sabong bypoll

কলকাতা: সবং উপনির্বাচনে আট কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানোর খবরে কিছুটা হলেও উজ্জীবিত  বিরোধী রাজনৈতিক শিবির। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে গত বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্য জুড়ে যে ব্যাপক ভোট বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল, এ বারে তা কিছুটা হলেও রোধ করা যাবে বলে মনে করছেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। অন্য দিকে সিপিএমের কিছুটা গা-ছাড়া মনোভাব আর জাতীয় কংগ্রেস ভোট উতরাতে পারলেই যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচে।

গত বিধানসভা নির্বাচনেই তৃণমূল কর্মী জয়দেব জানাকে খুন হতে হয়েছিল সবংয়ে। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত হয়েছিলেন তৎকালীন বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী তথা বর্তমানে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মানস ভুঁইয়া। ওই আসনে জেতার কিছু দিনের মধ্যেই তিনি দল বদলান এবং পদ বদলান। ফলে সবংয়ে উপ-উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে ওঠে। তা যা-ই হোক, সবংয়ে এ বার চতুর্মুখী লড়াই হচ্ছে। এক সঙ্গে লড়ার বিষয় নিয়ে অনেক আলোচনা চললেও সিপিএম এবং কংগ্রেস পৃথক প্রার্থী দিয়েছে। আর বিজেপি তো আছেই।

সবংয়ে মোট বুথের সংখ্যা ৩২০ এবং এর মধ্যে থেকে ১২৩টিকে স্পর্শকাতর হিসাবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন। গত ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের জন্য মোট ৬৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল। অর্থাৎ আসনপিছু গড়ে ২.৩ কোম্পানি বাহিনী পাঠিয়েছিল কেন্দ্র। সবং উপনির্বাচনে একটি আসনের জন্য বরাদ্দ হয়েছে আট কোম্পানি। স্বাভাবিক ভাবেই ভোটারের নিরাপত্তার দিকটি যথেষ্ট আঁটোসাঁটো হয়েছে। কিন্তু এতেও ‌খুশি নন বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁরা সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে দরবার করে জানান, ১৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। অন্য দিকে সিপিএম এবং কংগ্রেস নির্বাচন ঘোষণার আগে থেকেই জোট গঠন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চালিয়েও মতৈক্যে আসতে পারেনি। বামফ্রন্ট আচমকা নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে দেওয়ায় কংগ্রেসও একেবারে শেষ লগ্নে এসে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী দিয়েছে।

গত বার বামেদের সঙ্গে কংগ্রেসের আসন রফা হওয়ায় মূলত ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল। সে বার মানসবাবু ৪৯১৬৭ ভোটে হারিয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী নির্মল ঘোষকে। এ বার নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও সমর কৌশল রচনায় তাঁর একটা ভূমিকা থেকেই গিয়েছে। কারণ ওই আসনে তাঁর স্ত্রী গীতারানি ভুঁইয়াকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। অন্য দিকে বিজেপি প্রার্থী করেছে জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি অন্তরা ভট্টাচার্যকে। যিনি অতীতে সিপিএমের এক জন হেভিওয়েট নেত্রী হিসাবেই পরিচিত ছিলেন। গোটা সবংয়ে এখন এই দুই প্রার্থীকে নিয়েই যাবতীয় জল্পনা। খোদ স্থানীয় এক সিপিএম কর্মীর কথায়, সিপিএম প্রার্থী রীতা মণ্ডল জানা বা কংগ্রেস প্রার্থী চিরঞ্জিত ভৌমিক মানুষ হিসাবে যতই ভালো হোন না, ভোটের লড়াইয়ে কতটা টিকবেন, তা অনিশ্চিত।

এ দিকে কলকাতায় তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সহাস্য মন্তব্য, ”২০১৬-তেও কেন্দ্রের এই ছক বানচাল হয়ে গিয়েছিল। আমরা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ভয় পেতে যাব কেন? সাধারণ মানুষ ভোট দেবেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়। মানুষ আমাদেরই ভোট দেবেন।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here