fashion show at bardhaman
রিন্টু ব্রহ্ম

এক সময় দেশের স্বাধীনতা ও স্বরাজের জন্য খাদিকে অস্ত্র করেছিলেন স্বয়ং গান্ধীজি। দেশীয় তাঁতে বোনা খাদি কাপড়কে জনপ্রিয় করার জন্য মাঠে নেমেছিলেন। লক্ষ্য ছিল বিদেশি কাপড় বর্জন এবং ঘরে ঘরে দেশীয় খাদি কাপড়ের প্রবর্তন। তবে বিদেশি টেরিকট আর মিক্সড্‌ নাইলনের প্রভাবে দেশি কাপড়ের পোশাক হয়ে গিয়েছে ব্রাত্য। সেই খাদি পোশাকের গুণগত মানের কথা সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে অভিনব উদ্যোগ নিলেন বর্ধমান হাসপাতালের ডাক্তাররা।

সারা দিন যাঁরা সাধারণ মানুষের রোগব্যাধি সারাতে ব্যস্ত থাকেন, তাঁরাই ফ্যাশান শোয়ে পুরোপুরি দেশীয় খাদি পোশাক পরে র‍্যাম্প কাঁপালেন।  খাদির তৈরি পোশাক যে বিদেশি বা অন্য যে কোনো পোশাকের থেকে অনেক বেশি ফ্যাশনেবল তা হয়তো ডাক্তারদের এই ফ্যাশান শো না দেখলে বোঝা যেত না।

doctors and medical students on the ramp
ফ্যাশন শোয়ে ডাক্তার ও ডাক্তারি ছাত্ররা।

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ৫২ জন কর্মরত ডাক্তার ও ডাক্তার ছাত্র এ দিনের ফ্যাশানো শোয়ে অংশগ্রহণ করেন। শুধু খাদির তৈরি পোশাকেই বারো ধরনের আর্ট পরিবেশন করেন। ফ্যাশনেবল শাড়ি, কুর্তা গাউন, ছেলেদের বিভিন্ন ধরনের কুর্তা, পাঞ্জাবি, জামা ও বিভিন্ন ডিজাইনের খাদিবস্ত্র প্রদর্শিত হয় ওই ফ্যাশানো শোয়ে।

পশ্চিমবঙ্গ  খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদের সঙ্গে মিলিত উদ্যোগে এই শো করা হয় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের অডিটোরিয়ামে এই ফ্যাশান শোয়ের আয়োজন করা হয়।  ডাক্তারির ছাত্ররা ও ফ্যাশনপ্রিয় অনেক মানুষ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

fashion show at bardhaman medical collegeখাদি পরিষদের পূর্ব বর্ধমান জেলা আধিকারিক অনুপ দে জানান, “জেলার মধ্যে কলকাতার বাইরে এই বর্ধমানেই আমরা প্রথম এই রকম খাদি দ্রব্যের প্রচারে এত সুন্দর ফ্যাশানো শো আয়োজন করলাম।  আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য নতুন প্রজন্মের কাছে খাদি দ্রব্যের ফ্যাশনকে তুলে ধরা। এখানকার ডাক্তাররা আমাদের এর জন্য অনেক সহযোগিতা করেছেন। এর মাধ্যমে খাদির চাহিদা বাড়বে আর দেশীয় তাঁতিরা সহযোগিতা পাবে।”

এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র সৈয়দ নিজামউদ্দিন এবং ডাঃ শালিনী মাথুর বলেন, “আমরা নিজেদের পেশার বাইরে এসে কিছু করতে চাইছিলাম। তিন দিন রোজ হাসপাতালের ডিউটি করার পরেও আট ঘণ্টা করে প্রস্তুতি নিয়েছি। আমরা এই শোয়ের মাধ্যমে বার্তা দিতে চেয়েছি দেশীয় খাঁটি কাপড় খাদি মানুষ ব্যবহার করুক। আর এর মাধ্যমে বেঁচে থাকুনা আমাদের গ্রামীণ তাঁতিরা।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here