তৈরি হচ্ছে ‘এল নিনো,’ বর্ষায় অশনি সঙ্কেত?

1
el nino
শ্রয়ণ সেন

সেই আশঙ্কাই তা হলে সত্যি হতে চলেছে। তৈরি হতে চলেছে ‘এল নিনো’। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আবহাওয়া সংস্থা থেকে এমনই জানানো হয়েছে। ‘এল নিনো’কে নিয়ে আমাদের যথেষ্ট চিন্তার কারণ রয়েছে। কারণ সাধারণ ভাবে দেখা গিয়েছে, ‘এল নিনো’ মানেই ভারতে বর্ষার কার্যত দফারফা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল ওশিয়ানিক অ্যান্ড অ্যাটমসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ জানিয়েছে, এ বছর এল নিনোর সম্ভাবনা রয়েছে ৮০ শতাংশ। অন্য দিকে অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া সংস্থা ৭০ শতাংশ সম্ভাবনা দেখছে ‘এল নিনোর।’ ভারতের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরও ‘এল নিনোর’ সম্ভাবনা যথেষ্টই দেখতে পাচ্ছে। তাদের সঙ্গে সহমত ওয়েদার আল্টিমা-সহ দেশের বিভিন্ন বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা।

‘এল নিনো’ কাকে বলে?

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াকে ‘এল নিনো’ বলে। ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা জানিয়েছেন, “এ বছর ডিসেম্বর-জানুয়ারির সময়ে দক্ষিণ অ্যামেরিকা মহাদেশে যথেষ্ট গরম ছিল। তার প্রভাবেই অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করে দেয় ওই মহাদেশের পশ্চিম উপকূল লাগোয়া সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা।”

কী ভাবে ভারতের বর্ষাকে প্রভাবিত করে ‘এল নিনো?’

রবীন্দ্রবাবুর কথায়, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে জলীয় বাষ্প ওই অঞ্চলের দিকে চলে যায়। ফলে অস্বাভাবিক ভাবে ঠান্ডা হয়ে যায় ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রের তাপমাত্রা। এর ফলে কমে যায় ভারতে বৃষ্টির পরিমাণ।

পূর্ব ভারতের ভাগ্য ততটা খারাপ নাও হতে পারে

ভারতে বর্ষা মূলত দু’টি শাখায় আসে। বঙ্গোপসাগরের শাখা এবং আরব সাগরের শাখা। ‘এল নিনোর’ ফলে সব থেকে বেশি প্রভাব পড়ে আরব সাগরের শাখায়। ফলে দক্ষিণ, পশ্চিম এবং উত্তর ভারতের কিছু অঞ্চলে খরার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। আবার অন্য দিকে বঙ্গোপসাগর শাখাটি বেশি প্রভাবিত হয় না। ফলে পূর্ব ভারত মানে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং উত্তরপূর্বে বর্ষায় খুব একটা প্রভাব পড়ে না।

আরও পড়ুনহিমালয়ে নিজের তিরিশতম ট্রেকের প্রস্তুতিতে একশো ছুঁইছুঁই ‘যুবা’
অতীত নিদর্শন কী বলছে।

সাম্প্রতিক কালের দুটি ‘এল নিনো’ বছর ছিল ২০০৯ এবং ২০১৫। ২০০৯-তে গোটা দেশে সামগ্রিক ভাবে বর্ষার ঘাটতি ছিল ২২ শতাংশ। দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ অঞ্চল চলে গিয়েছিল খরার কবলে। কিন্তু তখন পশ্চিমবঙ্গে বর্ষার ঘাটতি ছিল ১০ শতাংশ, আবহাওয়ার পরিভাষায় যা স্বাভাবিক হিসেবেই গণ্য হয়। আবার ২০১৫-তে গোটা দেশে বর্ষার ঘাটতি যখন ১৪ শতাংশ, পশ্চিমবঙ্গে তখন বর্ষা বাড়তি ৮ শতাংশ। ওই বছরের জুলাই-আগস্টে ভয়বাহ বন্যার কবলে পড়েছিল রাজ্য।

সুতরাং এই তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে ‘এল নিনো’ প্রভাব রাজ্যের ক্ষেত্রে কমই পড়ে। তাই রাজ্যবাসীর আপাতত চিন্তার কোনো কারণ নেই। তবে বাকি দেশের চিন্তার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

এ বছর বর্ষার কোনো আগাম পূর্বাভাস?

‘এল নিনো’-এর আচরণের জন্যই এখনও বর্ষার পূর্বাভাস তৈরি করতে পারেনি ওয়েদার আল্টিমা। তবে রবীন্দ্রবাবু প্রাথমিক ইঙ্গিতে জানিয়েছেন, এ বছর রাজ্যে বর্ষা আসতে বেশ দেরিই হতে পারে। জুন মাসে পশ্চিমবঙ্গ-সহ গোটা দেশের বৃষ্টি খুবই কম হতে পারে।

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

1 COMMENT

  1. অশোক@শ্রয়ন সেন।
    বড়ো সুন্দর প্রতিবেন বুড়ো। আমি এ-বিষয়টির কিছুই জানতাম ন। এর প্রভাব আগে পড়বে চাষে। পরে পড়বে পেটে। দুটোই আমার কাছে গুরূত্বপর্ণ।
    তোর লেখার ভাষাও ক্র সহজ-সুন্দর হচ্ছে।
    ।। অ।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.