পশ্চিমবঙ্গের গ্রাম-শহরে এমনিতেই পরিচিত মুখ বাংলা ছবির নায়িকা নুসরত জাহান। তবে রাজনীতিতে আসার পর এক অন্য নুসরতকে দেখছেন জনগণ। গ্রীষ্মের চড়া রোদ্দুরেও একটার পর এক জনসভা ও কর্মিসভার মাঝেই বসিরহাট কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে নিলেন খবর অনলাইনের প্রতিনিধি রাকা রায়।

রাজনীতিতে এসেছেন বলে সমালোচিত হচ্ছেন! অভিনেতারা রাজনীতিতে এলেই কি সমালোচিত হতে হয়?

আমাদের মাননীয়া দিদি সব কর্মক্ষেত্রের মানুষকেই রাজনীতিতে যুক্ত করেছেন। তিনি ইউনিটি ও ডাইভারসিটিতে বিশ্বাসী। আজকের যুবসমাজের রাজনীতি নিয়ে তাঁর একটা অন্য রকম দৃষ্টিভঙ্গি আছে। তাই আমি মনে করি সব কর্মক্ষেত্র থেকেই জনপ্রতিনিধি থাকা উচিত।

সিনেমা ও রাজনীতির মধ্যে তো অনেকটাই ফারাক?

খুব বেশি তফাত নেই। আগে আমি পৌঁছে যেতাম মানুষের কাছে নিজের কাজ নিয়ে। আমার কাজ দিয়ে তাদের মনোরঞ্জন করতাম। তাদের কাছ থেকে তখন ভালোবাসা পেয়েছি, এ বার আমি এই নতুন পরিচিতি নিয়ে জনগণের মধ্যে থেকে, জনগণের জন্যে তাদেরই একজন হয়ে কাজ করার দায়িত্ব পেয়েছি। শুধু এটুকুই তফাত থাকে। নেত্রী ও অভিনেত্রীর মধ্যে মনে হয় অভিনয়টা থাকে শুধু অভিনেত্রীতে। তবে নেত্রীতে অভিনয় নয়, নিজের প্রকৃত রূপে সবার জন্য কাজ করা যায়।

সিনেমা ও রাজনীতিতে আপনার আদর্শ কে?

সিনেমায় আমার আইডল বুম্বাদা, মানে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। যে ভাবে সকলকে ভালোবেসে বড়োদের সন্মান দিয়ে তিনি এত দিন ধরে ফিট থেকে কাজ করে যাচ্ছেন, সেটা দেখে শেখার মতো। আর রাজনীতিতে আমার আইডল অবশ্যই মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমাদের দিদি। কারণ ১৮ বছর বয়সে আমার জীবনের প্রথম ভোট দিয়েছিলাম তাঁকেই। সত্যি বলতে কী, তখন বাড়িতে কাউকে না জানিয়ে আমি দিদিকেই ভোট দিয়েছিলাম। আমি ভীষণ ভাবে অনুপ্রাণিত তাঁর আদর্শে। রাজনীতির বাইরে বেরিয়েও দেখেছি, তিনি সবার খোঁজ নেন। সবার সমস্যা মেটান।

হঠাৎ রাজনীতিতে আসার কারণ কী?

সে রকম কোনো কারণ ঠিক নেই রাজনীতিতে আসার। তবে আমাদের উপর বিশ্বাস করে দিদি যে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমরা মানুষের হয়ে কাজ করতে পারব। দিদি নানা ধরনের কর্মক্ষেত্রের মানুষের কাছে তাঁদের মতামত জানতে চান। কাছে টেনে নিতে চান। আবার প্রত্যেককে নিজের মতো করে কাজ করার সুযোগ করে দেন। আমি রাজনীতিতে এসেছি সদ্য, তবে ধীরে ধীরে সব কিছুই শিখছি। রাজনীতির মাধ্যমেই মানুষের জন্য কাজ করব।

ছাত্র রাজনীতি করতেন কখনও?

না, আমি ভবানীপুর কলেজে পড়েছি। সেখানে সে অর্থে রাজনীতি হত না। তবে পড়ুয়াদের যে কমিটি ছিল, সেখানে আমি সাধারণ সম্পাদক হিসাবে কাজ করেছি। কিন্তু রাজনীতি বলে তেমন কিছু ছিল না। কিন্তু এটাও তো অস্বীকার করা যাবে না, সব জায়গাতেই রাজনীতি রয়েছে। অফিস থেকে বাড়ি, সর্বত্র।

বসিরহাটের কোন সমস্যা সমাধান করবেন প্রথমে?

বসিরহাট একটা বড়ো জায়গা। সেখানে বিধায়ক এবং পুরসভা বা পঞ্চায়েতের সদস্যরা অনেক কাজই করেছেন। তবে ভিতর দিকের অনেক রাস্তার কাজ বাকি আছে। সেখানে রাস্তা তৈরির কাজই আমি প্রথম করব। পাশাপাশি বসিরহাটের মানুষের কাছে জানতে চাইব, কী কী সমস্যার কথা তাঁরা বলেন। সেই সমস্যাগুলোর সমাধানেই মন দেব।

বিরোধীদের সমালোচনাকে কী ভাবে দেখছেন?

আমি নিজের কাজের উপর বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। সমালোচনায় কোনো দিনই কান দিইনি, আগামী দিনেও কান দেব না। নায়িকা হিসেবেও দিইনি। এখন যখন নেত্রী হিসেবে কাজ করছি, তখনও কান দেব না। কাজেই মন দেব।

রাজনীতিতে এসে কাদের সমর্থন পেয়েছেন?

আমার টলিউডের সহকর্মীদের সঙ্গে বাড়ির সমর্থন পেয়েছি, বন্ধু-বান্ধবদের সমর্থনও পাচ্ছি।

[ আরও পড়ুন: মানুষের কাছ থেকেই জানতে চাই, আমার কাছ থেকে তাঁরা কী চাইছেন: মিমি চক্রবর্তী ]

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here