‘দুষ্টু ছেলেটা’ মরছে, এ বার কি বৃষ্টি বাড়বে দক্ষিণবঙ্গে?

0

ওয়েবডেস্ক: স্প্যানিশ ভাষায় ‘নিনো’ মানে ছেলে। আর আবহাওয়ার পরিভাষায় ‘এল নিনো’কে দুষ্টু ছেলে হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। গত দেড় মাসে দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার ছবিটা যে খুব খারাপ তাতে কোনো সন্দেহই নেই। তবে এরই মধ্যে খুশির খবর, সেই ‘এল নিনো’ কিন্তু আস্তে আস্তে দুর্বল শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াকে ‘এল নিনো’ বলে। গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে যথেষ্ট গরম ছিল। তার প্রভাবেই অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করে দেয় ওই মহাদেশের পশ্চিম উপকূল লাগোয়া সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা।

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে জলীয় বাষ্প ওই অঞ্চলের দিকে চলে যায়। ফলে অস্বাভাবিক ভাবে ঠান্ডা হয়ে যায় ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রের তাপমাত্রা। এর ফলে কমে যায় ভারতে বৃষ্টির পরিমাণ।

এত দিন সেই পরিস্থিতিটাই যথেষ্ট পরিমাণে বহাল ছিল। যার ফলে জুনে ভারতের সার্বিক ভাবে বর্ষার ঘাটতি পৌঁছে গিয়েছিল ৩৩ শতাংশে। কিন্তু এ বার সেই এল নিনোর প্রভাব ধীরে ধীরে কমছে বলে জানিয়েছে। বিদেশি বেশ কিছু আবহাওয়া সংস্থা, ওয়েদার আল্টিমার সঙ্গে এই ব্যাপারে একমত কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরও। এই প্রসঙ্গে আবহাওয়া দফতরের এক আধিকারিক ডি শিবানন্দ পাই বলেন, “এল নিনো কমছে। এটা খুব ভালো খবর। যদিও বর্ষা শেষ হওয়ার আগে এল নিনো পুরোপুরি বিলীন হবে না। তবে বর্ষার পরিস্থিতি যে এখান থেকে ক্রমশ ভালো হবে, তা বলাই যাই।”

এল নিনোর প্রভাবে কী হতে পারে, এ বছর ২০ মার্চ আমরা জানিয়েছিলাম। বিস্তারিত পড়তে পারেন এখানে

একই বক্তব্য ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কারও। তিনি বলেন, “মাস খানেক আগেও এল নিনোর যা শক্তি ছিল এখন তার থেকে ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছে। মনে করা হচ্ছে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এল নিনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে।”

এল নিনোর প্রভাবেই যে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি চরমে তা বলাই বাহুল্য। যদিও দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় পরিস্থিতি এক রকম নয়। বেশ কিছু জেলায় গত দশ দিনে ঘাটতি অনেকটাই কমেছে। গত দশ দিনে মুর্শিদাবাদে ঘাটতি ৬৮% থেকে কমে ৫১% হয়েছে, বীরভূমে ৫৭% থেকে কমে ৪৬% হয়েছে, নদিয়ায় ঘাটতি কমেছে ৬০ থেকে ৫১%-এ। এ ছাড়াও দুই বর্ধমানে ঘাটতি ৫৭% থেকে কমে হয়েছে ৪৫%, পুরুলিয়ায় ৪৮% থেকে ঘাটতি কমে হয়েছে ৪১%, হুগলিতে ৫০% থেকে ঘাটতি কমে হয়েছে ৩৯%। এর মধ্যে সব থেকে ভালো পরিস্থিতি এখন পশ্চিম মেদিনীপুরে, সেখানে ঘাটতি ৩৫%। দশ দিন আগেও বাঁকুড়ায় যা ঘাটতি ছিল, এখনও সেটাই রয়েছে অর্থাৎ ৫২%। ঘাটতি শুধু বেড়েছে কলকাতা এবং হাওড়ায়। সেখানে এখন ঘাটতি যথাক্রমে ৭০ এবং ৭৫%।

আরও পড়ুন এল নিনোর প্রভাবে আগস্ট পর্যন্ত দুর্বল থাকতে পারে বর্ষা: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা

বৃষ্টির পরিস্থিতি যে জুলাইয়ের শেষ দিকে গিয়ে বেশ কিছুটা উন্নতি করবে সে কথাই বলছেন রবীন্দ্রবাবু। তাঁর মতে, এল নিনো দুর্বল হতে শুরু করায় বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার প্রবণতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে। তার সরাসরি প্রভাব পড়বে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে।

এ বার জুন থেকে এখনও পর্যন্ত মাত্র দু’টি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে বঙ্গোপসাগরে। অন্য বছরে এত দিনে অন্তত ৫-৬টা নিম্নচাপ তৈরি হয়ে যায়। ফলে বৃষ্টি কমার জন্য নিম্নচাপ তৈরি হওয়া যে একটা বড়ো কারণ তা বলাই বাহুল্য। তবে জুলাইয়ের শেষ দিকে নিম্নচাপ তৈরি হলে বর্ষার ঘাটতি কমবে পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায় সব থেকে বেশি হারে।

ফলে জুলাইয়ের শেষে দক্ষিণবঙ্গের বৃষ্টির ঘাটতি বর্তমানে ৪৮ শতাংশ থেকে কমে ৩০ শতাংশে নেমে আসার ব্যাপারে ওয়েদার আল্টিমা। অন্য দিকে কলকাতায় পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গীন যে সেখানে জুলাইয়ের শেষে ঘাটতি খুব বেশি হলে ৫৫ শতাংশে নেমে আসার সম্ভাবনা দেখছে ওয়েদার আল্টিমা।

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.