দ্রুত বেতন সংশোধন, বকেয়া মহার্ঘভাতা মেটানোর দাবিতে কর্মচারী সংগঠনের খোলা চিঠি মুখ্যমন্ত্রীকে

0
4487

কলকাতা: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন দ্রুত সংশোধন করা এবং বকেয়া মহার্ঘভাতা অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়ার দাবি জানাল পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী ইউনিয়ন। সেই সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের সমস্ত শূন্য পদে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে স্থায়ী নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা এক খোলা চিঠিতে ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সভাপতি ফটিক দে বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই তার কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ চালু করেছে ২০১৬-এর জুন মাসে এবং তা কার্যকর হয়েছে ২০১৬-এর জানুয়ারি থেকে। কেন্দ্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও ১৫টি রাজ্য তাদের কর্মচারীদের বেতন কাঠামো সংশোধন করেছে। আর যে সব রাজ্যে বেতন সংশোধন হয়নি, সে সব রাজ্যের অধিকাংশই তাদের কর্মচারীদের ১৩২ শতাংশ মহার্ঘভাতা দিচ্ছে। কর্মচারীদের বেতন ও মহার্ঘভাতার নিরিখে সারা দেশের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের স্থান সব চেয়ে নীচে বলে অভিযোগ করেছেন ফটিকবাবু। তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে ফটিকবাবু ওই চিঠিতে দু’টি সারণিও যোগ করে দিয়েছেন, যাতে দেখানো হয়েছে কোন রাজ্য কবে কর্মচারীদের বেতন সংশোধন করেছে এবং যে সব রাজ্যে বেতন সংশোধন করা হয়নি সে সব রাজ্যে কত শতাংশ মহার্ঘভাতা দেওয়া হচ্ছে।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, রাজ্যে ষষ্ঠ বেতন কমিশন গঠিত হয়েছে ২০১৫-এর নভেম্বর। দেড় বছরেরও বেশি সময় কেটে গিয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে কর্মচারী সংগঠনগুলিকে শুনানির জন্য ডাকা ছাড়া বেতন কমিশনের আর কোনো কাজ হয়নি।

আরও পড়ুন: পুজোর আগেই ডিএ-র সম্ভাবনা, প্রাথমিক তৎপরতা প্রশাসনে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন-বঞ্চনা দূর করা সংক্রান্ত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মনে করিয়ে দিয়ে ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার জন্য যে কারণ দেখানো হচ্ছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। চিঠিতে লেখা হয়েছে, “মহার্ঘভাতা বেতন বৃদ্ধি নয়, মূল্যবৃদ্ধিজনিত বেতনের অবক্ষয়ের ক্ষতিপূরণ মাত্র। ঘটনাবশত, মূল্যবৃদ্ধির কারণে আনুপাতিক হারে রাজস্ব বৃদ্ধি ঘটে, যার সামান্য একটি অংশ মহার্ঘভাতা বাবদ ব্যয় করা হয়। সুতরাং, কর্মচারীদের মূল্যবৃদ্ধির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারে আর্থিক সংস্থান না থাকার কোন কারণ নেই। নচেৎ, ভূভারতের সমস্ত রাজ্যের পক্ষে কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘভাতা প্রদান করা সম্ভব হতো না। দ্বিতীয়ত, রাজ্য প্রশাসনে দীর্ঘকাল নিয়োগ প্রায় না হওয়ায় অর্ধেকেরও বেশি অনুমোদিত স্থায়ী শূন্যপদ পূরণ করা হয়নি। সেই পদগুলির জন্য বরাদ্দ বেতন ভাতা বাবদ এক পয়সাও খরচ না করে সরকার যা সাশ্রয় করেছে তাতে শুধুমাত্র বকেয়া মহার্ঘভাতাই নয়, কর্মচারীদের সংশোধিত বেতন দেওয়ার জন্যও যথেষ্ট অর্থ সরকারী কোষাগারে মজুত থাকার কথা। এছাড়াও, সরকারী তথ্য অনুযায়ী আপনাদের আমলে রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি ঘটেছে। উচ্চ আমলাদের স্পেশাল-পে কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে, একটির পরিবর্তে বছরে দুটি ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়েছে। এমনকি গত তিন মাসে মন্ত্রীদের বেতনও ৩৬.৮০০ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৮১,৩০০ করা হয়েছে।”

কর্মচারী সংগঠনটির অভিযোগ, তাদের দাবিদাওয়ার প্রতি সরকার দৃকপাত করছে না। উপরন্তু, কর্মচারীদের আন্দোলনে নানা ভাবে লাগাম পরানোর চেষ্টা হচ্ছে, নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, “অতীতে আপনার বক্তব্য ছিল, যে সরকার তার কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন দিতে পারে না, তার ক্ষমতায় থাকার যোগ্যতা নেই।” এই যুক্তি যে সঠিক সে কথা বলে কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন ভাতা দেওয়ার দায়িত্ব যে তাঁর সরকারেরই ওপর বর্তায়, সে কথা মুখ্যমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী ইউনিয়ন।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here