prasanta kishor and mamata
প্রশান্তকে নিয়োগ করেছেন মমতা। ছবি: বিজনেস টু-ডে থেকে

ওয়েবডেস্ক: “রাজনীতিতে আসা কি আপনার লক্ষ্য? তা হলে আজই শুরু করুন, প্রশান্ত কিশোরের পথপ্রদর্শনে”…, ফেসবুকে ‘ইয়ুথ ইন পলিটিক্স’-এর এই বিজ্ঞাপন চলছে জোরকদমে। কম-বেশি শেয়ার হলেও ফেসবুকে ‘স্পনসর’ করা এই পোস্ট অনায়াসেই ঢুকে পড়ছে যাঁর-তাঁর ‘ঘরে’। ‘লাইক’ পড়ছে, ‘হা হা’ পড়ছে, পড়ছে ‘হার্ট’-ও। কিন্তু ‘কমেন্ট’-এ সমালোচনার বহরই বেশি!

জনৈক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, “আমার মতে, সকল বাংলার মানুষের প্রশান্ত কিশোর এর বিজ্ঞাপন ফেসবুকে দেখলেই রিপোর্ট করা উচিত। দেখি ৫০০ কোটি জেতে না বাংলার মানুষ জেতে”।

কেউ আবার এমনও মন্তব্য করেছেন, “এনার জন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক। কারণ ইনি টাকার লোভে দেশের ভবিষ্যৎ, মানুষের সিদ্ধান্ত, মানুষের মন নিয়ে খেলা করছেন”।

পাল্টা দেওয়ার জন্যও প্রস্তুতির অভাব নেই। জনৈক ব্যক্তির মন্তব্য, “তা হলে তো মোদির সরকার পড়ে যাবে তো। কারণ সবার আগে মোদির থেকেই শুরু করেছেন ইনি”।

সরাসরি দিদি-কে নিশানা করে এমন মন্তব্যও উঠে এসেছে, “আরে দিদি তোমার প্রশান্ত কি আমার কাছে দু’দিন পাঠিয়ে দাও আমি ওকে দু’দিন ট্রেনিং দিয়ে দেব…”।

অর্থাৎ, পাকেচক্রে তাঁদের নাম ওই পোস্টে না-করা হলেও চলে আসছে মোদি বনাম দিদি। প্রসঙ্গত, বেশ কয়েক দিন ধরেই সংবাদের শিরোনামে ফের উঠে এসেছেন রাজনৈতিক কৌশলী প্রশান্ত কিশোর। জানা যায়, গত লোকসভা ভোটে দলের আশানুরূপ ফল না-হওয়ায় ২০২১-এর বিধানসভা ভোটের লক্ষ্যে তাঁর সঙ্গে চুক্তি করেছে রাজ্যের শাসক দল। সেই চুক্তি শর্তাবলি নিয়ে বিশদ কিছু জানা না-গেলেও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে তিনি যে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মূল্যবান পরামর্শ দিচ্ছেন, সেটাও সংবাদ মাধ্যম মারফত জানা যাচ্ছে।

কয়েক দিন আগেই বিজেপি নেতা মুকুল রায় চাউর করে দেন, প্রশান্ত কিশোর চারশো-পাঁচশো কোটি টাকা নিচ্ছেন। একই ভাবে বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তও সম পরিমাণ ফি-এর কথা উল্লেখ করেন।

কটাক্ষ করতে ছাড়েননি সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীও। তাঁর বক্তব্য, ‘‘প্রশান্ত কিশোর জেডিইউ-এর নেতা, যে জেডিইউ বিজেপির জোটসঙ্গী। তার মানে মুখ্যমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী, বিজেপির সেই জোটসঙ্গী প্রশান্তর এখন সামাজিক দায়িত্ব তৃণমূলকে জেতানো!’’

এমন দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়ে স্বয়ং মমতা বলেছিলেন, “পেশাদাররা অনেক সময় সামাজিক দায়বদ্ধতার জন্য কাজ করেন। তাকে বলে কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর)”। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, টাকার জন্য নয়, ভালোবেসে তৃণমূলের জন্য কাজ করছেন প্রশান্ত।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here