ফাল্গুনেই রেকর্ড ভাঙা শ্রাবণধারা কি অস্বাভাবিকতার লক্ষ্মণ?

0
rain in west bengal
গত চার দিন ধরেই এই উদ্যোমেই বৃষ্টি হয়েছে।

ওয়েবডেস্ক: গত চার দিনে গরমকালের সঙ্গে বর্ষাকালও দেখে ফেলল কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একটা বিস্তীর্ণ অঞ্চল। প্রথমে শুরু হয়েছিল কালবৈশাখী ঝড় দিয়ে, তার পর চলে এল বেদম বৃষ্টি। যে বৃষ্টি একমাত্র বর্ষাকাল বা নিম্নচাপের সময়েই দেখা যায়। এই চার দিনের বৃষ্টি অতীতের সব রেকর্ডও ভেঙে দিল।

গোটা রাজ্য জুড়েই ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে। উত্তরবঙ্গে শিলাবৃষ্টি হচ্ছে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। কিন্তু বৃষ্টির সব থেকে বেশি তেজ ছিল কলকাতার এবং তার আশেপাশের জেলাগুলিতে। বুধবার রাতেও ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে উপকূলবর্তী অঞ্চলে।

Loading videos...

একটি পরিসংখ্যান দিলে আপনার চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যেতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় ক্যানিং-এ ১২৬ এবং ডায়মন্ড হারবারে ১৩৪ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। কলকাতায় তুলনায় কম (৬৮ মিমি) বৃষ্টি হলেও দক্ষিণ এবং উত্তরের শহরতলিতেও ব্যাপক বৃষ্টি হয়। সব মিলিয়ে গত চার দিনে কলকাতায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৬২ মিমি। ডায়মন্ড হারবার, ক্যানিং এবং দিঘায় বৃষ্টি হয়েছে যথাক্রমে ১৯২, ১৮৮ এবং ৯৭ মিমি। উল্লেখ্য ফেব্রুয়ারিতে এই সব অঞ্চলে গড়ে ২১ থেকে ২২ মিমি বৃষ্টি হওয়ার কথা।

দুই মেদিনীপুরেও বৃষ্টির দাপট যথেষ্ট বেশি ছিল। গড়ে ৮০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে এই দুই জেলায়। যার ফলে এ দিন সকালেই বিপত্তি ঘটে ঘাটালে। নদীর জলের তোড়ে ভেসে যায় শিলাবতীর ওপরে বেশ কয়েকটি বাঁশের সেতু।

এই বৃষ্টির দাপটে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি এখন চূড়ান্ত বাড়তি। ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির পরিসংখ্যান বলছে কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে স্বাভাবিকের থেকে ২৭৬% শতাংশ বেশি, উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণায় বৃষ্টি পরিমাণ যথাক্রমে ৩৪৫%এবং ৩৭৫% বেশি। কোন জেলায় বৃষ্টি কত বেশি, সেটা দেখে নিন এই ছবিতে। সৌজন্য: আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

গত মরশুমে বর্ষায় সে ভাবে বৃষ্টি পায়নি দক্ষিণবঙ্গ। ফলে মাটিতে নীচের জলের স্তর কমে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা ছিল। গরমকালের আগে এই পরিমাণ বৃষ্টিতে সেই আশঙ্কা কাটল বলেই মনে করা যায়।

কিন্তু কথা হল, ফাল্গুনে এই শ্রাবণের ধারায় কোনো রকম অস্বাভাবিকতা আছে কি?

কিছুটা অস্বাভাবিকতা যে আছে সেটা মেনে নিয়েছে বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমা। কারণ যে পরিস্থিতিতে গত চার দিন এ ভাবে বৃষ্টি হল, সেই পরিস্থিতি অন্তত ফাল্গুনে খুব একটা দেখা যায় না বলেই মনে করেন সংস্থার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা।

তিনি বলেন, “উত্তরপূর্ব ভারতের ওপরে একটি ঘূর্ণাবর্ত এবং বঙ্গোপসাগরের ওপরে একটি বিপরীত ঘূর্ণাবর্তের ফলে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প এমনিতেই ঢুকছিল। সেই জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কমার লক্ষ্মণ দেখা দেওয়ার সময়েই এগিয়ে এল একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। ঝঞ্ঝা এবং জলীয় বাষ্পের প্রভাবে বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গ, বিশেষত কলকাতার ওপরেই তৈরি হয়ে গেল একটি শক্তিশালী নিম্নচাপ অক্ষরেখা।”

এই অক্ষরেখার প্রভাবেই এই তুমুল বৃষ্টি বলে জানান তিনি। এখনই এটাকে জলবায়ু পরিবর্তনের চিহ্ন বলতে রাজি না হলেও, ব্যাপারটা যে চিন্তার সেই কথাটা তিনি বা আরও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ বলছেন।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন