ফ্যাক্ট চেকিংয়ের নামে অপেক্ষাকৃত ছোটো সংবাদ মাধ্যমগুলিকে বিপাকে ফেলার কৌশল?

0
Fish
প্রতীকী ছবি,জেডিনেট থেকে

ওয়েবডেস্ক: ভুয়ো খবর ছড়ানোর বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি। সরকারি ভাবেও এ ধরনের প্রচার রুখতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে। তবে এতকিছুর পরেও মাঝেমধ্যেই বিভ্রান্তিবশত ফাঁকফোকর গলে ভুয়ো খবরও ভাইরাল হয়। গত সপ্তাহে তেমনই একটা খবর অনবধানতাবশত ঠাঁই পেয়ে যায় খবরঅনলাইনে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার হাত ধরে জাতীয় সংবাদ মাধ্যমের পোর্টাল মারফত সেই প্রতিবেদন বিভিন্ন আঞ্চলিক পোর্টালেও জায়গা করে নেয়। কিন্তু ইন্ডিয়া টুডে ফ্যাক্ট চেকিং নামের এক সংস্থা ডজনখানেক পোর্টালকে ছেড়ে দিয়ে খবর অনলাইনকে বেছে নেয় কুৎসা রটানোর জন্য। কী সেই কুৎসা?

কুৎসার বিশদ তথ্যে নজর দেওয়ার আগে দেখে নিতে হবে ওই ভুয়ো খবরটি। বৃহৎ সংবাদ সংস্থাগুলির মাধ্যমে গত সপ্তাহে দক্ষিণ আয়ারল্যান্ডের কয়েক হাজার ভেড়া সম্পর্কে একটি ‘অনিয়ন্ত্রিত যৌনক্রিয়া’র ভুয়ো খবর পড়েছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দক্ষিণ আয়ারল্যান্ডের কয়েক হাজার ভেড়া রিঙ্গাস্কিডি হারবারের জল পান করার পরে এক সপ্তাহব্যাপী নিয়ন্ত্রণহীন যৌনক্রিয়া চালিয়ে যায়। ওই পোতাশ্রয়টির জলে ভায়াগ্রা মিশে যাওয়ায় তা দূষিত হয়ে গিয়েছিল।

আইএএনএস-এর একটি ব্যঙ্গাত্মক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ড নিউজ ডেইলি রিপোর্ট থেকে পোস্ট করা গল্পটি দ্রুত আউটলুক, টাইমস অব ইন্ডিয়া, টাইমস নাও, নিউজ ১৮, দ্য কুইন্ট এবং গাল্ফ নিউজ-সহ বড়োসড়ো নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত হয়েছিল।

এই ছবি পাওয়া গিয়েছে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন থেকে

এই পোর্টালগুলির পাশাপাশি, মরাঠি মিডিয়া আউটলেট লোকমত, দ্য ফ্রাসট্রেটেড ইন্ডিয়ান, মুম্বই মিরর এবং ইনশর্টসও এটি প্রকাশ করেছে। অন্যান্য আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের রেশ ধরেই খবরঅনলাইনেও ওই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

দুর্ভাগ্যের বিষয় এটাই যে, খবর অনলাইন প্রতিবেদনটি অনবধানতাবশত প্রকাশ করে। তবে একই সঙ্গে বাংলার আরও বেশ কয়েকটি নিউজ পোর্টাল খবরটি তুলে ধরে। এমনকী জাতীয় স্তরের জি নিউজ ইন্ডিয়ার বাংলা পোর্টাল জি ২৪ঘণ্টাতেও ওই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

কিন্তু ডেইলি ও বাংলা নামে একটি পোর্টাল খবর আনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনটির স্ক্রিনশট-সহ ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

জানা যায়, এটি জাতীয় স্তরের সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের বাংলা পোর্টাল। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে পোর্টালটি দীর্ঘদিন কোনো সংবাদ আপডেট না করে শুধুমাত্র ফ্যাক্ট চেক করে থাকে। পোর্টালে যেমন কোনো সংবাদ আপডেট নেই, তেমন পোর্টালটিতে উল্লেখিত ফেসবুক পেজেও কোনো আপডেট নেই গত আগস্ট মাসের পর থেকে।

এ বার আসা যাক কুৎসা রটানোর বিষয়টিতে। এ কথা নতুন করে বলার নয়, খবর অনলাইন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে ভুয়ো খবরের জালে পা দিয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই অন্য়ান্য পোর্টালের মতোই খবর অনলাইন প্রতিবেদনটি তুলে নেয়। প্রতিবেদনটি ডিলিট করার পর পাঠকের কাছে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে আরও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। কিন্তু সেই ভুয়ো খবরের ফ্যাক্ট চেকিংয়ের নামে ইন্ডিয়া টুডের ওই বাংলা পোর্টাল যে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে খবর অনলাইনের বৃহত্তর ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করেছে, সেটা একপ্রকার স্পষ্ট। এমন দাবির সত্যতা প্রমাণিত হয় ফ্যাক্ট চেকিংয়ের প্রতিবেদনটির ইউআরএল থেকেই।

ফ্যাক্ট চেকিংয়ের প্রতিবেদনে যে ইউআরএল দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই আয়ারল্যান্ডের ওই ভেড়া-ভায়াগ্রা ঘটনার। উল্টে বিষয়টি যাতে আরও স্পর্ষকাতর হয়ে ওঠে তার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে ‘অতি-স্পর্ষকাতর’ কিছু শব্দ। অথচ,ইন্ডিয়া টুডের মূল ফ্য়াক্ট চেকিংয়ের প্রতিবেদনটিতে প্রকৃত তথ্যই ব্যবহার করা হয়েছে।

আশ্চর্যজনক ভাবে ইংরাজি এবং বাংলা, দু’টি প্রতিবেদনেরই সাংবাদিক একজনই। কিন্তু ইউআরএল দু’রকম। রং চড়িয়ে অন্য কোনো অপেক্ষাকৃত ছোটো গণমাধ্যমকে বিপাকে ফেলার উদ্দেশ্য নিয়েই এ ধরনের একবগ্গা এবং কৌশল প্রণোদিত ফ্যাক্ট চেকিংয়ের অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই তো?

আজ যখন বাংলার সংবাদ মাধ্যমগুলির সামনে সমূহ সমস্যা, তখন বেশ কিছু সাংবাদিক সততার সঙ্গে পোর্টাল চালাচ্ছেন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই। তখন বৃহৎ মিডিয়া গোষ্ঠীর এ ধরনের আচরণ ছোটো মাধ্যমগুলির সেই লড়াইকে থামিয়ে দেওয়ার অপকৌশলের শামিল ছাড়া, আর কী-ইবা বলা চলে!

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.