নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : অবশেষে মজুরি সমস্যা মিটতে চলেছে জলপাইগুড়ি জেলার ৯৭টি চা-বাগানে। সূত্রের খবর, এ ছাড়াও দার্জিলিং ও আলিপুরদুয়ারের ১৭৬টি চা-বাগানেও চলতি সপ্তাহের মধ্যে মজুরি সমস্যা মিটে যাবে।

জলপাইগুড়ি সার্কিট হাউসে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলা একটি ম্যারাথন বৈঠকে সমস্যার সমাধানসূত্র মেলে। জলপাইগুড়ির জেলাশাসক মুক্তা আর্যর উপস্থিতিতে বাগানমালিক ও ব্যাঙ্কের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসেন। বৈঠকের শেষে জেলাশাসক মুক্তা আর্য আশ্বাস দিয়েছেন, শুক্রবারই ৯০% চা-বাগানের শ্রমিকরা মজুরি পেয়ে যাবেন। বৃহস্পতিবারই ডুয়ার্সের ২৫টি বাগান কর্তৃপক্ষ ব্যাঙ্কের থেকে মজুরির টাকা তুলতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক।

নোট ভোগান্তি চলছিলই। তার ওপর যোগ হয়েছিল শ্রমিক আন্দোলনের ভোগান্তি। নোট বাতিলের গেরোয় আটকে গত  এক মাস ধরে সাপ্তাহিক বা দ্বি-সাপ্তাহিক মজুরি পাচ্ছিলেন না চা-শ্রমিকেরা। ফলে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন শ্রমিকেরা। বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও বিক্ষোভ-আন্দোলন-অবরোধ চলেছে চা-বাগানগুলিতে। এ দিন সকাল থেকেই জলপাইগুড়ির বাগানগুলিতে বিক্ষোভ, গেট মিটিং শুরু হয়। ডেঙ্গুয়াঝার, রায়পুর, শিকারপুর, ভান্ডিগুড়ি-সহ ৬টি চা-বাগানে কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভে শামিল হন কয়েক হাজার শ্রমিক। বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে বকেয়া মজুরি মিটিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এর পরে শ্রমিকরা জলপাইগুড়ি রোড স্টেশন গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বসে পড়েন রেললাইনের ওপর, যদিও রেল সুরক্ষা বাহিনীর হস্তক্ষেপে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।

সেখানে থেকে মিছিল করে জলপাইগুড়ি গোশালা মোড়ে চলে আসেন শ্রমিকরা। শুরু হয় অসম-ভুটানগামী ৩১নং জাতীয় সড়ক অবরোধ। অবরোধে আটকে পড়ে কয়েকশো যানবাহন। স্বাভাবিক ভাবেই চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন সাধারণ মানুষ। প্রায় ৩ ঘণ্টা অবরোধ চলার পর দুপুর আড়াইটে নাগাদ অবরোধ ওঠে।

এর আগে মজুরি সমস্যা নিয়ে বেশ কয়েকটি বৈঠক হলেও জট কাটছিল না। এ দিকে জেলা জুড়ে শ্রমিক অসন্তোষও বৃদ্ধি পাচ্ছিল। সমস্যার গুরুত্ব বুঝে ফের বৃহস্পতিবার রাতে তড়িঘড়ি বাগানমালিকদের সংগঠন ও ব্যাঙ্কের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকে বসেন জেলাশাসক মুক্তা আর্য। বেরিয়ে আসে সমাধানসূত্র।

টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার উত্তরবঙ্গ শাখার সম্পাদক রাম অবতার শর্মা জানিয়েছেন, ব্যাঙ্কের সহযোগিতায় আগামী কালই তাঁরা জলপাইগুড়ির চা-বাগানগুলির শ্রমিকদের মজুরি মিটিয়ে দেবেন। দার্জিলিং ও আলিপুরদুয়ারের চা-বাগানগুলির সমস্যাও চলতি সপ্তাহের মধ্যে মিটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে ব্যাঙ্কগুলিও। কর্পোরেশন ব্যাঙ্কের জলপাইগুড়ি শাখার ম্যানেজার চন্দন সাহা জানিয়েছেন, তাঁরা বাগানগুলিকে সব রকম সাহায্য করতে প্রস্তুত। মজুরি পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই খুশির হাওয়া শ্রমিকদের মধ্যে। সন্তোষ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন চা-শ্রমিক সংগঠনগুলিও।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন