rain in west bengal

ওয়েবডেস্ক: এ বারের বর্ষার চরিত্র বড়োই খামখেয়ালি। বৃষ্টি হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সেটা সমান ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে না। ফলে রাজ্যের এক প্রান্ত যখন প্রবল বৃষ্টিতে ভাসছে, ঠিক তখনই শুখা যাচ্ছে রাজ্যের অন্য প্রান্ত।

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের জেরে গত কয়েক দিনে মোটের ওপরে ভালোই বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গে। কিন্তু সেই বৃষ্টি ছিল মূল উপকূলবর্তী অঞ্চলকেন্দ্রিক। নিম্নচাপের প্রভাবে সব থেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে রবিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত। শহর কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে ৮০ মিমি। অন্য দিকে ডায়মন্ড হারবারে বৃষ্টি হয়েছে ১৭০ মিমি। উল্লেখ্য, এ বছর দক্ষিণবঙ্গে সব থেকে বেশি বৃষ্টি ডায়মন্ড হারবারই রেকর্ড করেছে। তবে রবিবার রাতের বৃষ্টির দাপট মূলত কলকাতা, হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগণা এবং নদিয়ার ওপরে বেশি ছিল।

গত কয়েক দিনের বৃষ্টির প্রভাবে রাজ্যের অনেকাংশেই ঘাটতি কিছুটা কমেছে। আবার পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে অনেক জায়গায় ঘাটতি বেড়েও গেছে।

monsoon in wb

এই বর্ষায় শুরু থেকেই বৃষ্টি বাড়তি কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণায়। রবিবারে রাতের বৃষ্টির পরে সেটা আরও বেড়েছে। কলকাতায় বৃষ্টি এখন বাড়তি ১৬ শতাংশ আর দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ৮ শতাংশ। অন্য দিকে বৃষ্টির ঘাটতি অনেকটাই কমিয়েছে উত্তর ২৪ পরগণা (৯ শতাংশ ঘাটতি), পূর্ব মেদিনীপুর (৮ শতাংশ ঘাটতি), পশ্চিম মেদিনীপুর (১৭ শতাংশ ঘাটতি), বাঁকুড়া (৬ শতাংশ ঘাটতি), পুরুলিয়া (১৫ শতাংশ ঘাটতি), হাওড়া (২৭ শতাংশ ঘাটতি), হুগলি (৩১ শতাংশ ঘাটতি), দুই বর্ধমান (২৭ শতাংশ ঘাটতি) এবং নদিয়া (৩২ শতাংশ ঘাটতি)।

তবে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, মালদা, দুই দিনাজপুরের অবস্থা সব থেকে খারাপ। দক্ষিণ দিনাজপুরে বৃষ্টির ঘাটতি ছাড়িয়েছে ৬৬ শতাংশ, মুর্শিদাবাদে স্বাভাবিকের থেকে ৬১ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। বীরভূমে ৪৮ শতাংশ, মালদায় ৫৬ শতাংশ এবং উত্তর দিনাজপুরে ৫৯ শতাংশ ঘাটতি চলছে।

গত কয়েক দিনের তীব্র দহনের ফলে উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির ঘাটতি ক্রমশ মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে। দার্জিলিং-এ এখন বর্ষার ঘাটতি ছুঁয়েছে ৩৩ শতাংশ, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে তা ৯ শতাংশ। তবে সব থেকে খারাপ অবস্থা এখন কোচবিহারে। সেখানে বৃষ্টির ঘাটতি ৫৪ শতাংশ।

এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে পারে একমাত্র ভারী বৃষ্টি। উত্তরবঙ্গের জন্য অবশ্য আগামী ৪৮ ঘণ্টায় কিছুটা খুশির খবর শুনিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সব জেলাতেই ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে বুধবার থেকে ভারী বৃষ্টির কোনো পূর্বাভাস নেই, বিক্ষিপ্ত বর্ষণেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে উত্তরবঙ্গের মানুষকে।

অন্য দিকে দক্ষিণবঙ্গে আগামী কয়েক দিনের পূর্বাভাস যা তাতে বিশেষ হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। এই নিম্নচাপটি দূরে সরে যাওয়ার ফলে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমতে পারে। আগামী কয়েক দিন বিক্ষিপ্ত ভাবেই বৃষ্টি চলতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে এই সপ্তাহের শেষে ফের নতুন একটি নিম্নচাপের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। তেমন হলে ফের এক দফা ভারী বর্ষণের আশা করা যেতেই পারে।

ছবি সৌজন্য: আলিপুর আবহাওয়া দফতর

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here