এ বার থেকে মিডডে মিলে মাছ/ডিম/পোস্ত, বরাদ্দ সেই ৪.৪৮ বা ৬.৭১ টাকা

0
midday meal
মিডডে মিলে নুন-ভাত। ছবি সৌজন্যে এনডিটিভি ডট কম।

নিজস্ব সংবাদদাতা: ফ্যান ও নুন-ভাত থেকে শিক্ষা। এ বার মিড ডে মিলের মেনুতে ভাত, ডাল, আলু পোস্ত/সোয়াবিন/সবজি। এ ছাড়াও মাছ অথবা ডিম। চাটনি তো থাকছেই। সপ্তাহে কবে কোন মেনু তা ঠিক করবেন জেলাশাসকরা। আর এখানেই প্রশ্ন শিক্ষকমহলের – মিডডে মিলের জন্য আর্থিক বরাদ্দ না বাড়িয়ে এই মেনু অনুযায়ী খাবার দেওয়া যাবে তো পড়ুয়াদের? দুর্মূল্যের বাজারে মাছ খাওয়াতে গেলে সামঞ্জস্য রেখে হিসাব দেখাতে হবে। এই হিসাব দেখাতে গিয়ে দুর্নীতির অভিযোগের শিকার হবেন না তো মিডডে মিলের সঙ্গে যুক্ত প্রধান শিক্ষকরা?

জেলাশাসকের দফতর থেকে সার্কুলার।

নবান্ন থেকে মিডডে মিলের মেনু ঠিক করে দেওয়া হয়েছে এবং কলকাতা বাদে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকের কাছে সেই তালিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবং সেই তালিকা যাতে মানা হয় সে বিষয়ে কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই তালিকায় পুষ্টিকর খাবারের মধ্যে নব সংযোজন মাছ। কবে কী দেওয়া হবে অর্থাৎ কবে মাছ বা কবে ডিম দেওয়া হবে, তা ঠিক করে দেবেন জেলাশাসক। শুধু তা-ই নয়, জেলাশাসকদের কাছে পাঠানো নির্দেশে বলা হয়েছে, সব স্কুলে তালিকামতো মিডডে মিল দেওয়া হচ্ছে কিনা, খাদ্যের গুণগত মান ঠিক আছে কিনা এবং যে মেনু দেওয়া হয়েছে সেই মেনু অনুযায়ী খাদ্য ছাত্রছাত্রীরা পাচ্ছে কিনা, তা দেখার জন্য প্রত্যেক জেলায় এডিএম পর্যায়ের এক অফিসার থাকবেন। তিনি ১৫ দিন অন্তর রিভিউ করে জেলাশাসককে রিপোর্ট দেবেন এবং সেই রিপোর্ট নবান্নে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

মিডডে মিল নিয়ে বিভিন্ন রকম দুর্নীতি সামনে উঠে আসছে। বিশেষ করে, হুগলির স্কুলের ঘটনা। সেখানে নুন-ভাত দেওয়া হয়েছিল পড়ুয়াদের। তার পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ডিআইদের দিয়ে সমস্ত জেলায় পর্যালোচনা করানো হয়। মিডডে মিলের চালে পোকা থাকায় কোনো কোনো জায়গায় সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় ডিআইদের।

বর্তমানে মিডডে মিলের জন্য যে টাকা দেওয়া হয়, সেই টাকায় মাছ খাওয়ানো কতটা সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শিক্ষক সংগঠনগুলি। মিডডে মিলের জন্য প্রাইমারি স্তরে (প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি) মাথাপিছু বরাদ্দ ৪ টাকা ৪৮ পয়সা এবং উচ্চ প্রাথমিকে (ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি) মাথাপিছু বরাদ্দ ৬ টাকা ৭১ পয়সা। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ দেয় রাজ্য আর ৬০ শতাংশ দেয় কেন্দ্র। বর্তমান বাজারে একটি মাছের দাম পড়ে যায় খুব কম করে ১৫ টাকা। তাই ভালো ও স্বাস্থ্যকর খাবার পড়ুয়াদের মুখে তুলে দেওয়ার আগে মিডডে মিলে বরাদ্দ বাড়ানো দরকার বলে মনে করে শিক্ষক সংগঠনগুলি। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “সরকারের এই নয়া সিদ্ধান্ত খুব একটা বিবেচনাপ্রসূত বলে আমরা মনে করছি না। আর্থিক বরাদ্দের উন্নতি না ঘটিয়ে এই নির্দেশিকা বাস্তবে পালন করা খুবই কঠিন।”

আরও পড়ুন সিঙ্গুরের পর এ বার যোগীরাজ্য, মিড ডে মিলে নুন-রুটি দেওয়ার অভিযোগ

শিক্ষা দফতরের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন, “প্রত্যেক জেলায় মিডডে মিলের তদারকির দায়িত্বে যে সব শিক্ষাবন্ধু আছেন, তাঁরা প্রতিদিন পরিদর্শন করবেন এবং অনলাইনে রিপোর্ট জমা দেবেন। কোথাও গরমিল হলে ব্যবস্থা নেবে উচ্চ শিক্ষা দফতর।” এ ছাড়াও টোল ফ্রি নম্বর দেওয়া হয়েছে। সেখানেও প্রতিদিনের রিপোর্ট নথিভুক্ত করতে হবে। এই প্রক্রিয়া শুরু হবে সোমবার থেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.