demonstration by nagarik manche
নাগরিক মঞ্চের স্মারকলিপি প্রদান। নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ি স্টেশনে আসন সংরক্ষণের একটি কাউন্টার মঙ্গলবার থেকে বন্ধ হয়ে গেল। এই বন্ধের প্রতিবাদে মঙ্গলবার আলাদা আলাদা ভাবে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখায় জলপাইগুড়ি নাগরিক মঞ্চ এবং অন্যান্য সংগঠন।

উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের সহকারী কমার্শিয়াল ম্যানেজারের এক নির্দেশে জলপাইগুড়ি ছাড়াও নিউ জলপাইগুড়ি, আলুয়াবাড়ি রোড, শিলিগুড়ির সিটি বুকিং অফিসের আসন সংরক্ষণের একটি করে জানলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জলপাইগুড়ি স্টেশনের দু’টি জানলার একটি, নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের তিনটি জানলার একটি, আলুয়াবাড়ি রোড স্টেশনে দু’টি জানলার একটি এবং শিলিগুড়ির সিটি বুকিং অফিসের তিনটি জানলার মধ্যে একটি জানলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন জলপাইগুড়ি-শিলিগুড়ির চার স্টেশনে একটি করে সংরক্ষণ কাউন্টার বন্ধ করে দিল রেল

এ দিন প্রথমে আসে জলপাইগুড়ি নাগরিক মঞ্চ। তারা বিক্ষোভ দেখায় এবং ভারপ্রাপ্ত স্টেশন ম্যানেজারের কাছে স্মারকলিপি দেয়। স্মারকলিপিতে তারা জানায়, জলপাইগুড়ি রেল স্টেশন জেলাশহর এবং বিভাগীয় সদরের মধ্যে অবস্থিত। যখন সব দিক থেকে পরিষেবা বাড়ানো দরকার তখনই যে সুবিধাটি যাত্রীরা পাচ্ছিলেন তা তুলে নেওয়া হল। যার ফলে এক বিরাট সংখ্যক বাসিন্দা অসুবিধায় পড়বেন। তৎকাল পরিষেবা, গ্রুপ রিজার্ভেশন ইত্যাদি সব দিক থেকে বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

নাগরিক মঞ্চের আহ্বায়ক গোবিন্দ রায় বলেন, “যদি রেল দফতর তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আসন সংরক্ষণের দু’টি জানলাই খোলা রাখার ব্যবস্থা করে তা হলে আমরা খুশি হব। অন্যথায় আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হব।”

sfi's memorandum
এসএফআইয়ের স্মারকলিপি প্রদান। নিজস্ব চিত্র।

এ দিনের বিক্ষোভে নাগরিক মঞ্চের সদস্য বয়স্ক নাগরিক থেকে শুরু করে মহিলারাও শামিল হন। মহিলাদের মধ্যে তৃপ্তি মল্লিক, কৃষ্ণা রায় বলেন, “দু’টি কাউন্টার থাকলে আমরা সহজে টিকিট কাটতে পারি। একটি কাউন্টারে ভিড় হবে। আমরা  অসুবিধায় পড়ব। আমরা চাই আবিলম্বে দু’টি কাউন্টার চালু করা হোক।”

জলপাইগুড়ি স্টেশনে আগে দু’টি কাউন্টার ছাড়াও বয়স্ক এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য পৃথক কাউন্টার ছিল। এই কাউন্টারটি আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জলপাইগুড়ি নাগরিক মঞ্চের প্রবীণ সদস্য গবেষক উমেশ শর্মা বলেন, “জলপাইগুড়ি একটি ঐতিহ্যশালী প্রাচীন স্টেশন। এখানে পরিষেবা বাড়িয়ে তোলা উচিত। তার বদলে পরিষেবা তুলে নেওয়া হচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

জলপাইগুড়ি ট্যুর আপারেটর ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে সোমবার স্টেশন ম্যানেজারের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। মঙ্গলবার জলপাইগুড়ির এসএফআই এবং গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশনের পক্ষ থেকেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

স্টেশন ম্যানেজার পঙ্কজ শীল বলেন, “ওদের স্মারকলিপিগুলি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।”

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here