kalipuja akui
কালীপুজো চলছে আকুইয়ে।
indrani sen
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: অমাবস্যা নয় এখানে কালীর আরাধনা হয় ভরা পূর্ণিমায়। দোল উৎসব মানেই রাধাকৃষ্ণের ছবি সবার চোখে ভাসে। পূর্ণিমায় যেখানে রাধাকৃষ্ণের মিলন উৎসবে মেতে ওঠেন মানুষ, সেখানে একেবারে ব্যতিক্রমী দোলযাত্রা পালন করে বাঁকুড়ার ইন্দাসের আকুই গ্রাম। প্রায় পাঁচ দশক ধরে এই দোলকালী পুজোয় মেতে উঠছেন এই গ্রামের মানুষ।

কী ভাবে শুরু হল এই দোলের দিন কালী-আরাধনা?

দোলকালী পুজোর সেই ইতিহাসের সন্ধানে আমাদের ফিরে যেতে হবে চল্লিশ বছরেরও বেশি পিছনে। সেই সময় আকুই গ্রামের কিছু যুবক প্রতি অমাবস্যায় কালীপুজো করতেন। হঠাৎই তাঁদের মনে হয়েছিল দোলের দিন কালীপুজো করলে কেমন হয়। যেমন ভাবা তেমন কাজ। ভিন গ্রামের জনৈক পণ্ডিতের কাছে ‌যান তাঁরা। তিনি বিধান দিলেন, দোলপূর্ণিমাতেও কালী-আরাধনা সম্ভব, তবে অবশ্যই শাক্ত মতে কৃষ্ণকালী রূপে পূজিতা হবেন মা। আর বলিদান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

পুজো কমিটির সদস্য ডাঃ রবীন্দ্রনাথ দলুই বলেন, “আকুই গ্রামের যুবকদের উদ্যোগে চল্লিশ বছরেরও বেশি আগে দোলকালী পুজো শুরু হয়েছিল। আকুই হাই স্কুল সংলগ্ন মাঠে পাঁচ দিন ধরে চলে এই উৎসব। দোলের আগের দিন চাঁচর দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা এবং বাইরে থেকে আসা ভক্তদের প্রণামীতে এখানে কালীর স্থায়ী মন্দির তৈরি হয়েছে। প্রতি দিন পুজো হওয়ার পাশাপাশি অমাবস্যায় বিশেষ পুজো হয়।”

মেলা বসেছে কালীপুজো উপলক্ষে। সেই মেলায় স্থান পেয়েছেন অভিনন্দন বর্তমানও।

মন্দিরের প্রধান পুরোহিত কুমুদবন্ধু মুখোপাধ্যায় আকুই গ্রামের দোলকালী পুজোর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “মথুরায় কৃষ্ণকালী পূজিতা হন। পৌরাণিক গল্প মতে, দোলপূর্ণিমার দিন কৃষ্ণের উপাসনায় ব্যস্ত ছিলেন শ্রীরাধা। এই খবর কালীর উপাসক আয়ান ঘোষের কাছে পৌঁছোতেই তিনি ক্ষুদ্ধ হন। তখন তিনি শ্রীরাধার উপাসনাস্থলে হাজির হন। কিন্তু তিনি সেখানে দেখেন কৃষ্ণ কোথায়। শ্রীরাধা তো কালী আরাধনায় ব্যস্ত। শ্রীরাধাকে আয়ান ঘোষের ক্রোধ থেকে মুক্তি দিতেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং কৃষ্ণকালীর রুপ ধারণ করেন।”

আরও পড়ুন কালবৈশাখীর তাণ্ডব কলকাতায়, স্বস্তি ফিরলেও ভাঙল গাছ, বিপর্যস্ত রেল পরিষেবা

দোলকালী পুজো ঘিরে আকুই গ্রামে উৎসব চলে। রং খেলায় মেতে ওঠেন গ্রামের সব মানুষ। চার দিন গোটা গ্রাম মেতে ওঠে অন্য এক আনন্দে। ইন্দাসের সীমানা ছাড়িয়ে সোনামুখী, পাত্রসায়ের, বিষ্ণুপুর-সহ পার্শ্ববর্তী বর্ধমান জেলার মানুষও যোগ দেন ভিন্ন ধরনের এই দোল উৎসবে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই মেলাতেও এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আলোকসজ্জা সুসজ্জিত ব্যান্ড বাজনাও এখন জায়গা করে নিয়েছে এই উৎসবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here