30 C
Kolkata
Friday, June 18, 2021

দিব্যেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ জেলা তৃণমূলের

আরও পড়ুন

খবর অনলাইন ডেস্ক: বিধানসভা ভোটের আগেই আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূল ছেড়েছিলেন নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক এবং বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তার পর ছোটো ভাই সৌম্যেন্দু এবং বাবা শিশির অধিকারীও সঙ্গী হয়েছেন শুভেন্দুর । তবে তাঁর সেজভাই, তমলুকের সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী (Dibyendu Adhikari) এখনও বিজেপিতে যোগ দেননি। এ বার তাঁর বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নিতে রাজ্য কমিটিকে সুপারিশ করলেন দলের জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।

জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, বিধানসভা ভোটের সময় প্রায় ‘নিষ্ক্রিয়’ ছিলেন তমলুকের তৃণমূল সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী। ভোট মিটতেই দিন তিনেক আগে তাঁর ব্যাপারে রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্বকে রিপোর্ট দিয়েছিল দলের জেলা কমিটি। সোমবার শুভেন্দুকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করে বিজেপি। তার পরেই দিব্যেন্দুর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে রাজ্য কমিটিকে সুপারিশ করল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কমিটি।

Loading videos...
- Advertisement -

শুভেন্দুর দলবদল পর্ব থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে দিব্য়েন্দুরও দূরত্ব ধরা পড়ে। শুভেন্দুকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের সংঘাত কার্যত ‘অধিকারী পরিবারে’র বিরুদ্ধে পর্যবসিত হয়। যদিও পুরো ঘটনা নিয়ে দিব্যেন্দুকে সে ভাবে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে দেখা যায়নি। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে দলের হয়ে কোনো প্রচারেও দেখা যায়নি তাঁকে। স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর এই নিষ্ক্রিয়তা অনেক প্রশ্নেরই জন্ম দিয়েছে। তার পরেই জেলা নেতৃত্বের এই পদক্ষেপ। যা নিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সভাপতি সৌমেন মহাপাত্র আনন্দবাজার অনলাইনের কাছে বলেছেন, “আমরা আমাদের সুপারিশ রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। এ বার তাঁরা যা সিদ্ধান্ত নেবেন, তাই চূড়ান্ত হবে”।

একেবারেই কি ‘নিষ্ক্রিয়’ ছিলেন দিব্যেন্দু?

দলের কাজে দিব্যেন্দু যদি নিষ্ক্রিয় থেকেও থাকেন, তাঁর বেশ কিছু পদক্ষেপে আবার সক্রিয়তার নমুনাও মিলেছে। বিধানসভা ভোট চলাকালীন করোনা মোকাবিলায় হস্তক্ষেপ চেয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে চিঠি লিখেছিলেন দিব্যেন্দু। এমনিতে রাজ্যপালের কাছে এ ধরনের আর্জি জানানোয় কোনো বাধা নেই ঠিকই, কিন্তু দলে থেকেও দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর বদলে রাজ্যপালের কাছে এই আর্জি জানানোয় জল্পনা ছড়িয়েছিল।

আবার গত এপ্রিলের শুরুতেই নন্দীগ্রামের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হতে পারে, এই আশঙ্কা করে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসককে চিঠি দিয়েছিলেন দিব্যেন্দু। জেলাশাসককে উপযুক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি।

কী ব্যবস্থা নিতে পারে তৃণমূল?

তমলুকের তৃণমূল সাংসদ দিব্যেন্দু সাংসদপদে মেয়াদ শেষ হতে এখনও তিন বছর বাকি। এমন অবস্থায় তাঁকে যদি দলের তরফে বহিষ্কার করা হয়, তা হলে বাকি সময় তিনি সহজেই সাংসদ থেকে যেতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে সাংসদপদ ধরে রাখলেও তিনি তৃণমূলের কোনো হুইপ মানতে বাধ্য থাকবেন না। স্বাভাবিক ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নিতে হলে আগুপিছু ভাবতে হবে তৃণমূল নেতৃত্বকে।

অন্যদিকে, ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে ২২টি আসনে জিতলেও তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা এখন অঙ্কের হিসেবে ২০-তে নেমে এসেছে। বর্ধমান পূর্বের সাংসদ সুনীল মণ্ডল আনুষ্ঠানিক ভাবে নাম লিখিয়েছেন গেরুয়া শিবিরে। আবার কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারীও বিজেপির ভোটপ্রচারের সভায় অংশ নিয়েছিলেন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তৃণমূলের সাংসদ তালিকা থেকে দিব্য়েন্দুর নাম কেটে দিলে, সংখ্যাটা ২০-এর নীচে নেমে যাবে। পাশাপাশি ২০১৯-এ ১৮ আসনে জেতা বিজেপি সাংসদ সংখ্যার দিক থেকে টপকে যেতে পারে তৃণমূলকে!

আরও পড়তে পারেন: বিধায়ক পদ ছাড়ছেন রাজ্যের দুই বিজেপি নেতা

- Advertisement -

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

- Advertisement -

আপডেট

হাইকোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর জয়কে চ্যালেঞ্জ, আজ বেলা ১১টায় শুনানি

তাঁর পুনর্গণনার দাবি নির্বাচন কমিশন খারিজ করে দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পড়তে পারেন