নিম্নচাপের গতিপথের কারণে চরম অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়, ভ্রূকুটি বন্যারও

0

খবরঅনলাইন ডেস্ক: উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়ে গিয়েছে নিম্নচাপ। সে এখনও দক্ষিণবঙ্গের থেকে অনেকটা দূরে থাকলেও ইতিমধ্যেই তার খেল শুরু হয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ভারী বর্ষণ হয়েছে।

এই নিম্নচাপটি এ বার বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে দক্ষিণবঙ্গে। তৈরি হতে পারে বন্যা পরিস্থিতি। এর মূল কারণ হল তার গতিপথ। অন্যান্য নিম্নচাপের থেকে এর গতিপথ অনেকটা আলাদা হওয়ার কারণেই দক্ষিণবঙ্গে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

Loading videos...

বর্তমান নিম্নচাপের গতিপথ কী, কেন তা আগের থেকে আলাদা

নিম্নচাপটি এখনও স্থলভাগে প্রবেশ করেনি। সে রয়েছে উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগরে। মনে করা হচ্ছে, বরিশাল এবং চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী কোনো অঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশের স্থলভাগে প্রবেশ করবে সে। স্থলে প্রবেশ করার সময় সে কিছুটা শক্তি বাড়িয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপের রূপ নিতে পারে।

এর পর তার গতিমুখ হতে পারে পশ্চিমবঙ্গের দিকে। উত্তর ২৪ পরগণা-নদিয়া হয়ে সে এ রাজ্যে প্রবেশ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর পর ক্রমশ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিমমুখী হবে নিম্নচাপটি। ফলত, সে পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, পুরুলিয়া হয়ে এগিয়ে যাবে ঝাড়খণ্ডের দিকে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর না জানালেও বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমা মনে করছে দক্ষিণবঙ্গের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় নিম্নচাপটি আরও কিছুটা শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপের রূপও নিতে পারে।

উল্লেখ্য, বর্ষার নিম্নচাপগুলি সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে যায় না। কিছু দিন আগেও যে নিম্নচাপটি তৈরি হয়েছিল সেটি ওড়িশা দিয়ে প্রবেশ করে মধ্য ভারতের দিকে এগিয়ে গিয়েছিল। বেশির ভাগ নিম্নচাপই সেই পথ অনুসরণ করে। কিন্তু এই নিম্নচাপটি এক্কেবারেই আলাদা।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে জুলাইয়ের শেষে ঠিক এই রকম পথই অনুসরণ করেছিল আরও একটি নিম্নচাপ। সেই নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’-এ পরিণত হয়ে যায়। তার পর বাংলাদেশে আঘাত হেনে দুর্বল নিম্নচাপ হয়ে এ রাজ্যে ঢোকে। কিন্তু তার প্রভাবে রেকর্ডভাঙা বর্ষণ হয়েছিল দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি অঞ্চলে।

চলতি নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেবে না ঠিকই, কিন্তু তার গতিপথ ‘কোমেন’-এর সঙ্গে মিলে যাওয়ায় দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে এ রাজ্যে।

পূর্বাভাসে কী বলা হয়েছে

এই নিম্নচাপের কারণে উদ্বেগজনক পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার চরম অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে উত্তর ২৪ পরগণা, নদিয়া, দুই বর্ধমান এবং বীরভূমে। এ ছাড়া, অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া জেলায়। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলায় ভারী বর্ষণ হতে পারে।

বৃহস্পতিবার বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের কিছু অংশে চরম অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি এবং বীরভূমে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। বাকি জেলাগুলিতে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমতে পারে দক্ষিণবঙ্গে। তবে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২৪ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে বলে ভারী বর্ষণ, ১৩১ থেকে ২০০ মিলিমিটার হলে তাকে বলে অতি ভারী বর্ষণ। আর এক দিনে যদি ২০১ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টি হয়, তা হলে তাকে বলে চরম অতি ভারী বর্ষণ।

এই বৃষ্টি ছাড়াও ঝোড়ো হাওয়া থাকবে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে। ইতিমধ্যেই মঙ্গলবার রাত থেকেই ঝোড়ো হাওয়া বইছে কলকাতায়।

বন্যার ভয় কেন

তবে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টি দিয়েই ক্ষান্ত হবে না এই নিম্নচাপ। এর গতিপথে সরাসরি পড়বে ঝাড়খণ্ড, বিশেষ করে দামোদর অববাহিকা অঞ্চল। বৃহস্পতিবার ঝাড়খণ্ডেও চরম অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বুধবার এবং শুক্রবারও অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এই চরম বৃষ্টিই দক্ষিণবঙ্গের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। এ বার শুরু থেকেই দক্ষিণবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডে বর্ষা সক্রিয়। ফলে দামোদর এবং তার শাখা নদীগুলি প্রায় ভরতি হয়ে রয়েছে। এর পর এক দিনে দুশো মিলিমিটারের মতো বৃষ্টি মাইথন, পাঞ্চেত, তিলাইয়া, চাণ্ডিল, মুকুটমণিপুর বা তিলপাড়ার মতো জলাধার রেকর্ড করে, তা পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে যে মারাত্মক উদ্বেগের পরিস্থিতি তৈরি হবে তা বলাই বাহুল্য।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, পূর্বাভাসমতো বৃষ্টি সত্যি হলে হুগলি, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগণা, নদিয়া, দুই বর্ধমান এবং বাঁকুড়ায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

আরও পড়তা পারেন কেরলে আক্রান্ত ২২ হাজার, বাকি দেশে ২১ হাজারের কিছু বেশি

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন