Mimi Chakraborty
তৃণমূল প্রার্থী মিমি চক্রবর্তী

অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী ব্যস্ত ছিলেন তাঁর নতুন ছবি  ‘মন জানে না’ নিয়ে। তারই মাঝে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী  লোকসভা নির্বাচনের জন্য নায়িকার নাম ঘোষণা করেন। তখন থেকেই অভিনয় ও রাজনীতির মধ্যে ব্যালেন্স করে চলেছেন সদ্য রাজনীতিতে আসা মিমি। সকালে ছবির প্রচার তো বিকেলে তৃণমূলের কর্মিসভা। তাঁরই মাঝে কথা বলে নিলেন খবর অনলাইনের প্রতিনিধি রাকা রায়-এর সঙ্গে।

সিনেমার প্রচারের সঙ্গে রাজনীতি – কী ভাবে সামলাচ্ছ? এই দুই প্রচারে মিল বা অমিল কোথায়?

যে ভাবে দেখছ আমাকে, সে ভাবেই ব্যালেন্স করছি। দু’টি ক্ষেত্র একেবারেই আলাদা। সিনেমায় নিজের ছবির প্রচারে যাই নিজের ছবির কথা জানাই। তবে রাজনীতির ক্ষেত্রে আমি সাধারণ মানুষের কথা ভাবি, তাঁদের সমস্যার কথা শুনি। আমার দল তৃণমুলের কথা জানাই। দলের নীতির কথা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি।

কলেজ জীবনে কখনও রাজনীতি করেছ? মানে ছাত্র রাজনীতি? হঠাৎ করেই তো রাজনীতিতে আসা?

তোমরা সবাই জানো, আমি ভীষণ টমবয় টাইপের ছিলাম ছোটবেলায়। তাই আমি যখন আশুতোষ কলেজে ভর্তি হই, বাড়ি থেকে বলে দেওয়া হয়েছিল, আমি যেন ইউনিয়ন না করি। কারণ আশুতোষ কলেজে রাজনীতি খুবই সক্রিয়। তা ছাড়া তখন আমি ছোটো ছিলাম। যদিও আমার বাড়িতে ভীষণ ভাবেই রাজনৈতিক পরিবেশ দেখেছি। আমার  মামারা অনেক দিন ধরেই রাজনীতির সঙ্গে, বিশেষ করে তৃণমুলের সঙ্গে যুক্ত। অরূপদা যখনই যেখানে ক্যাম্পেনের জন্য ডেকেছেন, আমার মামারা সেখানে গেছেন।

তুমি যাদবপুর কেন্দ্র থেকে লোকসভা ভোটে লড়ছ, এই কেন্দ্রটি খুবই গুরুত্বপুর্ণ রাজনৈতিক দিক থেকে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও প্রথম বার এই কেন্দ্র থেকেই জিতে লোকসভায় যান। সেখানে তোমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। নিজেকে কতটা গুরুত্বপুর্ণ বলে মনে হচ্ছে? কী ভাবে স্ট্র্যাটেজি নিচ্ছ?

আমি কোনো স্ট্র্যাটেজি নিচ্ছি না। আমার মনে হয় না সেগুলোর কোনো দরকার আছে বলে! আমার বিশ্বাস এত দিন ধরে মানুষ আমাকে ভালোবেসে বিশ্বাস করেছেন, এই জায়গাটা আমায় দিয়েছেন, সে ভাবেই এই নির্বাচনেও আমার পাশে থাকবেন, আমাকে আশীর্বাদ করবেন।

একটা কথা বলতেই হয়। অভিনেত্রী হিসেবে রাজনীতিতে আসার কারণে খুবই ট্রোল হতে হচ্ছে, সমালোচিত হতে হচ্ছে, কী ভাবে দেখছ? কোনো বার্তা দিতে চাও তাঁদের?

আমি কাউকে কোনো বার্তা দিতে চাই না, কোনো কিছুই বলতে চাই না। আসলে এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমার সব কিছুই রয়েছে। নাম-পরিচিতি-অর্থ সবই রয়েছে, তা-ও যখন আমি রাজনীতিতে আসছি, তার মানে তো আমি টাকার জন্য বা নাম অথবা যশের জন্য আসছি না। মানুষের জন্য কাজ করা ছাড়া আমার কাছে রাজনীতিতে আসার অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতেই পারে না। আমার মনে হয় কলকাতা শহরে আমাকে সবাই চেনে। এটাও মনে হয় তাঁরা বোঝেন যে, আমি আমার কেরিয়ারের মধ্যগগন থেকেই রাজনীতিতে আসছি, মানে আমি নাম-যশ বা অর্থ উপার্জনের জন্য আসছি না। কারণ, আমি জনসেবার জন্যই রাজনীতিতে আসতে চাইছি। আর যারা বোকা বোকা কথা বলে, আমার মনে হয় তাতে কান না দেওয়াই ভালো। আমি তো সব সময়ই বলি, এ সব কথায় বা ট্রোলে আমি কখনোই কান দিই না।

রাজনীতিতে আসার জন্য ‘বিবাহ অভিযান’ ছবিটা ছাড়তে হল, মন খারাপ হয়নি?

খুূবই হয়েছে। কারণ এই চিত্রনাট্যের প্রথম থেকেই আমি ছিলাম, আমার কথা ভেবে গল্প লেখা হয়েছে। এক জন পশুপ্রেমী প্রতিবাদী যেমন, আমি ঠিক তেমনই ওই ছবির চরিত্রটিতে। তাই অবশ্যই ও রকম চরিত্রে অভিনয় না করে কষ্ট হয়েছে। তবে এখন আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই, মানুষের দায়িত্বটাই মাথায় রাখছি। রাজনীতিতে মন‌ঃসংযোগ করতে চাই। সব মিলিয়ে আমি কাজ করতে চাই, ভালো কাজ করতে চাই – সে ক্যামেরার সামনে হোক বা ক্যামেরার পিছনে থেকে কাজ। সেই ক্ষেত্রে আমি যাঁদের সঙ্গে কাজ করি আমার পরিচালক বিরসা বলো বা প্রযোজক মনিদা, ওরা সবাই আমায় বোঝে। ওদের সাপোর্ট নিয়েই এসেছি রাজনীতিতে। ওরা বোঝে, এখন এই বিষয়টাতেই বেশি করে আমায় মন‌ঃসংযোগ করতে হবে।

রাজনীতিতে তোমার আইডল কে?

দিদি (মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ছাডা় আর কে হতে পারে!(হাসি)

যাদবপুরের মানুষের কাছে কী ভাবে যেতে চাও? কোন সমস্যাগুলোর সমাধান করতে চাও জিতে এলে?

দেখো, প্রথমত এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আমার পক্ষে এই মুহূর্তে টু আরলি। আমি চাই মানুষ আমাকে বলুন, তাঁদের সমস্যার কথা। এখনও আমি প্রচার সে ভাবে শুরু করিনি। সবে মাত্র কর্মিসভা করেছি, কয়েকটি ক্যাম্পেন করেছি। কর্মীরা, যাঁরা কাজ করবেন তাঁদের সঙ্গেই আলোচনা করছি। অনেক জায়গায় দেওয়াললিখন শেষ হয়নি। তবে আগামী দিনে যখনই আমি প্রচারে যাব, আমি চাই সবাই জানান, তাঁরা আমার কাছ থেকে কী কাজ আশা করছেন, আমার দলের থেকে কী কাজ আশা করেছেন। সেগুলোতেই বেশি করে মন দেব।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here