল টাইম পিসিআর যন্ত্র উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে নেই। এই যন্ত্রে দিনে দেড় হাজার পরীক্ষা করা সম্ভব। এখানে যে দু’টি রিয়্যাল টাইম পিসিআর যন্ত্র রয়েছে তা দিয়ে ১২০টি করে নমুনা পরীক্ষা একবারে হতে পারে। তা-ও সময় লাগে ৭-৯ ঘণ্টা।

যন্ত্রের অভাবের মধ্যেও ল্যাবরেটরির রিসার্চ সায়েন্টিস্ট, টেকনিশিয়ানরা দিনরাত এক করা পরিশ্রম করে যত বেশি সংখ্যক নমুনা পরীক্ষার চেষ্টা করছেন। শুরুতে দিনে ১০টি, ২০টি করে নমুনা পরীক্ষা হত। সপ্তাহখানেকের মধ্যে তা বাড়িয়ে দৈনিক ১২০-১৫০টি করে পরীক্ষা শুরু হয়। সম্প্রতি তা বাড়িয়ে ৫০০ করা শুরু হয়।

রাজ্যে করোনায় নতুন  আক্রান্ত ৮৭, কলকাতায় কমল সক্রিয় রোগী

টানা বেশ কয়েক দিন ধরে গড়ে একশোরও বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর অবশেষে সেই সংখ্যাটায় কিছুটা রাশ টানা গিয়েছে। কারণ গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৭ জন। যদিও মৃত্যুহারে বিশেষ লাগাম দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ এই সময়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে রাজ্যে। তবে সেই সঙ্গে সুস্থও হয়েছেন ৬৬ জন।

আরও পড়ুন সুস্থতার হার আরও কিছুটা বাড়িয়ে চিনের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে ভারত

রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফে বৃহস্পতিবার বিকেলে পাওয়া পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে এ দিনের পর রাজ্যে মোট করোনা-আক্রান্ত ২,৩৭৭। সুস্থ হয়েছেন ৭৬৮ জন। কোমর্বিডিটি সঙ্গে নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে ২১৫-তে। তবে উল্লেখযোগ্য ভাবে সুস্থতার হার পৌঁছে গিয়েছে ৩২.৩১ শতাংশে, যা জাতীয় গড়ের থেকে এক শতাংশ কম।

গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা হয়েছে রাজ্যে, ৫,২০৫। এর ফলে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত মোট ৬২,৮৩৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। টানা তিন দিন পাঁচ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা করে হ্যাটট্রিক করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।

Continue Reading

দার্জিলিং

শিলিগুড়ির প্রশাসক বোর্ডের প্রধান হচ্ছেন অশোক ভট্টাচার্যই

শিলিগুড়ি: বিতর্কে ইতি টেনে অশোক ভট্টাচার্যকেই (Ashok Bhattacharjee) শিলিগুড়ির প্রশাসক বোর্ডের প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের সূত্রে এমনই জানানো হয়েছে।

কিছু দিন আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে কলকাতার পুরসভার বোর্ডের মেয়াদ। ঠিক একই ভাবে আগামী ১৭ মে শিলিগুড়ি (Siliguri) পুরসভার বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ শেষ হবে। করোনাভাইরাসের (Coronavirus) কারণে পুরসভা নির্বাচন এখন বিশ বাঁও জলে। ফলে সেখানেও প্রশাসক বোর্ডের ওপরেই পুরসভা চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছ।

কলকাতা পুরসভায় যখন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে (Firhad Hakim) মাথায় রেখে প্রশাসক বোর্ড গড়ার সিদ্ধান্ত হয়, তখন সিপিএম-সহ বিরোধীরা তার প্রতিবাদ করেন। এই বিতর্কের আগুন নিভিয়ে দেওয়ার জন্যই রাজ্য এমন পদক্ষেপ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু শিলিগুড়িই নয়, রাজ্যে মেয়াদ-উত্তীর্ণ যে সব পুরসভা বিরোধীদের দখলে রয়েছে, সে সব পুরসভাতেই প্রশাসক বোর্ডের প্রধান হিসেবে চেয়ারম্যানদেরই বসাতে চায় রাজ্য।

এই প্রসঙ্গে অশোকবাবু বলেন, “আমাদের সঙ্গে মন্ত্রী, সচিব কেউই কোনো আলোচনা করেননি। বিষয়টি নিয়ে দলে আলোচনা করতে হবে।”

আরও পড়ুন পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা চলছেই, এ বার গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল দু’জনের

এই প্রসঙ্গে পর্যটনমন্ত্রী তথা উত্তরবঙ্গের শীর্ষ তৃণমূল নেতা গৌতম দেব বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যে নিরপেক্ষ ভাবে প্রশাসন চালান, সেটা এ বার সবাই বুঝতে পারবে।” তবে কলকাতার মতো শিলিগুড়ির প্রশাসক বোর্ডে মেয়র পারিষদদের রাখা হবে কি না, তা নিয়ে এ দিনই সিদ্ধান্ত হয়নি।

Continue Reading

ট্রেন্ড্রিং