Jhargram Electric
Samir mahat
সমীর মাহাত

ঝাড়গ্রাম: গত ২৪ মে মেদিনীপুরে বিদ্যুৎ দফতরের প্রশাসনিক সভায় এসে বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ঝাড়গ্রাম-সহ জঙ্গল মহল এলাকায় বিদ্যুৎ সমস্যা নিয়ে সরকারি সহযোগিতার কথা বলেন। তার পরেও লাগামহীন বিদ্যুৎ বিলের ভয়ে রাত ঘনালেই আঁধারে ডুবছে গ্রামগুলি। রাস্তার খুঁটিতে অনেক গ্রামে একটিও বাতি নেই। ঘরের উঠোনে, রান্নাঘরেও একই অবস্থা। কয়েক বছর ধরে গ্রামগুলির এই দশা। ঝাড়গ্রাম ব্লকের এক গ্রামবাসীর বাড়িতে গিয়ে জানা গেল, তাঁরা বিপিএল পরিবার, বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ বিল দিতে না পারায় প্রায় বছরখানেক আগে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। কুলপি-হ্যরিকেনের আলোয় রান্না থেকে পড়াশোনা সবই সম্বল। সংলগ্ন গ্রামগুলিতেও যেন শ্মশানের অন্ধকার।

গ্রামবাসীরদের কথায়, বেশি বিলের ভয়ে বাইরে কেউ আলো জ্বালাতে চায় না। যাঁরা ব্রয়লার হ্যাচারির ব্যবসা চালান তাঁরাই হ্যাচারিতে সারারাত আলো জ্বালিয়ে রাখেন।গরমে পাখার বদলে চালা বারান্দায় অনেকেই খাটিয়ায় ঘুমান। গ্রামে হাতি ডুকলে এ ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। আসলে ঝাড়গ্রামকে নজরবন্দি করতে এসে নেতা-মন্ত্রী অনেকেই বিভিন্ন ভাবে একাধিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, জঙ্গল মহলের অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সময় টানা কয়েক বছর বৈদ্যুতিক বিল সংগ্রহ করতে পারেনি বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীকালে গ্রাহকদের মোটা অঙ্কের বিল এসে পৌঁছয়। অনেকেই তা এখনও পরিশোধ করতে পারেনি, এমনকী বিচ্ছিন্ন সংযোগ পুনরায় যুক্ত করা থেকে দুরে থাকে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই শেষ হয় পঞ্চায়েত নির্বাচন।

ঝাড়গ্রাম এলাকায় খানিকটা বেগ পাওয়ার পরেই মেদিনীপুর সার্কিট হাউসে বিদ্যুৎ দফতর নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মন্ত্রী শোভনদেব। ঝাড়গ্রাম, শালবনি, গোয়াতোড় এই গ্রামীণ এলাকার বিদ্যুৎবিল সরকারি নিয়মে কী ভাবে মুকুব করা যায় সে বিষয়েও আলোচনা করেন। তবুও স্বস্তিতে নেই গ্রামববাসীরা। স্থানীয় এক তৃণমূল নেতা জানান, সে পক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওই ধরনের পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করা হবে। নতুন বোর্ড গঠনের পর এই সমস্যা অনেকটাই দূর হবে ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here