Connect with us

কথাবার্তা

নতুন ভোটারদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা জয়নগরের তৃণমূল প্রার্থী প্রতিমা মণ্ডলের

ডব্লিউবিসিএসের কো-অপারেশন ডিপার্টমেন্টের চাকরি ছেড়ে ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে প্রার্থী হয়েছিলেন জয়নগর কেন্দ্রে। জয়ীও হন। এ বারের ভোটেও ওই কেন্দ্রেই বিদায়ী সাংসদ প্রতিমা মণ্ডলকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তাঁর মুখোমুখি খবরঅনলাইনের প্রতিনিধি উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কী ভাবে দেখছেন?

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি দেশের উন্নয়নের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু গত পাঁচ বছরে সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তাই এখন উন্নয়নকে বাদ দিয়ে শুধু ধর্ম নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছে।ধর্মের নামে বিভেদ তৈরি করছে। এটা দেশের পক্ষে ভালো নয়। এ ভাবে চলতে থাকলে দেশের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকবে। ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে দেশ।

বিজেপিকে কী ভাবে ট্যাকল করছেন?

মানুষের ব্যবহারই মানুষের পরিচয়। বিজেপি টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চাইছে। এটা গণতন্ত্রের পক্ষে খুব খারাপ একটা লক্ষণ। আমরা সাধারণ মানুষকে পাশে নিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

আপনার লোকসভার অন্তর্গত জয়নগর, কুলতলি, বাসন্তী, গোসাবা, ক্যানিংয়ে তৃণমূলের অন্তর্কলহ কাজ করছে বলে শোনা যাচ্ছে। এটা কি ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে?

তৃণমূল এখন একটা বড়ো সংসারে পরিণত হয়েছে। বড়ো সংসারের ভিতর তো মনোমালিন্য থাকতেই পারে। আমরা দল করি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শ মেনে। ফলে মানুষ ভোট দেবেন তাঁকে দেখেই, সেখানে অন্য কোনো প্রভাবের স্থান নেই।

এ বারে জয়ের ব্যাপারে কতটা আশাবাদী আপনি?

একশোয় একশো শতাংশ। তৃণমূল মানুষের পাশে থাকা দল। তাই এই দলের সৈনিক হিসাবে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করি।

আগামী পাঁচ বছরের জন্য আপনার কী কী পরিকল্পনা রয়েছে?

মগরাহাট-২ এবং জয়নগর-১ ব্লকে আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল সরবরাহের প্রকল্পের কাজ শেষ করতে চাই। নিমপীঠ এবং জয়নগরে মোয়া হাব তৈরির কাজটা শেষ করতে চাই। পাশাপাশি গোটা এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নে একাধিক পরিকল্পনার বাস্তবায়নেই জোর দিতে চাই।

রেলপথ সম্প্রসারণ বা লোকাল ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর কোনো চিন্তাভাবনা রয়েছে?

গত লোকসভার অধিবেশন চলাকালীন মোট চারবার সংসদে ক্যানিং, ঝড়খালি, জয়নগর, মৈপীঠ রেলপথ সম্প্রসারণ এবং ক্যানিং ও জয়নগর থেকে আরও ট্রেন বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব রাখি। কিন্তু সবই তো ওদের হাতে। ওরা না চাইলে কী করে হবে!

এলাকার নদীবাঁধ সংস্কারের আপনি কোনো কাজ করেননি বলে অভিযোগ বিরোধীদের!

বিরোধী দলের নেতা এ বারও এখানে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি সেচমন্ত্রী থাকাকালীন সুন্দরবনে আয়লা এসেছিল। তিনি তখন কী করেছিলেন? বাসন্তীর সজিনাখালিতে কয়েক দিন আগে একটা নদীবাঁধ ভেঙেছিল। খবর পেয়ে আমি নিজে সেখানে যাই। বিডিও এবং সেচ দফতরকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত বাঁধ মেরামতির কাজ হয়। সুন্দরবনের বাঁধগুলিকে রিংবাঁধ দিয়ে সংস্কার করতে হবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার যদি টাকাই না দেয়, কী করে হবে?

বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যাপারে কী ভাবছেন?

উৎকর্ষ বাংলা প্রকল্পের মাধ্যমে যুবক-যুবতীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে স্বনির্ভর হওয়ার যাবতীয় বন্দোবস্থ করেছে রাজ্য সরকার।

নতুন ভোটারদের উদ্দেশে কি বিশেষ বার্তা দিতে চাইবেন?

লোকসভার ভোট গণতন্ত্রের সব থেকে বড়ো উৎসব। তাই এমন একজন জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত করুন, যিনি ধর্মনিরপেক্ষ ভাবে মানুষের পাশে থাকবেন এবং উন্নয়নের কাজ করবেন।

বিরোধী দলের প্রার্থীদের সম্পর্কে কী বলবেন?

তাঁদের কারও সঙ্গেই আমার ব্যক্তিগত কোনো রকমের সম্পর্ক নেই, ফলে এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে চাই না।

[ সৌমিত্র খান বিষ্ণুপুরের বিজেপি প্রার্থী, এটাই আমার কাছে অ্যাডভান্টেজ: শ্যামল সাঁতরা ]

কথাবার্তা

এমএসএমই ঠিক কী ভাবে স্বনির্ভর হতে সাহায্য করে?

স্মিতা দাস: মাইক্রো স্মল মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেস (এমএসএমই) ঠিক কী ভাবে স্বনির্ভর হতে সাহায্য করে? কী-ই বা তার প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, এমনই বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিলেন ভারত সরকারের এমএসএমই পরীক্ষা কেন্দ্র, কলকাতা কার্যালয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর দেবব্রত মিত্র

এমএসএমই-র কাজ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা খুব একটা স্পষ্ট নয়। সাধারণ মানুষকে জানানোর জন্য কী উদ্যোগ নিচ্ছেন তাঁরা?

এটাকে সবাই ইন্ডাস্ট্রি নামে জানে। কিন্তু ২০০৬ থেকে এটি বদলে গিয়ে হয়েছে এন্টারপ্রাইজ। এই সংস্থার নিজস্ব প্রচার মাধ্যম আছে। টুইটার অ্যাকাউন্ট, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, ওয়েবসাইট, ই-ম্যাগাজিন ইত্যাদির মাধ্যমে প্রচার চালানো হয়। তা ছাড়া দুরদর্শনেও প্রচার করার জন্য বেশ কয়েকটি পর্বে এই নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল।

সাধারণ মানুষকে এই বিষয়ে উৎসাহিত করার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়?

প্রায়শই এক বা দুই দিনের মোটিভেশনাল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এর আয়োজন করা হয় সংস্থার অফিসের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলাতেও। সেই ক্যাম্পের ব্যাপারে ওয়েবসাইটে প্রচার করা হয়। তা ছাড়া উদ্যোগদাতাদের অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমেও প্রচার করা হয়, এই ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার জন্য বলা হয়। তাতে বিভিন্ন স্কিম, ব্যবসা করার পদ্ধতি ইত্যাদি জন্য ট্রেনিং দেওয়া হয়। তা ছাড়া পাঁচ বা দশ দিনের অনুষ্ঠানগুলিতে এই বিষয়গুলিই আরও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সেই সব অনুষ্ঠানে ব্যাঙ্কের আধিকারিকরাও উপস্থিত থাকেন, তাঁরা জানান কী ভাবে ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে সাহায্য করা হয়। পাশাপাশি মানুষকে এটাও বোঝানোর চেষ্টা করা হয় যে কী ভাবে স্বনির্ভর হওয়া যায়, কী ভাবে নিজের ব্যবসার মাধ্যমে ভালো আয় করা যায়, ইত্যাদি।

ট্রেনিং ক্লাসগুলি সম্পর্কে কী ভাবে জানা যায়? কতক্ষণের বা ক’দিনের হয় এই ক্লাস?

সাধারণ ভাবে সোম থেকে শুক্রবার দিনের বেলা এই ক্লাস করানো হয়। সময় থাকে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা। সাধারণ ভাবে শনি-রবিবার ক্লাস বন্ধ থাকে। প্রত্যেক ক্লাসের সময়সীমা দেড় ঘণ্টা।

এই ক্লাস শুরুর আগে ওয়েবসাইটে ও ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। তা ছাড়া বহু মানুষ নিজে থেকেও এই মাধ্যমগুলিতে আবেদন জানিয়ে থাকে। অন্য দিকে এমএসএমই-র সিস্টার কনসার্ন বর্তমানে প্রচুর ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা করছে। তার নাম এমএসএমই টুল রুম। এই টুল রুমের পক্ষ থেকে প্রত্যেক বার আলাদা ভাবে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়।

ডেপুটি ডিরেক্টর দেবব্রত মিত্র

এদের ওয়েবসাইটটি হল – www.msmedikolkata.gov.in, www.dcmsme.gov.in sisikolkata.gov.in

msmedikolkata facebook

এই ধরনের ট্রেনিং নিতে খরচ কী রকম থাকে?

খরচ খুব সামান্যই হয়। তপশিলি জাতি/উপজাতি ও মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে এই ট্রেনিং দেওয়া হয়। সাধারণদের জন্য এক দিনের কোর্স বিনামূল্যে করানো হয়। বেশি দিনের কোর্স হলে যেমন ১০ দিন বা ছ’সপ্তাহের কোর্সের ক্ষেত্রে ১০০ বা ২০০ টাকা ফি নেওয়া হয়। তবে এমএসএমই টুল রুমের কোর্সের ক্ষেত্রে খরচ একটু বেশি পড়ে। কারণ সেখানে প্রশিক্ষণের ব্যাপারে বেশি জোর দেওয়া হয়, অনেক ক্ষেত্রে ছ’মাসের কোর্সও থাকে। সেই সব ক্ষেত্রে ৫-৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়।

কী ধরনের শিল্পোদ্যোগ এই কার্যক্রমের মধ্যে পড়ে?

ম্যানুফ্যাকচারিং এন্টারপ্রাইজ ও সার্ভিস এন্টারপ্রাইজ – এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়। ট্রেনিং কিন্তু এমএসএমই-র আওতায় পড়ে না। দোকান খোলা বা কিছু বিক্রি করা এগুলি ট্রেনিং হয় কিন্তু এমএসএমই-র আওতায় পড়ে না। কিন্তু সার্ভিস এন্টারপ্রাইজ হিসাবে দেখলে পড়ে। উদাহরণ হিসাবে বলা যেতে পারে, হলুদ চাষ করাটা এমএসএমই-র আওতায় পড়ে না। কিন্তু হলুদ চাষ করে গুঁড়ো করে প্যাকেট করে সেই গোটা ব্যাপারটি এমএসএমই-র মধ্যে পড়ে।

আর্থিক সহযোগিতা বা লোনের ব্যবস্থা আছে?

না, এই সংস্থা হল টেকনিক্যাল কনসালটেন্সি অর্গানাইজেশন। ট্রেনিং-এর মাধ্যমেই সেগুলি শেখানো হয়। কিন্তু সরাসরি টাকা দিয়ে সাহায্য করা হয় না। তার জন্য ব্যাঙ্ক সাহায্য করে। তবে ব্যাঙ্কিং ফিনান্সের জন্য প্রোজেক্ট রিপোর্ট তৈরি করতে হলে সংস্থা সাহায্য করে।  

৫৯মিনিটস.কম সাইটটির সঙ্গে এর কোনো সংযোগ আছে কি?

৫৯মিনিটস.কম সাইটটির মিনিস্ট্রি অব ফিনান্সের। মিনিস্ট্রি অব এমএসএমই-র নয়।  

এই ধরনের সংস্থা থেকে ট্রেনিং নেওয়ার পর আর্থিক সহযোগিতা করে এমন কোনো সরকারি প্রকল্প বা উদ্যোগ আছে?

এমএসএমই প্রকল্প থেকে মুদ্রা স্কিমে সাহায্য পাওয়া যায়। মুদ্রা স্কিমে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সাহায্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া প্রাইম মিনিস্টার এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন প্রোগ্রাম। অর্থাৎ পিএমইজিপি। এখানে ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের ক্ষেত্রে ২৫ লক্ষ টাকা ও সার্ভিসিং-এর ক্ষেত্রে ১০ লক্ষ টাকা ব্যাঙ্কঋণ পাওয়া যেতে পারে। এগুলির জন্য অনলাইন আবেদন করা যায়। তা ছাড়াও তফশিলি ও মহিলাদের জন্য আরও একটি স্ট্যান্ডআপ ইন্ডিয়া স্কিম রয়েছে। এই স্কিমে সর্বাধিক এক কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যেতে পারে।

পড়ুন – দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন ১৪৯৩ পদে প্রার্থী চাইছে

Continue Reading

কথাবার্তা

খুন-সন্ত্রাস এড়িয়ে মানুষ ভোট দিতে পারলে আমার জয় নিশ্চিত: অশোক কান্ডারি

প্রচারের ফাঁকেই রোগী দেখার কাজটাও সেরে নিয়েছেন জয়নগরের বিজেপি প্রার্থী চিকিৎসক অশোক কান্ডারি। সপ্তম দফার ভোটের আগে তাঁর মুখোমুখো খবরঅনলাইনের প্রতিনিধি উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়

আপনি জয়নগর এলাকার একজন প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক। হঠাৎ রাজনীতিতে এলেন কেন? এসে কেমন লাগছে?

আমি চিকিৎসার পাশাপাশি দেশকে ভালোবাসি। যে কারণে এলাকার মানুষের উন্নয়ন করতে, মোদীজির স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে রাজনীতিতে চলে এলাম। বিজেপির তরফে আমাকে প্রার্থী করার প্রস্তাব এলে আমি গ্রহণ করি। এই দলের প্রার্থী হতে পেরে খুব ভালো লাগছে। গর্ব অনুভব করছি।

আপনার জন্ম আর পেশা সম্পর্কে কিছু বলুন…

আমার জন্ম ১৯৭৬ সালে, জয়নগর থানার (বর্তমানে বকুলতলা) উত্তর ঠাকুরচকে। আমি গত ২০ বছর ধরে রোগীর সেবায় কাজ করে চলেছি। ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত মন্দির বাজার ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ছিলাম। পরে বদলি হয়ে মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ার ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের দায়িত্ব পাই। কিন্তু আমি ওখানে কাজে যোগ না দিয়ে ইস্তফা দিই। এবং জয়নগরে এসে চিকিৎসা শুরু করি। এর পরে রোগীদের সেবার জন্য একটি নার্সিংহোম তৈরি করি। সেখানে এখনও চিকিৎসা করে চলেছি।

ভোটের ময়দানে নেমে পড়ার ফলে রোগী দেখার ক্ষেত্রে কি খুব অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে?

প্রচারের ফাঁকেও আমি এখনও প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে রোগী দেখছি। এতে আমার কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।

ভোটের প্রচারে সুন্দরবনের দুর্গম এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন আপনি। কেমন অনুভূতি হচ্ছে?

এখানে আমার নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হচ্ছে। তবে এই ভাবে ঘুরতে ঘুরতে সুন্দরবনের মানুষদের না পাওয়ার ব্যথা-বেদনাটা বেশি করে ভাবাচ্ছে আমায়। স্বাধীনতার এত বছর পরেও সুন্দরবনের উন্নয়ন থমকে আছে। এখানকার উন্নয়নের প্রধান বাধা পরিবহণ। সড়কপথ, সেতু আর রেলপথ খুবই প্রয়োজন। কুলতলি আর মৈপীঠের মানুষকে আজও কলকাতা যাওয়ার জন্য ট্রেন ধরতে নদী পেরিয়ে ক্যনিংয়ে আসতে হয়। এগুলির পরিবর্তন চাই।

আপনি জিতলে কী কী করতে চাইবেন?

সবার আগে সড়কপথ ও রেলপথের সমস্যা সমাধান। তার পর বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ। নদীবাঁধ সংস্কার, কলেজ নির্মাণ। গোসাবার মন্মথনগরের মানুষ আজও বিদ্যুৎ পরিষেবা পায়নি – এগুলির দিকে নজর দেব।

এই কেন্দ্রে আপনার দলের পুরানো কর্মীরা আপনার পাশে নেই কেন?

ভুল বোঝাবুঝি সব দলেই থাকে। একটু-আধটু মনমালিন্য থাকবেই। তবে আমি পুরানো কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের প্রচারে ফিরিয়ে আনছি। কারণ তাঁরাই দলের সম্পদ। তাঁদেরকে বাদ দেওয়া যায় না।

নিজের জয়ের ব্যাপারে কতটা নিশ্চিত আপনি?

সুন্দরবনের মানুষ খুন-সন্ত্রাস থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে পারলে ও গণতন্ত্র বজায় থাকলে আমার জয় কেউ আটকাতে পারবে না।

সুন্দরবনের ভোটারদের প্রতি আপনার করণীয়?

সুন্দরবনের মানুষের কাছ থেকে খেলাধুলো হারিয়ে যাচ্ছে। তাই খেলাধুলোর উন্নয়ন ও বেকারদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেব। এ ছাড়া কৃষকদের পাশে থেকে এবং সুন্দরবনের পর্যটনের আরও উন্নয়নের ইচ্ছা আছে।

তৃণমূল, আরএসপি, কংগ্রেস, এসইউসি-র প্রার্থীদের সম্পর্কে আপনার মতামত?

আমি কাদা ছোড়াছুড়িতে বিশ্বাস করি না। তাই তাঁদের সম্পর্কে মন্তব্য করতে চাই না।

নতুন ভোটারদের কাছে আপনার বার্তা?

সুন্দরবনের উন্নয়নের স্বার্থে আমাকে একবার জয়ী করুন। সব দলকে কাজের সুযোগ দিয়েছেন, একবার বিজেপিকে কাজের সুযোগ দিন। জয়নগর কেন্দ্রে পরিবর্তন আনুন। আমি আপনাদের সেবায় সারা বছর থাকব।

প্রচারে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

সুন্দরবনের মানুষের কাছ থেকে প্রচুর সাড়া পাচ্ছি। তাঁরা চান নিজের ভোট নিজে দিতে।

[ প্রার্থী হিসাবে নুসরত জাহানকে দরাজ সার্টিফিকেট সায়ন্তন বসুর! ]

Continue Reading

কথাবার্তা

প্রার্থী হিসাবে নুসরত জাহানকে দরাজ সার্টিফিকেট সায়ন্তন বসুর!

এ বারের লোকসভা ভোটে রাজ্য সংগঠনের দুই সাধারণ সম্পাদককে প্রার্থী করেছে বিজেপি। তাঁদেরই একজন সায়ন্তন বসু। বসিরহাটের প্রার্থী সায়ন্তন ইতিমধ্যেই খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন ‘বিতর্কিত’ মন্তব্যের জেরে। সে দিন আসলে কী বলতে চেয়েছিলেন তিনি, জানালেন খবর অনলাইন-কে।

কয়েক বছর ধরেই ঝাড়গ্রাম-পুরুলিয়ায় লাগাতার আন্দোলনে ছিলেন, দল আপনাকে বসিরহাটে প্রার্থী করল। নির্দিষ্ট কোনো কারণ রয়েছে?

আমি তো দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক। ফলে নির্দিষ্ট কোনো লোকসভার সাধারণ সম্পাদক নই। দল যেখানে প্রার্থী করতে চেয়েছে, সেখানেই প্রার্থী হয়েছি।

প্রচারে বসিরহাটের মানুষের কাছ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

প্রচারে তো আপনারা থাকছেন, দেখছেন। মানুষ আমাদের সমর্থন করছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে যাঁরা চান, সেই সব অগুন্তি মানুষ সভা-সমিতি-মিছিলে থাকছেন। সাংবাদিকরাই সাক্ষী থাকছেন, আমি নতুন করে কী আর বলব!

বসিরহাটের মানুষের কাছে দলের হয়ে কোনো কোন বার্তা তুলে ধরছেন?

বসিরহাটে বেসিক কতকগুলো সমস্যা রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা একটা বড়ো সমস্যা। সন্ধের পরে এলাকার মহিলারা বাড়ি থেকে বের হতে পারেন না। পানীয় জলের একটা বড়ো সমস্যা রয়ে গিয়েছে। এখানকার যুবকেরা বাইরের রাজ্যে কাজ করতে যান। মহারাষ্ট্র, গুজরাত, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, অসম, ঝাড়খণ্ড, বিহারে কাজ করতে যান এঁরা। আসলে এত দিনেও স্থানীয় স্তরে শিল্প-পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। তবে কিছু চপ-মুড়ি শিল্প রয়েছে, কিছু বোমা তৈরির শিল্প রয়েছে, এ কথা স্বীকার করতেই হবে। কিছু ভেড়িও রয়েছে, কিন্তু এর বাইরে বসিরহাটে কোনো স্থানীয় কর্মসংস্থানের ব্যপারই নেই। এই বিষয়গুলিকেই তুলে ধরছি। পাশাপাশি রয়েছে, উন্নয়নের বিষয়ও। এখানকার শিল্প-পরিকাঠামো নিয়ে কেউ চিন্তা করেনি। যিনি এর আগে পাঁচ বছর এলাকার সাংসদ ছিলেন, তিনি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বা এখানে রাজ্য সরকারের কাছে বসিরহাটের উন্নয়ন নিয়ে একটি কথাও বলেননি। আমার প্রাথমিক কাজই হবে, সেই উন্নয়নের বিষয়গুলোকে তরাণ্বিত করা। সেগুলোকেই মানুষের সামনে তুলে ধরা এবং সরকারের কাছে সেই প্রস্তাবগুলো পেশ করা।

গতবার বসিরহাট থেকে তৃণমূলের বিদায়ী সাংসদ জিতেছিলেন প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার ভোটের ব্যবধান। ছবিটা কী বদলাবে?

মানুষ সিদ্ধান্ত নেবেন। নরেন্দ্র মোদীর প্রতি বহু মানুষের সমর্থন বেড়েছে। নতুন করে সমর্থন বাড়ছে। আমাদের বিশ্বাস, শুধু বসিরহাট কেন্দ্র কেন, পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীরা জয়লাভ করবেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আপনার বসিরহাট কেন্দ্রে সংখ্যালঘু ভোট একটা ফ্যাক্টর। বিষয়টাকে কোনো বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন?

সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু, সব ভোটই বিজেপি পাবে। বসিরহাটবাসীর উন্নয়নের স্বার্থে মানুষ ভোট দেবেন। আমরা এ রকম আলাদা করে কিছু দেখি না। আমাদের লক্ষ্য, সকলের উন্নতি। সকলকে সঙ্গে নিয়েই চলতে হবে। মোদীজি আগেই বলেছেন- সব কা সাথ, সব কা বিকাশ। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

আপনার উল্টো দিকে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের প্রার্থী রাজনীতিতে আনকোরা, কী ভাবে দেখছেন বিষয়টাকে?

যে কেউ প্রার্থী হতেই পারেন। প্রার্থী হতে আপত্তি কোথায়। কেউ কবিতা লিখেও প্রার্থী হতে পারেন, কেউ গান করেও প্রার্থী হতে পারেন। আবার চিকিৎসক কিংবা আইনজীবীও প্রার্থী হতে পারেন। একটা কথা স্পষ্ট, তিনি তাঁর দলের কথা বলবেন, আমি আমার দলের কথা বলব। লড়াইটা এক দলের নীতির সঙ্গে আর এক দলের। এর থেকে বেশি কিছু নয়।

প্রচারে আপনার একটা মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিচার্য বিষয় সেটা। কিন্তু আপনি সে দিন আদতে কী বলতে চেয়েছিলেন?

দেখুন, বসিরহাটের বিস্তীর্ণ যে এলাকা, সেখানে ভোটের যে ব্যবস্থা ভেঙে ফেলা হয়েছে। তৃণমূলের আশ্রিত কিছু দুষ্কৃতী, গুন্ডা, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। পাশাপাশি তাদের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড কেড়ে নিচ্ছে। বিজেপির কর্মীরা দেওয়াল লিখতে গেলেও তাঁদের মারধর করা হচ্ছে। অন্য দিকে যাঁরা মার খাচ্ছেন, তাঁদের নামেই থানায় এফআরআই দায়ের হচ্ছে। পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করছে। আমাদের কার্যকর্তারা থানায় এফআরআই দায়ের করতে গেলে তাঁদের থানায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ওসি নিজের চেয়ারে বসে রয়েছেন। তাঁকে ফোন করলে বলা হচ্ছে, আপনারা থানায় আসবেন না। আপনাদের এফআরআই নেওয়া হবে না। আপনাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যাপারটা ভেবে দেখুন, কোথায় রয়েছি আমরা? স্বাভাবিক ভাবেই একটা ক্ষোভের বাতাবরণ রয়েছে। আমি তো একজন প্রার্থী। আমি মানুষের কথা ভেবেই বলেছি। তবে আমার ১৫ মিনিটের বক্তব্যকে কেটে ২ মিনিটে নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু মানুষ জানে, এই ২ মিনিটের বক্তব্য দেখিয়ে তো কিছু হবে না। পুরো বিষয়টাকে দেখতে হবে। ফলে আমার যেটা বলার ছিল, সেটাই বলেছি।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় কি আপনারা খুশি?

এখনও খুশি নই। তবে আশাকরি খুশি হব। আমরা চাই, সিআরপিএফ থাকুক। মানুষের যে আত্মবিশ্বাস, সেটাকে তারা শক্তিশালী করুক। ব্লকে-ব্লকে ঘুরুক, গ্রামে-গ্রামে ঘরুক। বিশেষ করে হিঙ্গলগঞ্জের ভবানীপুর, কিংবা মিনাখা, সন্দেশখালির বিস্তীর্ণ এলাকায় বা পারহাসনাবাদ- এ সব জায়গায় ভোট হয় না। মানুষকে ভোট দিতে দেওয়া হয় না। ভোটারদের কাছ থেকে পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়া হয়। সেখানে বিরোধী দলের সমর্থকদের বাড়িতে থাকার অধিকার নেই। সেই জায়গাগুলিতে যদি এখন থেকে আধাসেনা না পৌঁছায়, তা হলে মানুষের আত্মবিশ্বাসকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা খুবই কঠিন। গত পঞ্চায়েত ভোটে আমরা দেখেছি, কী ভাবে গণতন্ত্র লুণ্ঠন করা হয়েছে। তার পুনরাবৃত্তি যেন লোকসভা ভোটে না হয়। এটা সরকার, পুলিশ-প্রশাসন, নির্বাচনী আধিকারিক এমনকী প্রার্থী – সকলেরই ভাবা উচিত।

প্রচারে বেরিয় কি কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে?

ব্যক্তিগত ভাবে আমি হইনি। তবে আমার দলের কর্মীরা হচ্ছেন। আজই (মঙ্গলবার) সন্দেশখালি থানায় এফআরআই হয়েছে। আমাদের কর্মীদের মারধরের অভিযোগ নিয়ে আমি রিপোর্ট তৈরি করেছি। কিন্তু সে ভাবে এখানে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের কাছে নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করছি।

তা হলে ভোটের ফল?

রাজ্যের ৪২টা আসনের মধ্যে বেশিরভাগেই জিতবে বিজেপি। বসিরহাট-সহ উত্তর ২৪ পরগনার পাঁচটা লোকসভা আসনেই জিতবে বিজেপি।


আরও পড়ুন: সাংসদ হয়ে বসিরহাটের মানুষের জন্য প্রথম কী কাজ করবেন, জানালেন তৃণমূল প্রার্থী নুসরত জাহান

Continue Reading
Advertisement
দেশ23 hours ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ২৪৮৭৯, সুস্থ ১৯৫৪৭

কলকাতা2 days ago

কলকাতায় লকডাউনের আওতায় পড়া এলাকাগুলির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশিত

দেশ3 days ago

দ্রুত গতিতে বাড়ছে সুস্থতা, ভারতে এক সপ্তাহেই করোনামুক্ত লক্ষাধিক

রাজ্য3 days ago

পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু জায়গায় ফের কড়া লকডাউনের জল্পনা

বিদেশ3 days ago

অনলাইনে ক্লাস করা ভিনদেশি পড়ুয়াদের আমেরিকা ছাড়তে হবে, নির্দেশ ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের

ক্রিকেট2 days ago

১১৬ দিন পর শুরু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, হাঁটু গেড়ে বসে জর্জ ফ্লয়েডকে স্মরণ ক্রিকেটারদের

রাজ্য3 days ago

বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা থেকে রাজ্যের কনটেনমেন্ট জোনগুলিতে কড়া লকডাউন

কেনাকাটা3 days ago

বাচ্চার জন্য মাস্ক খুঁজছেন? এগুলোর মধ্যে একটা আপনার পছন্দ হবেই

কেনাকাটা

কেনাকাটা10 hours ago

ঘরের একঘেয়েমি আর ভালো লাগছে না? ঘরে বসেই ঘরের দেওয়ালকে বানান অন্য রকম

খবরঅনলাইন ডেস্ক : একে লকডাউন তার ওপর ঘরে থাকার একঘেয়েমি। মনটাকে বিষাদে ভরিয়ে দিচ্ছে। ঘরের রদবদল করুন। জিনিসপত্র এ-দিক থেকে...

কেনাকাটা3 days ago

বাচ্চার জন্য মাস্ক খুঁজছেন? এগুলোর মধ্যে একটা আপনার পছন্দ হবেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিউ নর্মালে মাস্ক পরাটাই দস্তুর। তা সে ছোটো হোক বা বড়ো। বিরক্ত লাগলেও বড়োরা নিজেরাই নিজেদেরকে বোঝায়।...

কেনাকাটা4 days ago

রান্নাঘরের টুকিটাকি প্রয়োজনে এই ১০টি সামগ্রী খুবই কাজের

খবরঅনলাইন ডেস্ক : লকডাউনের মধ্যে আনলক হলেও খুব দরকার ছাড়া বাইরে না বেরোনোই ভালো। আর বাইরে বেরোলেও নিউ নর্মালের সব...

কেনাকাটা5 days ago

হ্যান্ড স্যানিটাইজারে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে অ্যামাজন

অনলাইনে খুচরো বিক্রেতা অ্যামাজন ক্রেতার চাহিদার কথা মাথায় রেখে ঢেলে সাজিয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সম্ভার।

নজরে