প্রার্থী হিসাবে নুসরত জাহানকে দরাজ সার্টিফিকেট সায়ন্তন বসুর!

0

এ বারের লোকসভা ভোটে রাজ্য সংগঠনের দুই সাধারণ সম্পাদককে প্রার্থী করেছে বিজেপি। তাঁদেরই একজন সায়ন্তন বসু। বসিরহাটের প্রার্থী সায়ন্তন ইতিমধ্যেই খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন ‘বিতর্কিত’ মন্তব্যের জেরে। সে দিন আসলে কী বলতে চেয়েছিলেন তিনি, জানালেন খবর অনলাইন-কে।

কয়েক বছর ধরেই ঝাড়গ্রাম-পুরুলিয়ায় লাগাতার আন্দোলনে ছিলেন, দল আপনাকে বসিরহাটে প্রার্থী করল। নির্দিষ্ট কোনো কারণ রয়েছে?

আমি তো দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক। ফলে নির্দিষ্ট কোনো লোকসভার সাধারণ সম্পাদক নই। দল যেখানে প্রার্থী করতে চেয়েছে, সেখানেই প্রার্থী হয়েছি।

প্রচারে বসিরহাটের মানুষের কাছ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

প্রচারে তো আপনারা থাকছেন, দেখছেন। মানুষ আমাদের সমর্থন করছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে যাঁরা চান, সেই সব অগুন্তি মানুষ সভা-সমিতি-মিছিলে থাকছেন। সাংবাদিকরাই সাক্ষী থাকছেন, আমি নতুন করে কী আর বলব!

বসিরহাটের মানুষের কাছে দলের হয়ে কোনো কোন বার্তা তুলে ধরছেন?

বসিরহাটে বেসিক কতকগুলো সমস্যা রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা একটা বড়ো সমস্যা। সন্ধের পরে এলাকার মহিলারা বাড়ি থেকে বের হতে পারেন না। পানীয় জলের একটা বড়ো সমস্যা রয়ে গিয়েছে। এখানকার যুবকেরা বাইরের রাজ্যে কাজ করতে যান। মহারাষ্ট্র, গুজরাত, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, অসম, ঝাড়খণ্ড, বিহারে কাজ করতে যান এঁরা। আসলে এত দিনেও স্থানীয় স্তরে শিল্প-পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। তবে কিছু চপ-মুড়ি শিল্প রয়েছে, কিছু বোমা তৈরির শিল্প রয়েছে, এ কথা স্বীকার করতেই হবে। কিছু ভেড়িও রয়েছে, কিন্তু এর বাইরে বসিরহাটে কোনো স্থানীয় কর্মসংস্থানের ব্যপারই নেই। এই বিষয়গুলিকেই তুলে ধরছি। পাশাপাশি রয়েছে, উন্নয়নের বিষয়ও। এখানকার শিল্প-পরিকাঠামো নিয়ে কেউ চিন্তা করেনি। যিনি এর আগে পাঁচ বছর এলাকার সাংসদ ছিলেন, তিনি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বা এখানে রাজ্য সরকারের কাছে বসিরহাটের উন্নয়ন নিয়ে একটি কথাও বলেননি। আমার প্রাথমিক কাজই হবে, সেই উন্নয়নের বিষয়গুলোকে তরাণ্বিত করা। সেগুলোকেই মানুষের সামনে তুলে ধরা এবং সরকারের কাছে সেই প্রস্তাবগুলো পেশ করা।

গতবার বসিরহাট থেকে তৃণমূলের বিদায়ী সাংসদ জিতেছিলেন প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার ভোটের ব্যবধান। ছবিটা কী বদলাবে?

মানুষ সিদ্ধান্ত নেবেন। নরেন্দ্র মোদীর প্রতি বহু মানুষের সমর্থন বেড়েছে। নতুন করে সমর্থন বাড়ছে। আমাদের বিশ্বাস, শুধু বসিরহাট কেন্দ্র কেন, পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীরা জয়লাভ করবেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আপনার বসিরহাট কেন্দ্রে সংখ্যালঘু ভোট একটা ফ্যাক্টর। বিষয়টাকে কোনো বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন?

সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু, সব ভোটই বিজেপি পাবে। বসিরহাটবাসীর উন্নয়নের স্বার্থে মানুষ ভোট দেবেন। আমরা এ রকম আলাদা করে কিছু দেখি না। আমাদের লক্ষ্য, সকলের উন্নতি। সকলকে সঙ্গে নিয়েই চলতে হবে। মোদীজি আগেই বলেছেন- সব কা সাথ, সব কা বিকাশ। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

আপনার উল্টো দিকে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের প্রার্থী রাজনীতিতে আনকোরা, কী ভাবে দেখছেন বিষয়টাকে?

যে কেউ প্রার্থী হতেই পারেন। প্রার্থী হতে আপত্তি কোথায়। কেউ কবিতা লিখেও প্রার্থী হতে পারেন, কেউ গান করেও প্রার্থী হতে পারেন। আবার চিকিৎসক কিংবা আইনজীবীও প্রার্থী হতে পারেন। একটা কথা স্পষ্ট, তিনি তাঁর দলের কথা বলবেন, আমি আমার দলের কথা বলব। লড়াইটা এক দলের নীতির সঙ্গে আর এক দলের। এর থেকে বেশি কিছু নয়।

প্রচারে আপনার একটা মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিচার্য বিষয় সেটা। কিন্তু আপনি সে দিন আদতে কী বলতে চেয়েছিলেন?

দেখুন, বসিরহাটের বিস্তীর্ণ যে এলাকা, সেখানে ভোটের যে ব্যবস্থা ভেঙে ফেলা হয়েছে। তৃণমূলের আশ্রিত কিছু দুষ্কৃতী, গুন্ডা, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। পাশাপাশি তাদের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড কেড়ে নিচ্ছে। বিজেপির কর্মীরা দেওয়াল লিখতে গেলেও তাঁদের মারধর করা হচ্ছে। অন্য দিকে যাঁরা মার খাচ্ছেন, তাঁদের নামেই থানায় এফআরআই দায়ের হচ্ছে। পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করছে। আমাদের কার্যকর্তারা থানায় এফআরআই দায়ের করতে গেলে তাঁদের থানায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ওসি নিজের চেয়ারে বসে রয়েছেন। তাঁকে ফোন করলে বলা হচ্ছে, আপনারা থানায় আসবেন না। আপনাদের এফআরআই নেওয়া হবে না। আপনাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যাপারটা ভেবে দেখুন, কোথায় রয়েছি আমরা? স্বাভাবিক ভাবেই একটা ক্ষোভের বাতাবরণ রয়েছে। আমি তো একজন প্রার্থী। আমি মানুষের কথা ভেবেই বলেছি। তবে আমার ১৫ মিনিটের বক্তব্যকে কেটে ২ মিনিটে নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু মানুষ জানে, এই ২ মিনিটের বক্তব্য দেখিয়ে তো কিছু হবে না। পুরো বিষয়টাকে দেখতে হবে। ফলে আমার যেটা বলার ছিল, সেটাই বলেছি।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় কি আপনারা খুশি?

এখনও খুশি নই। তবে আশাকরি খুশি হব। আমরা চাই, সিআরপিএফ থাকুক। মানুষের যে আত্মবিশ্বাস, সেটাকে তারা শক্তিশালী করুক। ব্লকে-ব্লকে ঘুরুক, গ্রামে-গ্রামে ঘরুক। বিশেষ করে হিঙ্গলগঞ্জের ভবানীপুর, কিংবা মিনাখা, সন্দেশখালির বিস্তীর্ণ এলাকায় বা পারহাসনাবাদ- এ সব জায়গায় ভোট হয় না। মানুষকে ভোট দিতে দেওয়া হয় না। ভোটারদের কাছ থেকে পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়া হয়। সেখানে বিরোধী দলের সমর্থকদের বাড়িতে থাকার অধিকার নেই। সেই জায়গাগুলিতে যদি এখন থেকে আধাসেনা না পৌঁছায়, তা হলে মানুষের আত্মবিশ্বাসকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা খুবই কঠিন। গত পঞ্চায়েত ভোটে আমরা দেখেছি, কী ভাবে গণতন্ত্র লুণ্ঠন করা হয়েছে। তার পুনরাবৃত্তি যেন লোকসভা ভোটে না হয়। এটা সরকার, পুলিশ-প্রশাসন, নির্বাচনী আধিকারিক এমনকী প্রার্থী – সকলেরই ভাবা উচিত।

প্রচারে বেরিয় কি কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে?

ব্যক্তিগত ভাবে আমি হইনি। তবে আমার দলের কর্মীরা হচ্ছেন। আজই (মঙ্গলবার) সন্দেশখালি থানায় এফআরআই হয়েছে। আমাদের কর্মীদের মারধরের অভিযোগ নিয়ে আমি রিপোর্ট তৈরি করেছি। কিন্তু সে ভাবে এখানে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের কাছে নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করছি।

তা হলে ভোটের ফল?

রাজ্যের ৪২টা আসনের মধ্যে বেশিরভাগেই জিতবে বিজেপি। বসিরহাট-সহ উত্তর ২৪ পরগনার পাঁচটা লোকসভা আসনেই জিতবে বিজেপি।


আরও পড়ুন: সাংসদ হয়ে বসিরহাটের মানুষের জন্য প্রথম কী কাজ করবেন, জানালেন তৃণমূল প্রার্থী নুসরত জাহান

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here