১৬ আগস্ট থেকে ‘দুয়ারে সরকার’, শ্রম দফতরের সিকেসিও কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ

0
প্রতীকী ছবি

কর্মসূচিতে দায়িত্ব বর্তালেও মেলেনি সরকারি পোর্টালে ঢোকার ইউজার আইডি।

খবর অনলাইন ডেস্ক: ১৬ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে রাজ্য সরকারের ‘দুয়ারে সরকার‘ কর্মসূচি। যা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন শ্রম দফতরের চুক্তি ভিত্তিক ‘কম্পিউটার নলেজ যুক্ত ক্লার্ক’ বা সিকেসিও কর্মীরা।

রাজ্যের সমস্ত ব্লক ও পুরসভায় অবস্থিত শ্রম দফতরের অফিসগুলো মুলত এই কর্মীদের মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে। তবে ওই কর্মীদের দাবি, কোনো এক ‘রহস্য’জনিত কারণে ২০১৭-র এসএসওয়াই ও ২০২০-র বিএমএসএসওয়াই পোর্টালে ঢোকার জন্য এই কর্মীদের কোনো ইউজার আইডি এখনও পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। ফলত তাঁরা নথিভুক্ত শ্রমিকদের পোর্টাল-ভিত্তিক সহায়তা করতে পারেন না। তাই দীর্ঘদিন ধরেই ফাইনাল পেমেন্ট ও অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রে চরম বিলম্ব হচ্ছে।

সিকেসিও কর্মীদের দাবি, একই ভাবে ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্পেও উইজার আইডি ছাড়া কী ভাবে তাঁরা নথিভুক্ত শ্রমিকদের সম্মুখীন হবেন, সেই চিন্তায় তাঁদের রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দরবার করেও কোনো সুরাহা মেলেনি এখনও।

Shyamsundar
[দায়িত্ব বর্তেছে ‘দুয়ারে সরকার’-এ]

১০ বছর আগে রাজ্যের সংগঠিত ও অসংগঠিত শ্রমিকদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য অস্থায়ী ভাবে ৪৮০ জন ক্লার্ক নিয়োগ করা হয় শ্রম দফতরে। এই কর্মীদের অভিযোগ, এখনও তাঁরা নিজেরাই চরম ভাবে অবহেলিত ও বঞ্চিত। যাঁরা শ্রমজীবী মানুষের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার দায় ভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। কিন্তু সিকেসিও কর্মীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে। কারণ চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের জন্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত ৬০ বছর অবধি চাকরির সুরক্ষা, বেতন বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসুরক্ষা কোনো সুবিধাই সিকেসিও কর্মীদের জন্য বাস্তবায়িত হচ্ছে না কোনো এক অজ্ঞাত কারণে। তাই তাঁরা এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ।

সিকেসিও কর্মীদের এক সংগঠনের দাবি, শ্রম দফতরের জেলা, মহকুমা এবং ব্লক অফিসের সমস্ত চিঠি লেখা, বিল তৈরি করা, ক্যাশ বুক লেখা, চিঠি আদান-প্রদান অর্থাৎ গ্রুপ ডি থেকে গ্রুপ সি, সব কাজই করতে হচ্ছে সিকেসিও কর্মীদের। পাশাপাশি অন্য সামাজিক প্রকল্প যেমন, বিড়ি শ্রমিক, ফাউলায়, এসএসওয়াই, নির্মাণকর্মী, পরিবহণ শ্রমিকদের পেনশন ও অনন্য অনুদান অর্থাৎ অসংগঠিত শ্রমিকদের পেনশন থেকে মৃত্যুকালীন অর্থ সাহায্য, সব দায়িত্ব তাঁদের উপরে ন্যস্ত। তাঁরা “বিগত ১০ বছর ধরে কাজ করছেন ও সমস্ত রকমের সচেতনতা শিবির ও শ্রমিক মেলার আয়োজন ও পরিচালনা নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়ে নিরলস ভাবে এই দফতরের সমস্ত রকমের জনকল্যাণমূলক কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন”।

[এই চিঠির পরেও কাজ হয়নি!]

শুধু তাই নয় নির্বাচন, সেনশাস, রিলিফ ডিউটি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ হল এখনকার কোভিড-১৯ সংক্রান্ত দায়িত্বও সমান ভাবে পালন করে চলেছেন। বিগত ১০ বছর ধরে এক বেতনে থেকে এবং ন্যূনতম ‘স্বাস্থ্যসাথী’র সুবিধাটুকু থেকেও তাঁরা বঞ্চিত হয়েও নিজের ও পরিবারের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে চলেছেন বলে অভিযোগ।

সংগঠনটির দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের জন্য ৬০ বছরের স্থায়ীকরণ ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা সহায়তা যুক্ত ১১০৭ ও ১০৩৩ অর্ডারের কোনো রকম সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে সিকেসিও কর্মীদের চিন্তার অন্ত নেই । তৃণমূল সমর্থিত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন তথা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিকেসিও সংগঠনের রাজ্য সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী বলেছেন “সিকেসিও কর্মীদের বিষয়ে বহুবার দফতরের আধিকারিকদের বলা সত্ত্বেও কোনো রকম সমাধান মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে শ্রমমন্ত্রী বেচারাম মান্না ও দফরের প্রধান সচিব বরুণ রায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। তাঁরা বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন”।

[মন্ত্রীকে স্মারকলিপি]

এ বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মানবিক ভাবনার দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ এবং সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশা করছেন সিকেসিও কর্মীরা।

আরও পড়তে পারেন: চুরি যাওয়া ৩০টি মোবাইল ফেরানো হল বারুইপুর পুলিশ জেলার উদ্যোগে

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন