Mriganko-Mahato
ভোটপ্রচারে তৃণমূল পুরুলিয়ার তৃণমূল প্রার্থী

এক দিকে যেমন পেশায় তিনি এলাকার নামকরা ডাক্তার, অন্য দিকে আবার তিনি বিদায়ী সাংসদ । এ বারের লোকসভা ভোটে পুরুলিয়ার তৃণমূল প্রার্থী মৃগাঙ্ক মাহাতোর মুখোমুখি খবর অনলাইনের প্রতিনিধি শুভদীপ চৌধুরী।

রাজনীতিতে প্রবেশ বাবা সনাতন মাহাতোর সৌজন্যেই। বাবা কংগ্রেস আমল থেকেই ছিলেন মন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার পরই তিনি ছিলেন পুরুলিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের আর সেই সূত্রেই ২০১৪ সালে তৃণমূলে প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ডা. মৃগাঙ্ক মাহাতো ।

গত পাঁচ বছর আপনিই ছিলেন এলাকার সাংসদ। কী কী কাজ জেলায় হয়েছে?

পুরুলিয়া জেলায় প্রচুর পর্যটক আসেন, তাই ইতিমধ্যেই দাবি করেছি সার্কিট হাউস গড়ে তোলার। এ ছাড়াও জেলায় কোল্ড স্টোরেজের অভাব রয়েছে, তা আরও যাতে বৃদ্ধি করা হয় সে জন্যে দাবি রেখেছি। পাশাপাশি জেলায় সেচের সমস্যা মেটানোর জন্য, পুরুলিয়া, আদ্রা, ঝালদা-সহ বিভিন্ন জায়গায় রেলের সমস্যার সমাধানের জন্যও আবেদন করেছি। একই সঙ্গে আন্ডারপাস, ফ্লাইওভারের জন্য, কিছু ট্রেন বাড়ানো ও নতুন ট্রেনের জন্যও আবেদন করেছি। এগুলির মধ্যে কিছু দাবি সফল হয়েছে এবং কিছু পূরণ হবে বলে আশা রাখছি ।

আপনার এলাকায় রাজ্যের কন্যাশ্রী, যুবশ্রী বা অন্যান্য প্রকল্পগুলি কতখানি সফল?

মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর তৈরি করা এই প্রকল্পগুলি জেলায় সকলেই পাচ্ছেন। যাঁরা পাননি তাঁদের আবেদন খতিয়ে দেখে পাইয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে। এই প্রকল্পগুলি থেকে যাতে কোনো একজনও যোগ্য প্রাপক বঞ্চিত না হন, সে দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা হয়েছে।

পঞ্চায়েত ভোটের সময় থেকেই তো বিজেপি পুরুলিয়া জেলায় সংগঠন শক্তিশালী করছে?

পঞ্চায়েত ভোট ছিল স্থানীয় নির্বাচন, স্থানীয় তৃণমূল নেতা বা কর্মীদের ওপর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে বিজেপি কিছু কিছু জায়গায় নির্বাচনে অশান্তির সৃষ্টি করে। কিন্তু এটা জাতীয় স্তরের নির্বাচন, তাই মানুষ সঠিক ভাবে আমাদের বেছে নেবেন, এটাই আশা রাখি ।

পানীয় জলের সমস্যা পুরুলিয়া জেলায় দীর্ঘদিনের, সমস্যার সমাধানে কতটা সফল আপনারা?

জেলায় পানীয় জলের সমস্যা ছিল সত্যি কথা, কিন্তু বর্তমানে তা আর নেই । জায়গায় জায়গায় বসানো হয়েছে পাইপলাইন, কোথাও আর জলের সমস্যা নেই বললেই চলে। যে দু’-একটা জায়গায় সমস্যা রয়ে গেছে তা সমাধানের জন্য ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছি আমরা। ফুটিয়ারি ড্যাম, মানবাজার ড্যাম ও অন্যান্য উৎস থেকে জল নিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে সমস্ত গ্রামে ।

অযোধ্যা পাহাড়ে টুরগা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃতিকে ধ্বংস করতে চাইছে প্রশাসন। এই বিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

অযোধ্যায় প্রথম থেকেই এই প্রকল্পের জন্য বিরুদ্ধাচার করছেন স্থানীয়রা। কিন্তু আমরা ফরেস্ট রেঞ্জারকে বলেছি, যত গাছ কাটা হচ্ছে তার দ্বিগুণ গাছ লাগাতে। সুবিধা-অসুবিধা আমরা আলোচনা করে মিটিয়ে নিতে চাইছি। মানুষ যদি নিজে চায়, এলাকায় উন্নতির স্বার্থে প্রকল্প হোক, তবে অবশ্যই তা হবে। আবার তারাই যদি প্রকল্প হতে না দিতে চায়, তা হলে প্রকল্প হবে না।

লোকসভায় আপনি কতটা সফল ও জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া কী?

জেলার সমস্ত জায়গায় আমরা প্রচার করেছি, ইতিমধ্যে পুরুলিয়ার ভাঙড়া ও পারা অঞ্চলে ঘুরে গেছেন সাংসদ তথা রাজ্য তৃণমূল যুবনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে অনুপ্রেরণা করেই জেলায় মানুষের ঘরে ঘরে ঘুরে, সকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত ঘুরে চলছে নির্বাচনী প্রচার। মানুষ প্রচণ্ড ভাবে আমাদের চাইছে। মানুষের পাশে আমরা আছি ও থাকব এটাই বার্তা দিতে চাই।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here