Amiya Patra
ভোটপ্রচারে প্রার্থী

টানা ন’বার বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্র থেকে সংসদে যান সিপিএমের বাসুদেব আচারিয়া। তাঁর সেই দৃষ্টান্তে গত ২০১৪ সালের লোকসভায় ছেদ পড়ে তৃণমূল প্রার্থী মুনমুন সেনের জয়ে। এ বার ওই কেন্দ্রেই তৃণমূল শিবির প্রার্থী করেছে রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে। সেই হারানো দৃষ্টান্তে কি জোড়া লাগাতে পারবেন বামফ্রন্ট প্রার্থী অমিয় পাত্র ? বাঁকুড়ায় ভোটপ্রচারের ফাঁকে তাঁর মুখোমুখি খবর অনলাইনের প্রতিনিধি ইন্দ্রানী সেন

বাম-বিরোধীরা বলছেন, আপনাদের দলের সাংগঠনিক অবস্থা বর্তমানে অন্য দলের থেকে দুর্বল। বর্তমানে আপনাদের সাংগঠনিক অবস্থা সম্পর্কে কী বলবেন?

সংগঠন শক্তিশালী না দুর্বল এই বিষয়টা আপেক্ষিক। কোন সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে তুলনা করছি, তার উপর নির্ভর করে দল শক্তিশালী না দুর্বল। এখন আমাদের কর্মী বা পার্টি সদস্যের সংখ্যা আগের তুলনায় কম হলেও তাদের যোগ্যতা, সক্রিয়তা এবং দলের প্রতি নিষ্ঠা আগের তুলনায় অনেকটা ভালো। সেই অর্থে যদি সংখ্যা ও গুণগত মান দু’টো দিয়ে বিচার করা হয় তা হলে আমরা দুর্বল নই।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় কি আপনারা সন্তুষ্ট?

এখনও সন্তোষ প্রকাশ করার মতো কিছু দেখছি না। আমাদের দেশের মধ্যে আর কোনো রাজ্যে নেই যেখানে পুরসভা নির্বাচন, পঞ্চায়েত নির্বাচন, বিধানসভা নির্বাচন প্রত্যেকটা নির্বাচনে ২০-৩০ জন বা তার বেশি মানুষের প্রাণ যায়। যে পুলিশ ভোট লুটে সাহায্য করল, পঞ্চায়েত নির্বাচনে নমিনেশন দিতে দিল না, সেই পুলিশকে যদি পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়, তা হলে পশ্চিমবঙ্গে কেমন ভোট তারা করাতে চাইছে, সে বিষয়ে একটা সন্দেহ থেকে যায়। কিন্তু সেই জন্য আমি সার্টিফিকেট দিতে চাইছি না যে, নির্বাচন কমিশন আছে, ভোটটা ঠিক হবে। দু’-এক দফা  ভোট দেখে বলব।

[ আরও পড়ুন: পুরুলিয়ায় পঞ্চায়েতের পুনরাবৃত্তি হতে দেবেন না মৃগাঙ্ক ]

প্রতি ভোটেই বিরোধীরা রিগিং নিয়ে একটা অভিযোগ তোলে। সেই দিক থেকে বিচার করে এই লোকসভা নির্বাচনে আপনার দল কি কোন ব্যবস্থা নেবে। এই বিষয়ে আপনারা কী ভাবছেন।

দল মানুষের উপর নির্ভর করে পার্টি করে। এখন এটুকু বলতে পারি মানুষ মনের দিক থেকে প্রস্তুত নিজের ভোট নিজে দেবে বলে। এ বার কেউ ভোট লুঠ করতে এলে, তাদের সহজে ছেড়ে দেওয়া হবে না। আমরা আমাদের কর্মী-সমর্থকরা সবাই মিলে আমাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করব এই স্থির সিদ্ধান্ত নিয়েই আমরা নেমেছি।

এ বার প্রচারে কেমন সাড়া পাচ্ছেন? আগের লোকসভা নির্বাচনের থেকে এ বার  কোনো পার্থক্য কি চোখে পড়ছে?

২০১৪-১৬ নির্বাচনের তুলনায় বলতে পারি যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের যে এত ঘৃণা জন্মেছে, তা আমরা আঁচ করতে পারিনি। প্রচারে গিয়ে বুঝতে পারছি প্রতিটি এলাকায় মানুষ তৃণমূলকে ধাক্কা দিতে প্রস্তুত, তৃণমূলকে হারাতে চায়। এই অরাজকতা তোলাবাজি মানবে না। এই রকম ডিটারমিনেশন নিয়ে মানুষ ভোট দিতে যাবে।

এ বারের নির্বাচনে আপনাদের মূল ইস্যু কী হিসাবে কোন কোন বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছেন?

প্রথমেই বলি আমরা সরকারে ছিলাম না। যাঁরা সরকারে ছিলেন তাঁদের বলতে হবে তাঁরা ইস্তেহারে যে কথাগুলি বলেছিলেন সেটা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে। আমরা অবশ্যই বলছি যে, গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে বিকশিত করা। যে গণতন্ত্রকে রাজ্যে তৃণমূল আর কেন্দ্রে বিজেপি নষ্ট করেছে। বেকারদের কর্মসংস্থান। কৃষকদের ফসলের ন্যায্য মূল্য। ক্ষেতমজুরদের সারা বছর কাজ পাওয়ার প্রশ্ন। শিক্ষাক্ষেত্রে অরাজকতা বন্ধ করার প্রশ্ন। আদিবাসীদের পড়ুয়াদের জন্য হোস্টেল পুনরায় চালু করার প্রশ্ন। জঙ্গলের জমি থেকে আদিবাসীদের উৎখাত করার প্রশ্ন।

এক সময়ের লালদুর্গ বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রটি কী ভাবে পুনরুদ্ধার সম্ভব?

নতুন করে চেষ্টার কোনো ব্যাপার নেই। মানুষের কাছে যাচ্ছি, মানুষ অভিজ্ঞতা থেকে গত পাঁচ বছরের বিজেপি আর আট বছরের তৃণমূল শাসন দেখেছে। এখন মানুষই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে, মানুষের উপর ভরসা আছে। গত পাঁচ ও আট বছরের অভিজ্ঞতা থেকে মানুষ বামপন্থীদের ফিরিয়ে আনতে ইতিবাচক ভূমিকা নেবে।

এক সময় আপনারা কম্পিউটারের বিরোধিতা করেছিলেন। বর্তমান যুগ সমস্তটাই তো কম্পিউটারচালিত?

বিরোধিতা করেছিলাম বহু কাল আগে ৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে। তার পর আমরাই প্রতিটি পঞ্চায়েতে কম্পিউটার ব্যবহার চালু করি। আমরা তখন মনে করেছিলাম কম্পিউটার বহু মানুষের চাকরি খেয়ে নেবে। আমরা ইস্টার্ন ও সাউথ ইস্টার্ন রেলের সদর দফতরে বিক্ষোভও দেখিয়েছিলাম। পরে বুঝি কম্পিউটার বিজ্ঞানের অভিনব আবিষ্কার। যত দিন যাবে এর ব্যবহার বাড়বে। আগের বক্তব্য থেকে আমরা অনেক দিন আগেই সরে এসেছি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার বর্তমান রাজনীতির একটা ট্রেন্ড। সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কে আপনার মতামত কী?

কর্পোরেট পরিচালিত মিডিয়া যারা কোনো একটা পার্টিকুলার দল বা সরকারের কাছ থেকে টাকা পাচ্ছে, যেখানে তারা তাদের মনপসন্দ খবর প্রচার করছে। এর বিকল্প হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া। সোশ্যাল মিডিয়া মানে সব কিছুই, সেটা ফেসবুক, হোয়াটসআপ বা পোর্টাল বলুন। এখানে মানুষ কমেন্ট করে পোস্ট করে নিজের ভাবনা জানায়। দৈনিক সংবাদপত্র (আনন্দবাজার) ভুল খবর পরিবেশন করলেও সেটা আমাদের পড়তে হয় কিন্তু সোস্যাল মিডিয়ায় কেউ ভুল বললে, যাঁরা সঠিকটা জানেন তাঁরা সেটা জানিয়ে প্রতিবাদ করেন। সে জন্য যত দিন যাবে সোশ্যাল মিডিয়ার দাপট আরও বাড়বে। প্রিন্ট আর ইলেকট্রনিক মিডিয়া ছোটো হবে। এটা যত তাড়াতাড়ি হয় ততই মঙ্গল। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব এখন সব থেকে বেশি। আমরাও প্রচারে সোশ্যাল মিডিয়াকে পরিকল্পিত ভাবে ব্যবহার করছি।

এই কেন্দ্রে জয়ের বিষয়ে কতটা আশাবাদী?

মানুষের উপর একশো শতাংশ বিশ্বাস আছে এ বার তারা পরিবর্তন করবে। এখন আমাদের একটাই স্লোগান “অস্থির দিন বদলে দিন”।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here