তিস্তার জলে ডুবে গেল জাতীয় সড়ক, প্রচুর জায়গায় ধস, বৃষ্টি থামছে না উত্তরবঙ্গে

0

শিলিগুড়ি: ভয়াবহ পরিস্থিতি গোটা উত্তরবঙ্গে। বৃষ্টি থামার কোনো নামগন্ধই নেই। বরং মঙ্গলবার রাতেও ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে গিয়েছে। বৃষ্টির জেরে বিভিন্ন জায়গায় ধস নেমেছে।

বৃষ্টিতে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কালিম্পং এবং গ্যাংটকগামী ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। সেখানে ২৯ মাইল অঞ্চলে কিছু জায়গায় তিস্তার জলে ভেসে গিয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, টানা বৃষ্টি সত্ত্বেও মঙ্গলবার বিকেল তিনটে পর্যন্ত এই রাস্তা খোলা রাখা হয়েছিল। কিন্তু তার পরেই রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

কালিম্পঙের পুলিশ সুপার মঙ্গলবার রাতে এক জরুরি বার্তায় জানিয়েছেন, বাসিন্দা বা পর্যটকদের কেউ যেন এলাকা না ছাড়েন। জেলা প্রশাসন আশঙ্কা করছে, বৃষ্টি চলতে থাকলে আরও নতুন এলাকায় ধস নামতে পারে।

এখন পর্যন্ত বিপর্যয়ে এক জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। মঙ্গলবার দুপুরে কালিম্পং থেকে গরুবাথান আসার পথে লাভা রোডের ৩ মাইলে একটি ছোট গাড়ির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা মেরে খাদে পড়ে যান। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত গাড়ি চালকের নাম কৈলাস বর্মণ।

দার্জিলিং জেলার ধোতরে, মানেভঞ্জন, রিমবিক, গোক, বিজনবাড়ি এলাকা থেকে ধসের খবর এসেছে। ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়ক, পাঙ্খাবাড়ি এবং রোহিণী রোড খোলা থাকলেও একাধিক জায়গায় ছোটো ছোটো ধস রয়েছে। মিরিকের থরবু এবং ওকাই চা বাগান এলাকায় ধসে বেশ কিছু বাড়ির ক্ষতি হয়েছে। কালিম্পঙের লাভা এবং রিশপের মাঝে পর্যটকদের গাড়ি ধসে আটকে পড়ে। পরে তা উদ্ধার করা হয়।

বৃষ্টিপাতের পরিমাণ

গত ২৪ ঘণ্টায় সব থেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে দার্জিলিংয়ে। সেখানে ২৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত দার্জিলিংয়ে আরও ১৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টি। অর্থাৎ সোমবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত দার্জিলিংয়ে বৃষ্টি হয়েছে ৪০০ মিলিমিটার।

অন্যদিকে, কালিম্পংয়ে বৃষ্টি হয়েছে ১৯৯ মিলিমিটার। সোমবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত এই শৈলশহরে বৃষ্টি হয়েছে ৩৩৫ মিলিমিটার। এ ছাড়া, বিজনবাড়ি, তাকদাহ, গোরুবাথান, লাভার মতো জায়গাতেও সোমবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত গড়ে তিনশো মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে সমতলেও। শিলিগুড়িতে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৯৫ এবং জলপাইগুড়িতে ১৫১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

পাহাড়ের পর সমতলেও বিপদের আশংকা

তিস্তার জল যে ভাবে বাড়ছে, তাতে সমতলেও বিপদের আশংকা রয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে তিস্তা নদীর জল ভয়ানকভাবে বেড়েছে। তিস্তাবাজারের কাছে ত্রিবেণী এলাকায় জল রাস্তা দিয়ে বইতে শুরু করে। বাসিন্দাদের সতর্ক করতে পুলিশ মাইকিং শুরু করে রাতেই। ওই সব এলাকা থেকে মানুষজনকে ত্রাণ শিবিরেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

তিস্তার জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় এর জেরে জলমগ্ন হওয়ার সম্ভবনা বেড়েছে জলপাইগুড়ি জেলার বেশ কয়েকটি ব্লকে। জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের পাটকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের মানুষজনকে ইতিমধ্যেই ত্রাণ শিবিরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে।

ময়নাগুড়ি এবং ক্রান্তি ব্লকেরও নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জলপাইগুড়ি জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু। ময়নাগুড়িতে জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শনেও গিয়েছিলেন তিনি।

বুধবারও বৃষ্টি চলবে

সব থেকে চিন্তার বিষয় হল বৃষ্টি এখনও থামেনি উত্তরবঙ্গে। বুধবারও সারা দিনই দফায় দফায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশংকা রয়েছে।

যে নিম্নচাপের প্রভাবে এই ভয়াবহ বৃষ্টিটা হচ্ছে, সেটি এখন রয়েছে বিহার এবং সন্নিহিত উত্তরবঙ্গের ওপরে। আগামী দিনে সেটি ক্রমশ পূর্বে সরবে। অর্থাৎ উত্তরবঙ্গ হয়ে সে অসম, অরুণাচল প্রদেশের দিকে এগিয়ে ক্রমশ দুর্বল হতে পারে।

এর কারণেই বুধবারও উত্তরবঙ্গে দফায় দফায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার থেকে উন্নতি হবে আবহাওয়ার। তবে তার আগে চলতি বৃষ্টিটা কী ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করে দেয় এখন সেটাই দেখার।

আজকের আরও কিছু উল্লেখযোগ্য খবর পড়ুন এখানে:

টেস্ট বৃদ্ধির ফলে সংক্রমণ সামান্য বাড়লেও তা থাকল ১৫ হাজারের নীচেই, আরও কমল সক্রিয় রোগী

বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ডের মৃত ৩৪, নিরাপদে উদ্ধার করা হল বাঙালি পর্যটকদের

নাইট কার্ফু-সহ বেশ কিছু বিধিনিষেধ বৃহস্পতিবার থেকে ফিরছে পশ্চিমবঙ্গে

নতুন দল তৈরির ঘোষণা, বিজেপির সঙ্গে জোটেও যেতে চান অমরিন্দর সিংহ

স্বস্তি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক কমল সংক্রমণের হার, কলকাতাতেও নতুন আক্রান্তের সংখ্যায় পতন

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন