T-V-MOHANDAS-PAI on horasis

কলকাতা: বাংলা না এগোলে পিছিয়ে পড়বে সমগ্র পূর্বভারত। কারণ বাংলার শিল্পোন্নতির সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে পার্শ্ববর্তী রাজ্য‌গুলির উন্নয়নের হার। হোরাসিস এশিয়া সম্মেলনে যোগ দিয়ে ঘনিষ্ট মহলে এমনটাই দাবি করলেন ইনফোসিসের প্রাক্তন ডিরেক্টর টি ভি মোহনদাস পাই।

এআইএমএ-র বর্তমান সভাপতি পাই ঘনিষ্ট মহলে বলেন, শিল্পবান্ধব রাজ্যের ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলা।কিন্তু এই ধরনের চেষ্টাকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে হলে আরও বেশি উদ্যোগী হতে হবে। বর্তমান রাজ্য সরকার যথেষ্ট সদর্থক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকই কিন্তু একই সঙ্গে শিল্পোদ্যোগীদেরও বিনিয়োগের ব্যাপারে স্থির সিদ্ধাম্তে পৌঁছনোর পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কিছুটা পিছন ফিরে তাকিয়ে পাই টেনে নিয়ে আসেন পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের শিল্প বিষয়ক চিন্তাভাবনার কথাও।

তিনি বলেন, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য শিল্পস্থাপনে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জটিলতার সম্মুখীন হয়ে পুরো পরিকল্পনাই ভেস্তে যায়। সিঙ্গুরে যদি টাটা ন্যানো কারখানা গড়ে তুলতে পারত তাহলে অটোমোবাইল শিল্পের মানচিত্রে বাংলা অন্যমাত্রা পেত। কিন্তু তা না হওয়ার পিছনে বর্তমান ক্ষমতাসীন তথা তৎকালীন বিরোধী রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নেতিবাচক গণ্য হওয়ায় সেই বোঝা এখনও বয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছে। ফলে এই সরকার শিল্পপতিদের বিনিয়োগের ব্যাপারে কতটা আগ্রহী করে তুলতে পারছে তার চেয়ে বড়ো কথা শিল্পস্থাপনে কতটা নিশ্চয়তা দিতে পারছে। একমাত্র বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগই যে বাংলার শিল্প-স্বপ্নকে সাকার করে তুলতে পারে সে কথাই স্মরণ করিয়ে দেন এই বিচক্ষণ প্রাক্তন আইটি অধিকর্তা। পাই আশাপ্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার শিল্প সম্পর্কে নিজেদের ভাবমূর্তি বদল করতে কিছুটা হলেও সক্ষম হয়েছে কিন্তু এর ফলাফল নির্ভর করছে তার স্থায়িত্বের উপর। আর এর থেকে যদি কোনও ইতিবাচক ফলাফল আসে তাহলে তাতে উপকৃত হবে সমগ্র পূর্বভারত। আর তা না হলে বিহার-ওড়িশা বা অসমের মতো প্রতিবেশী রাজ্যগুলিকেও পস্তাতে হতে পারে।

আরও প‌ড়ুন : পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন ঊর্ধ্বমুখী হবে রাজ্যের পারদ

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here