ছেলের কেরিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। ভুগছিলেন তীব্র মানসিক অবসাদে। তার জেরেই স্ত্রী ও ছেলেকে কুপিয়ে আত্মঘাতী হলেন সোদপুরের নীলগঞ্জ রোডের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায় (৬০)। তীব্র অবসাদ থেকেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান।

নানা ধরনের চাকরির পরীক্ষা দিয়েও সাফল্য পাচ্ছিল না বিপ্লববাবুর ছেলে সুমন (৩৫)। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউটে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষায় পাশ করতে ব্যর্থ হন। এই ব্যর্থতা মেনে নিতে পারেনি বিপ্লববাবু। তাছাড়া ছেলের পড়াশোনা এবং সংসার চালাতে গিয়ে বেশ কিছু টাকা ধারও হয়ে যায়। পাওনা দারেরা নিয়মিত তাগাদা দিচ্ছিল। এই কারণে তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তন্দ্রা বন্দ্যোপাধ্যায়
তন্দ্রা বন্দ্যোপাধ্যায়

বিপ্লববাবু নীলগঞ্জ রোডের যমুনা আবাসনে তিন তলার ফ্ল্যাটে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে থাকতেন। পুলিশের কাছে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ভোর পৌনে পাঁচটা নাগাদ ওই ফ্ল্যাট থেকে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার শুনতে পান। সেখানে গিয়ে দেখেন কোলাপসিবল গেটে তালা দেওয়া। মূল দরজায় ধাক্কা দিতেই তা খুলে যায়। ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় সুমনকে পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। এর পর প্রতিবেশীরা পুলিশ খবর দেন। পুলিশ এসে গেট ভেঙে বিপ্লববাবুর স্ত্রী তন্দ্রাদেবীকে (৫৬) ও ছেলে সুমনকে উদ্ধার পাশের একটি ঘর থেকে বিল্পব বাবুর দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ তন্দ্রাদেবী ও সুমনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেছে। বিপ্লবাবুর ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট ও ডায়েরি উদ্ধার করেছে পুলিশ। সুইসাইড নোটে এই আত্মহত্যার জন্য কাউকেই দায়ী করেননি বিপ্লববাবু। 

sodepur-death2
সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়

পরে কিছুটা সুস্থ হলে তন্দ্রাদেবী জানান, ছেলের আইএসআই-এর পরীক্ষার ফল জানার পর থেকেই বিপ্লববাবু হতাশায় ভুগছিলেন। ছেলে সুমন জানায়, পরিকল্পনা করেই তাঁরা আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে ঠিক হয় মাকে মারা হবে তারপর ছেলেকে মেরে আত্মহত্যা করবেন বিপ্লববাবু। একটি ছুরি ও ব্লেড দিয়ে আঘাত করা হয় বলে তিনি জানিয়েছেন।

 

বাগুইআটিতে বাবা-মা-মেয়ে খুন

সোমবার সকালে বাগুইআটির অর্জুনপুরে একই পরিবারে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। মৃতদের নাম জ্ঞানেন্দ্র নাথ মিত্র, বিমলা মিত্র ও সোমা মিত্র। পুলিশ সূত্রের খবর, তিনজনের শরীরে ভারি কিছু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ প্রতিবেশী সহ ৬জনকে আটক করেছে। মৃতদেহগুলি ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। নির্মাণ নিয়ে বিবাদের জেরেই খুন কিনা তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে যায় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন