টাকা পেতে মোবাইলে ‘ফোন পে’ ডাউনলোড করার নির্দেশ…শেষমেশ গুলি করার হুমকি

0

কলকাতা: মোবাইল থেকে ‘ফোন পে’ (phonepe) অ্যাপ আন-ইনস্টল করে দিয়েছিলেন বছর আড়াই আগেই। মঙ্গলবার সকালে আচমকা সেই অ্যাপের নাম করেই মানি ট্রান্সফারের (Money transfer) সুবর্ণসুযোগ দিয়ে এল ফোন। আর কথার পর কথা গড়ালে ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে ‘গুলি করা’র হুমকি পেলেন দমদমের এক বাসিন্দা।

দমদমের বাসিন্দা অমৃতা সিনহার মোবাইলে এ দিন সকাল ১১টা নাগাদ একটি ফোন আসে। সেখান থেকে বলা হয়, “তাঁর (অমৃতার) ফোন পে অ্যাকাউন্টে ৪,২০০ টাকা পড়ে রয়েছে। তিনি কেন সেই টাকা ট্রান্সফার করছেন না”? ফোনের অপরপ্রান্তে থাকা ব্যক্তির কাছে অমৃতার নাম আগে থেকেই জানা ছিল।

ফোনটি পেয়ে প্রথম অবাক হন অমৃতা। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি অতীত ঘটনা খুলে জানান। বলেন, “ফোন পে ডাউনলোড করার পর বার দুয়েক ব্যবহার করেছি। দু-‘আড়াই বছর হয়ে গেল সেটা আন-ইনস্টলও করে দিয়েছি। ফলে টাকা আসবে কথা থেকে”?

তখন ফোনের অপরপ্রান্তে থাকা ব্যক্তি তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। শেষমেশ ব্যর্থ হয়ে বলেন, “ঠিক আছে আমি টাকাটা ফোন পে-তে রিটার্ন করে দিচ্ছি”।

ব্যাপারটা হয়তো এখানেই শেষ হয়ে যেতে পারত। কিন্তু কিছুটা আগ্রহবশত অমৃতা কিছুক্ষণ পরে ফের ওই নম্বরে ফোন করেন। হঠাৎ কেন ফোন পে ফোন করছে, এমন কৌতূহল তো থেকেই যায়! প্রথমবার ফোন করার পর অবশ্য কোনো সাড়া মেলেনি। দ্বিতীয়বার কল রিসিভ হলে বেশ কিছুক্ষণ হ্যালো হ্যালো করে কেটে যায়। এর পর শুরু হয় কথোপকথন-

অমৃতা: টাকাটা পেতে কী করতে হবে?

ব্যক্তি: আপনাকে আবার একবার ফোন পে অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে।

অমৃতা: হ্যাঁ, সেটা করব। আর কী কী লাগবে? মানে ব্যাঙ্ক ডিটেলস…

ব্যক্তি: ও সব কিছু লাগবে না। শুধু অ্যাপ ডাউনলোড করলেই চলবে…

অমৃতা: ঠিক আছে, আমি ডাউনলোড করে নেব। তার পর কী করতে হবে আমাকে বলে দিন, আমি করে নেব।

ব্যক্তি: ও ভাবে হবে না, যখন ডাউনলোড করবেন, তখন আমরা অনলাইনে থাকব। আমি যে ভাবে বলব, সে ভাবেই স্টেপ-বাই-স্টেপ এগোতে হবে। তা হলেই মানি ট্রান্সফার হয়ে যাবে।

অনলাইনে কথাটা শুনেই অমৃতা সাময়িক ভাবে নিশ্চিত হয়ে যান, অপরপ্রান্তের ব্যক্তির দূরভিসন্ধির ব্যাপারটা। কারণ, হপ্তাখানেক আগেই তাঁর মাসিও এ ভাবে প্রতারণার শিকার হয়ে ২৫ হাজার টাকা খুইয়েছেন। এ বার নরম সুরেই একটু শক্ত কথা শোনান অমৃতা। বলেন, “এ ধরনের ফোনগুলি করার সময়, একটু খোঁজখবর তো নেবেন, কাকে ফোন করছেন। একে তো আমি দু’-আড়াই বছর আগে অ্যাপ আন-ইনস্টল করে দিয়েছি। তার উপর আপনার অনলাইন নির্দেশ থেকেই স্পষ্ট, আপনি আসলে কী করতে চাইছেন। এ বার থেকে একটু তথ্য যাচাই করার পরই ফোন করবেন। আমি মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। আপনাদের কাজকর্ম সম্পর্কে অনেকটাই জানি”।

অপরপ্রান্তের ব্যক্তি ঠান্ডা মাথায় বলে, “ও আচ্ছা, মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত! জানতাম না তো”!

এর পর অমৃতা পুলিশে গিয়ে অভিযোগ জানানোর কথা বলেন। তখন ওই ব্যক্তি বলে, “পুলিশ আমাদের কোনো দিনই কিছু করতে পারবে না। আমাদের ধরতেই পারবে না”।

তখন অমৃতা বলেন, “ঠিক আছে আপনার নম্বরটা তো আমার কাছে রয়েছে, আমি পুলিশে অভিযোগ করছি, তার পর দেখব আপনাকে ধরা যায় কি না”।

তখন মেজাজ চড়িয়ে ওই ব্যক্তি তুইতোকারি শুরু করে। বলে, “এ্যই শোন…শোন…তুই বাড়িতেই থাক। তোর বাড়িতে গিয়ে গুলি করে দিয়ে আসব”।

বিষয়টা মাত্রা ছাড়াচ্ছে বুঝতে পেরে স্ত্রীর কাছ থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন অমৃতার স্বামী। কিছুক্ষণ বাদানুবাদের পর ধমক খেয়ে কল কেটে দেয় ওই ব্যক্তি।

অমৃতা বলেন, এই ধরনের হুমকি ফোনের পর তিনি কলকাতা পুলিশের ফেসবুক পেজে অভিযোগ জানান। সেখান থেকে একটি নম্বরে এসমএস করে ওই ব্যক্তির মোবাইল নম্বরটি জানাতে বলা হয়। একই সঙ্গে ট্রুকলারে নম্বরটি সার্চ করতেই স্পষ্ট হয়ে যায় প্রতারকের পরিচয়।

এ ব্যাপারে ইন্ডিয়ান সাইবার সিকিউরিটি সলিউশনসের সিইও অভিষেক মিত্র বলেন, “এ সব ক্ষেত্রে প্রথমেই স্থানীয় থানায় অভিযোগ করা দরকার। সেখান থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হল, তা দেখে সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ জানাতে হবে”।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, “এ ধরনের প্রতারকদের সঙ্গে একটা বড়োসড়ো চক্রের যোগসাজশ রয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সুরাহা মিললেও অনেকেই অভিযোগ করেন, তাঁদের সমস্যার সমাধান অধরা থেকে গিয়েছে। ফলে এ ধরনের হুমকির ব্যাপারটাকে নিখাদ এড়িয়ে যাওয়ার পথ ধরেন অনেকেই”।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন