পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা উপনির্বাচন করাতে রাজি নির্বাচন কমিশন, ইঙ্গিত নবান্ন সূত্রে

0

খবরঅনলাইন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে কোভিড সংক্রমণের গ্রাফ যে হেতু নিম্নমুখী সে কারণে নির্দিষ্ট উপনির্বাচনগুলি এখনই সেরে ফেলার দাবি কয়েক দিন ধরেই করছিল রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে খবর, উপনির্বাচন নিয়ে সবুজ সংকত দিয়েছে কমিশন।

মুখ পোড়ায় সাবধানে পা ফেলতে চাইছে কমিশন

এ বছর এপ্রিল-মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ-সহ চার রাজ্যে এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচন হয়। ভোটের প্রথম কয়েকটি দফার পরেই দেশে ভয়াবহ ভাবে আছড়ে পড়ে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ। সংক্রমণের হারের বিচারে পশ্চিমবঙ্গেই করোনার দাপট সব থেকে বেশি ছিল, মহারাষ্ট্রের থেকেও।

এই ভয়াবহ দাপটের মধ্যেও নির্বাচন করিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রচুর সাধারণ ভোটার তো বটেই, কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে প্রার্থীদেরও। এর ফলে বিভিন্ন মহলে চূড়ান্ত সমালোচনার শিকার হয়েছে কমিশন। তাই উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে সাবধানে পা ফেলতে চাইছে তারা।

এমনিতে কোনো আসন ফাঁকা হয়ে যাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে সেখানে উপনির্বাচন করিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু ছ’ মাস পর আবার তৃতীয় ঢেউ আসবে কি না, সেটাও ভাবতে হচ্ছে কমিশনকে। সব মিলিয়ে মুখ পোড়ার ভয়ে এখন সাবধানে পা ফেলতে হচ্ছে কমিশনকে।

কোন কোন আসনে ভোট হবে রাজ্যে

ভোটের দিন কয়েক আগেই কোভিডে আক্রান্ত হয়ে জঙ্গিপুর ও সামশেরগঞ্জের সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থীদের মৃত্যু হয়। তার জেরে সেই দুই আসনে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়।

বিধানসভা ভোটগ্রহণের পর আরও পাঁচটি আসন ফাঁকা হয়েছে। ভোটের ফল প্রকাশের আগেই মৃত্যু হয় খড়দহের জয়ী প্রার্থী কাজল সিনহার। সম্প্রতি মারা গিয়েছেন গোসাবার জয়ী প্রার্থী জয়ন্ত নস্কর। ভবানীপুর আসন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য ছেড়ে দিয়েছেন জয়ী প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

এ ছাড়াও দিনহাটা এবং শান্তিপুরের বিধায়কপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন যথাক্রমে নিশীথ প্রামাণিক এবং জগন্নাথ সরকার। এমনিতে তৃণমূলের হাতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। কিন্তু মমতা নন্দীগ্রামে হেরে যাওয়ায় বিপত্তি হয়েছে। মমতা যে হেতু বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত না হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছেন, তাই নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে ছ’ মাসের মধ্যে জিতে আসতে হবে।

উপনির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীও

গত মাসের শেষে দিকেই উপনির্বাচনের দাবি জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্নে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমরাও অপেক্ষা করছি। যত দ্রুত সম্ভব, উপনির্বাচন করতে হবে। এখন করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। সাত দিনের মধ্যে ওরা উপ-নির্বাচন করতে পারবে। প্রার্থীদের জন্য এত সময় দেওয়ার প্রয়োজন নেই।”

পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মমতা বলেন, “আমি জানতে পেরেছি, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলে তবেই ওরা উপনির্বাচন করবে। সেটাই যদি হয়, তা হলে আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাব। এখন পরিস্থিতি ঠিক আছে। যদি তৃতীয় ঢেউ আসে, তা হলে কিছু করা যাবে না।”

আরও পড়তে পারেন ভয়াবহ আগুনে পুড়ে গেল লেকটাউনের মিনি জয়া সিনেমা হল

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন