Bharati Ghosh and Mamata Banerjee

ওয়েবডেস্ক: পঞ্চায়েত ভোটের ফলাফল নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে জোরকদমে। শাসকদলের কাছে সব থেকে বড়ো মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জঙ্গল মহলের দুই জেলা – পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রামের অশনি সংকেত। এই দুই জেলাতেই তৃণমূলের একাধিপত্য খর্ব হয়েছে। এবং প্রতিটি জেলাতেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে উঠে এসেছে বিজেপির নাম। স্বাভাবিক ভাবে দলীয় নেতৃত্ব খুঁজছেন কারণ। আবার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও করছেন চুল চেরা বিশ্লেষণ। সেখান থেকেই উঠে আসছে পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষের নাম। কিন্তু কেন?

পঞ্চায়েত ভোটের ফল প্রকাশের পর ইতিমধ্যেই পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সুব্রত বকসি। এ বার ঝাড়গ্রামে গিয়ে দলের খারাপ ফলের পর্যালোচনা করবেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সম্ভবত আগামী ২৯ মে তিনি ঝাড়গ্রাম যাচ্ছেন। এই দুই জেলার তৃণমূল নেতৃত্ব বিজেপির অচমকা উত্থানের নেপথ্যে যেমন উন্নয়নগত অভাবকে দায়ী করেছেন, তেমনই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বিশ্লেষণে উঠে আসছে প্রাক্তন পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষের নাম।

গোপীবল্লভপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সন্তোষ রানা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, কুড়মি(মাহাতো) সম্প্রদায়ের মানুষের বিভিন্ন দাবি-দাওয়াকে কেন্দ্র করে যেমন একশ্রেণির মানুষ শাসকদলের থেকে মুখ ফিরিয়েছেন, তেমনই এলাকার প্রাক্তন পুলিশকর্ত্রীর অনুপস্থিতিও এর জন্য একটি অন্যতম কারণ।

তাঁর মতে, প্রাক্তন পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ দায়িত্বে থাকাকালীন তৃণমূলের জেলা সভাপতির থেকে দ্বিগুণ ক্ষমতা ধরতেন। বিরোধী দলের কর্মী-সহ সাধারণ মানুষকে আটক করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি শাসক দলের হয়ে কাজ করতেন। তাঁর চলে যাওয়া একটা বড়ো শূন্যতার সৃষ্টি করেছে শাসক দলের কাছে। যা বর্তমান তৃণমূল নেতারা পূরণ করতে ব্যর্থ।

আরও পড়ুন: ঝাড়গ্রাম ব্লকের এই অঞ্চলে এ বার তৃণমূল শূন্য হয়ে গেল!

এমনটা হতে পারে সন্তোষবাবুর এই মত নিতান্তই তাঁর ব্যক্তিগত। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীকে ‘জঙ্গল মহলের মা’ বিশেষণে ভূষিত করা ভারতী ঘোষের আকস্মিক অন্তর্ধান এবং তাঁর বিজেপি-যোগের খবর যে কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলেছে তৃণমূলের ফলাফলে, তা মানছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশও।

এখন দেখার, মন্ত্রী গিয়ে হতাশ কর্মীদের কী ভাবে উজ্জ্বীবিত করেন!

(ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত চিত্র)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here