দ্রুত গতিতে শক্তি বাড়াতে পারে নিম্নচাপ, পশ্চিমাঞ্চল ও রাজ্যের উপকূলের জন্য বিশেষ সতর্কতা

নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে বাড়িয়ে অতি প্রবল নিম্নচাপের রূপ নেবে। এমনকি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেওয়ারও হালকা একটা সম্ভাবনা রয়েছে।

0

ওয়েবডেস্ক: গত বছর ৫ আগস্ট। ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে তিনশো মিলিমিটার বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল বাঁকুড়া শহর। জলের তোড়ে আস্ত একটা বাড়ি ভেসে যাওয়ার ছবি এখনও অনেকেরই মনে রয়েছে। একই দিনে একই রকম বৃষ্টি হয়ছিল ঝাড়গ্রামেও। বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি বিচার করে যা বোঝা যাচ্ছে, তাতে আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে আবার এ রকম প্রবল বৃষ্টি হতে পারে বাঁকুড়ায়। শুধু বাঁকুড়াই নয়, পশ্চিমাঞ্চলের সব জেলা, অর্থাৎ বীরভূম, দুই বর্ধমান, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুরও ব্যাপক বৃষ্টির কবলে পড়তে পারে। তুলনায় কলকাতার দিকে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কম থাকলেও, এই শহরেও ভারী থেকে বিক্ষিপ্ত ভাবে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা ষোলো আনা।

তবে সবই নির্ভর করছে বঙ্গোপসাগরে আসন্ন নিম্নচাপটি কোন অঞ্চল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে তার ওপরে। নিম্নচাপের গতিপ্রকৃতি নিয়ে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর এখনও কিছু জানায়নি। শুধু তারা বলেছে, আগামী রবিবার সাগরের উত্তরপূর্ব অংশে নিম্নচাপটি তৈরি হবে। সেটি যে দ্রুত গতিতে শক্তি বৃদ্ধি করবে সেই ইঙ্গিতও দেওয়া রয়েছে। তবে বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা এবং বিদেশি আবহাওয়া সংস্থাগুলি নিম্নচাপের গতিপথ নিয়ে পূর্বাভাস দিতে শুরু করেছে।

ওই নিম্নচাপ উত্তর ওড়িশা ও পশ্চিম বাংলাদেশ উপকূলের মধ্যে দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করবে বলে জানিয়েছে বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমা। সংস্থার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা জানাচ্ছেন, “নিম্নচাপটি পশ্চিমবঙ্গ উপকূল দিয়ে প্রবেশ করার সম্ভাবনা ৫৫%, ওড়িশা দিয়ে প্রবেশ করার সম্ভাবনা ৩০% এবং বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সম্ভাবনা ১৫%।” সেই সঙ্গে তিনি এ-ও বলেছেন যে ওই নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে বাড়িয়ে অতি প্রবল নিম্নচাপের রূপ নেবে। এমনকি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেওয়ারও হালকা একটা সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।

এই মুহূর্তে বঙ্গোপসাগরে জলের তাপমাত্রা খুবই বেশি, যা নিম্নচাপকে ক্রমশ শক্তিবৃদ্ধি করাতে সাহায্য করবে। নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিলে, সেটি মামুলি ঘূর্ণিঝড় হিসেবেই থাকবে। অর্থাৎ তখন হাওয়ার গতিবেগ থাকতে পারে ৭০ থেকে ৮০ কিমি মতো। সেই সঙ্গে অতি ভারী থেকে চরম অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে দক্ষিণবঙ্গে। তবে বৃষ্টির দাপট পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে অনেকটাই বেশি থাকবে। তার কারণ, নিম্নচাপটি স্থলভাগে ঢুকে উত্তরপশ্চিম দিকে এগোবে। অর্থাৎ, তার প্রভাব সরাসরি রাজ্যের পশ্চিমের জেলা এবং ঝাড়খণ্ডে পড়বে। ফলে ঝাড়খণ্ডেও ব্যাপক বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন ‘আর এ রকম টুইট করলে…’ জোম্যাটোর অর্ডার বাতিল করা ব্যক্তিকে চরম সতর্কতা পুলিশের

রবিবার থেকে পরবর্তী তিন দিন নিম্নচাপের প্রভাব রাজ্যে পড়তে পারে। ঝাড়খণ্ডে প্রবল বৃষ্টি হলে সুখা দক্ষিণবঙ্গের জন্য তা অত্যন্ত খুশির বার্তা নিয়ে আসবে। কারণ তা হলে দামোদর অববাহিকার সব নদীতেই জলের স্তর ক্রমশ বাড়বে। বৃষ্টির প্রভাবে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম এবং ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অল্প সময়ের হড়পা বানেরও আশঙ্কা থেকে হচ্ছে।

তবে কলকাতার জন্য বিশেষ দুঃখের কোনো কারণ নেই। এই নিম্নচাপের প্রভাবে যথেষ্ট বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা এই শহরেও। সম্ভবত এই মরশুমে প্রথম বার প্রবল বৃষ্টির মুখোমুখি হতে পারে শহর। জলমগ্ন হতে পারে শহরের একাধিক অঞ্চল। পাশাপাশি উপকূলবর্তী অঞ্চলের জন্য প্রবল হাওয়া এবং জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা জারি করা হচ্ছে। শনিবারের পর মৎস্যজীবীরা যাতে সমুদ্রে না যান, সেই ব্যাপারেও আবেদন করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here