revenue graph

বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০১১ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বারবার বলেছেন, তাঁর সরকার ঋণে জর্জরিত। পূর্বতন বাম সরকারের আমলে নেওয়া ঋণের জেরে বছরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ২ লক্ষ ১৮ হাজার কোটি টাকা সুদবাবদ শোধ করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে প্রথম থেকেই সরকারের আয়বৃদ্ধির ওপর জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই অনুযায়ী প্রতিটি দফতরকেই বলা হয়েছিল আয় বাড়াতে। সেই মতো উদ্যোগ নিতে থাকে দফতরগুলি। পাশাপাশি অর্থ দফতরও কিছু নির্দিষ্ট নীতি গ্রহণ করে। এই সবের ফলে রাজস্ব আদায় ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে রাজ্যে। সেই সাফল্যের ওপর দাঁড়িয়ে চলতি অর্থবর্ষে রাজস্ব আদায় আরও অনেকটা বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র।

দেখে নেওয়া যাক, কতটা বেড়েছে রাজস্ব আদায়:

২০১১-১২ অর্থবর্ষ- ২৬,২৭৮.৪১ কোটি টাকা

        ২০১২-১৩ অর্থবর্ষ- ৩৪,৭২৬.৬৪ কোটি টাকা       

        ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষ- ৩৭,৮৫৩.২৮ কোটি টাকা       

       ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষ- ৪১,০৩৮.৬২ কোটি টাকা       

      ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষ- ৪৪,৩৫০.৮৭ কোটি টাকা       

২০১৬-১৭ অর্থবর্ষ- ৫০,৯৬৪.৮৪ কোটি টাকা  

এই তালিকায় দেখা যাচ্ছে, ২০১১-১২ অর্থবর্ষের পর থেকেই ব্যপক হারে বাড়তে শুরু করে রাজস্ব আদায়। সদ্য শেষ হওয়া অর্থবর্ষে, ২০১১-১২ অর্থবর্ষের তুলনায় আদায় হওয়া রাজস্ব তা প্রায় দ্বিগুন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কী ভাবে সম্ভব হল ব্যপক বৃদ্ধি?

রাজস্ব আদায়ে ফাঁকি বন্ধ করতে ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষ থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইন করে দেওয়া হয়। এর রাজস্ব ফাঁকি অনেকটাই কমে যায়। এছাড়া রাজস্ব আদায়ের জন্য গোটা রাজ্যকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতিটি অঞ্চল থেকে রাজস্ব আদায়ের জন্য সাতজন অফিসারের একটি করে দল গঠন করে দেওয়া হয়। প্রতিটি দলকে দেওয়া হয় নির্দিষ্ট টার্গেট। প্রতিটি দলের কাজে নিয়মিত নজরদারি চালাতে থাকে অর্থ দফতর। এই ব্যবস্থায় ফল মেলে ম্যাজিকের মতো। আবগারি দফতর সহ প্রতিটি দফতরের রাজস্ব আদায় এক লাফে অনেকটাই বেড়ে যায়। সামগ্রিক ভাবে ব্যাপক বৃদ্ধি পায় রাজ্যের আয়।

সম্প্রতি জিএসটি চালু হওয়ার পর নবান্ন সভাঘরে অর্থ দফতর এবং সব জেলার রাজস্ব আদায়কারী অফিসারদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। সেখানে ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৫৮,০০৭.৭১ কোটি টাকা।যা গত অর্থবর্ষের তুলনায় প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে, তা নিঃসন্দেহে রাজ্য সরকারের মুকুটে একটি নতুন পালক হিসেবেই গণ্য হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here