কালাঝরিয়ার শবর পরিবার

সমীর মাহাত, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রামে লোধা-শবরের অকাল মৃত্যু অব্যাহত। গত ৫ নভেম্বর ফের কালাঝরিয়া গ্রামে এক শবরের অকাল মৃত্যু ঘটেছে। মৃতের নাম কচি মল্লিক (৪৮)। প্রতিবেশীদের কথায়, বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) তাঁর পারলৌকিক কাজ, তাই তাঁর পরিবারের সদস্যরা শ্রাদ্ধের জন্য মাগনে বেরিয়েছেন। এ দিকে অকালমৃত্যু-সহ লোধাদের সমস্যা সমাধানের চিরস্থায়ী উপায়, লোধা উন্নয়ন সেলকে কার্যকরী করা বলে দাবি লোধা শবর কল্যাণ সমিতির।

উল্লেখ্য, তথ্যমতে, ১৯৮০ সালে ঝাড়গ্রামের নয়াগ্রাম ব্লকের পাতিনা এলাকায় ১৮ জন লোধাকে হত্যা করা হয়। পরিস্থিতিতে, ১৯৮৩ সালে বাম সরকার গঠন করে লোধা উন্নয়ন সেল। এই সেলের মাধ্যমে লোধাদের হোস্টেল, কমিউনিটি হল, আশ্রম, চাষের জমি, অগভীর নলকূপ, ঘর সবই নির্মাণ করা হয়। ১৯৮৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এই সেল কাজ করে যায়। কেন্দ্রীয় সরকার পিপিজি স্পেশাল ফান্ডের জন্য পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় সে সময় ৩৭ কোটি ১৩ লক্ষ ৯ হাজার টাকা বরাদ্দ করে। লোধা উন্নয়নের জন্য জেলা পরিষদ থেকে পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সরকার বদলের পর, ঝাড়গ্রামে ২০১১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর লোধা সেলের উদ্বোধন করেন, তৎকালীন দুই মন্ত্রী উপেন বিশ্বাস ও সুকুমার হাঁসদা। তবে এই সেলের কার্যকারিতা এ যাবৎ লক্ষ করা যায়নি বলেই এলাকাবাসীর অভিযোগ।

এমনই অবস্থা শবর শিশুদের জন্য স্কুলের

এ ব্যাপারে লোধা কল্যাণ সমিতির জেলা সম্পাদক বলাই নায়েক বলেন, ” উদ্বোধনই হয়েছে, আজ পর্যন্ত তা চালু হয়নি। এই নিয়ে আমরা ডেপুটেশন, পথসভা, স্মারক জমা সবই করেছি। কিছুই হয়নি। খেয়াল করুন আমলাশোলের লোধা মৃত্যুর আগেই ২০০৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ ঘোষণায় পিপিজি ও উপজাতিদের অন্ত্যোদয়ে চাল ও অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। তা সত্ত্বেও আমলাশোলের ঘটনা ঘটল। সমাজের মুল স্রোতে শবরদের নিয়ে আসার জন্য কেন্দ্র আর্থিক সাহায্য দিচ্ছে, রাজ্য সরকারগুলিকেও সহানুভুতির সঙ্গে তৎপরতা দেখাতে হবে। সাময়িক পরিত্রাণ দিয়ে, এই সমস্যার সমাধান হবে না।

এ নিয়ে বিধায়ক সুকুমার হাঁসদা বলেন, “সে সময় লোধা উন্নয়ন সেল উদ্বোধন হয়েছিল, কী অবস্থান আছে, খোঁজ নিয়ে দেখব। তবে সমস্যার উপর আমরা নজর রেখেছি”।

কালাঝরিয়া এলাকার উপপ্রধান মহাশিস মাহাতো বলেন, “জেলার সব চেয়ে বড়ো শবরদের গ্রাম এটি, পড়ার স্কুলটিই ভাঙা-চোরা। গ্রামে গিয়ে মৃত লোধার খোঁজ নিয়েছি”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here