lakhmi idol
জলপাইগুড়িতে ছোটো লক্ষ্মীপ্রতিমার অস্থায়ী দোকান। নিজস্ব চিত্র।

রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়, জলপাইগুড়ি: ওঁরা প্রায় সকলেই ছোটো প্রতিমা তৈরির কারিগর। লক্ষ্মীপুজো, সরস্বতীপুজো এবং মনসাপুজোয় নিজেদের বাড়িতে ছোটো প্রতিমা তৈরি করে পাইকারি এবং খুচরো বিক্রি করেন। কেউ আবার কৃষ্ণনগর থেকে ছোটো ট্রাকে করে প্রচুর ছোটো প্রতিমা নিয়ে আসেন। এটা ওঁদের বাড়তি রোজগার। বছরের বাকি সময়ে ওঁরা অন্য কাজ করেন। জলপাইগুড়িতে সাময়িক ভাবে রাস্তার ধারে ওঁরা ছোটো ছোটো মূর্তি সাজিয়ে বসেন। ওদের বিক্রীত প্রতিমা ঘরে ঘরে পুজিত হয়।

জলপাইগুড়ি শহরের দিনবাজার এলাকায় পিতাপুত্র রতন পাল এবং সঞ্জীব পাল রাস্তার ধারে আলাদা ভাবে ছোটো প্রতিমা সাজিয়ে বসেছিলেন। ওঁরা ময়নাগুড়ি রোডের বাসিন্দা, কাপ-প্লেটের ব্যবসা। উত্তরবঙ্গে সারা বছর যত মেলা হয় সেই সব মেলায় কাপ-প্লেটের দোকান দেন ওঁরা। বিশ্বকর্মাপুজোর পর ওঁদের ব্যস্ততা বাড়ে। সেই সময় থেকে ওঁরা ছোটো লক্ষ্মীপ্রতিমা তৈরি করা শুরু করেন। শিলিগুড়ি থেকে কালো মাটি এনে মূর্তি তৈরি করেন। রতন পাল বলেন, “এ বছর ৬০০ মূর্তি বানিয়েছি। তার মধ্যে ৪০০ মূর্তি পাইকারি বিক্রি করেছি। বাকি ২০০ মূর্তি এখানে খুচরো বিক্রি করছি।”

বেরুবাড়ির পালপাড়ার বাসিন্দা রামকৃষ্ণ পাল দুর্গাপুজো, কালীপুজো এবং অন্যান্য পুজোয় বড়ো মূর্তি বানিয়ে থাকেন। ছোটো লক্ষ্মীপ্রতিমা বানান না। প্রতি বার লক্ষ্মীপুজোর আগে কৃষ্ণনগর থেকে ছোটো ট্রাকে করে ছোটো ছোটো লক্ষ্মীমূর্তি নিয়ে আসেন। তার পর বেশির ভাগটাই পাইকারি রেটে বিক্রি করে দেন। অল্প কিছু নিজে দিনবাজারে এনে বিক্রি করেন। রামকৃষ্ণ পাল বলেন, “এ বার কৃষ্ণনগর থেকে ৯০০ ছোটো মূর্তি এনেছিলাম। তার মধ্যে ৭০০ মূর্তি পাইকারি বিক্রি করেছি। ২০০ মূর্তি এখানে খুচরো বিক্রি করছি।”

আরও পড়ুন লক্ষ্য বাড়তি উপার্জন, লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষে জলপাইগুড়িতে পসরা সাজিয়েছেন অস্থায়ী ব্যবসায়ীরা

ময়নাগুড়ি রোডের বাসিন্দা মহাদেব পাল সারা বছর ফুলের টব বানিয়ে বিক্রি করেন। অন্যান্য কাজও করেন। লক্ষ্মীপুজোর সময় ছোটো মূর্তি এবং লক্ষ্মীর পট বানিয়ে বিক্রি করেন। এ বারও তিনি ২০০ ছোটো লক্ষ্মীর মূর্তি এবং ১০০ পট বানিয়ে এনে বিক্রি করছেন।

জলপাইগুড়ির বিবেকানন্দ পল্লির বাসিন্দা মিনু বিশ্বাসের স্বামী অসুস্থ। কোনো কাজ করতে পারেন না। মিনুদেবীর বিবেকানন্দ পল্লিতে একটি চাউমিন এবং মোমোর দোকান আছে। সেই আয় থেকে সংসার চলে। লক্ষ্মীপুজোর আগে দু’দিন সেই দোকান বন্ধ থাকে। এই সময় মিনুদেবী ময়নাগুড়ি রোড থেকে লক্ষ্মীর প্রতিমা পাইকারি দামে কিনে নিয়ে এসে দিনবাজারে বিক্রি করেন। মঙ্গলবার তিনি ২০০টি ছোটো প্রতিমা এনে দোকান দিয়েছিলেন। বুধবার সকালে দেখা গেল সাকুল্যে ৩৬টি প্রতিমা আছে। মিনুদেবী বলেন, “দুপুরের মধ্যে সমস্ত প্রতিমা বিক্রি হয়ে যাবে।”

জলপাইগুড়ির শান্তিপাড়ার বাসিন্দা ইন্দ্র শর্মা তাঁর ভাইয়ের দুই ছেলেকে নিয়ে এসে এ দিন দিনবাজারে ছোটো লক্ষ্মীপ্রতিমা বিক্রি করছিলেন। তিনি গর্বের সঙ্গে জানালেন যে আদতে তাঁরা সুত্রধর শর্মা। কাঠের কাজই তাদের পেশা। তিনি বলেন, “এই সময় হাতে বিশেষ কাজ থাকে না। মোহিতনগর থেকে ছোটো মূর্তি এবং পট কিনে নিয়ে এসে বিক্রি করি। কিছু রোজগার হয়।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here