music festival in bishnupur
বিষ্ণুপুড়ে সংগীত মেলা।
indrani sen
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: ভ্রমণপিপাসু মানুষদের সাদর আমন্ত্রণ জানাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পর্যটন দফতর ও বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। ১ ফ্রেবুয়ারি থেকে বাঁকুড়া জেলার দুই মহকুমায় শুরু হয়েছে ভিন্ন ধরনের দুই মেলা। চলবে ৩ ফ্রেবুয়ারি পর্যন্ত।

জল-জঙ্গল-জলাধার আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঘেরা ‘বাঁকুড়ার রানি’ মুকুটমণিপুরে শুরু হল ২১তম মুকুটমণিপুর মেলা। অন্য দিকে ‘মন্দির নগরী’ বিষ্ণুপুর শহরে শুরু হল মিউজিক ফেস্টিভ্যাল।

আদিবাসী সংস্কৃতি, লোকসংস্কৃতি ও পর্যটন শিল্পের প্রসারে তিন দিনের ২১তম বর্ষের মুকুটমণিপুর মেলার উদ্বোধন করেন বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্মু। উপস্থিত ছিলেন খাতড়ার মহকুমা শাসক রাজু মিশ্র, খাতড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জয়ন্ত মিত্র, মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক রামশঙ্কর মণ্ডল প্রমুখ। এখানে আসা পর্যটকরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি আদিবাসী সংগীত ও নৃত্যের অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ পাবেন। মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, খাতড়া মহকুমার আটটি ব্লকের আদিবাসী ও আদিবাসী লোকশিল্পীরা তিন দিন ধরে তারা অনুষ্ঠান পরিবেশ করবেন।

আরও পড়ুন রাজধানী এক্সপ্রেসে দিল্লি পৌঁছোবেন আরও তাড়াতাড়ি, কী ভাবে?

মুকুটমণিপুর মেলা উদ্বোধন করে সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্মু বলেন, আদিবাসী সংস্কৃতি, লোকসংস্কৃতির প্রসারের পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে মুকুটমণিপুরকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতেই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

mukutmanipur
মুকুটমণিপুর মেলা।

অন্য দিকে তিনদিন ব্যাপী মিউজিক্যাল ফেস্টিভ্যাল শুরু হল বিষ্ণুপুরে। পূর্ব ভারতের একেবারে নিজস্ব শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সুর ধ্রুপদ। রাজ্য পর্যটন দফতরের উদ্যোগে ও বিষ্ণুপুর মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে এই মেলাকে কেন্দ্র করে অনেকটাই ধ্রুপদসংগীত চর্চার বিকাশ ঘটবে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, আনুমানিক ১৩৭০ সাল নাগাদ বিষ্ণুপুরের মল্লরাজাদের হাত ধরে তাঁদের দরবারে বিষ্ণুপুর সঙ্গীত ঘরানার সূত্রপাত। সংগীতরসিক রাজা রঘুনাথ সিংহ দিল্লির বাহাদুর খাঁ সাহেবকে নিয়ে আসেন। তিনিই উচ্চাঙ্গ সংগীতের প্রচার ও প্রসার ঘটিয়েছিলেন। পরে গদাধর, রামশংকর ভট্টাচার্য, যদুভট্ট প্রমুখরা এই সংগীতঘরানাকে নতুন রূপ দেন। শোনা যায় স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম প্রিয় শাস্ত্রীয়সংগীতশিল্পী ছিলেন এই বিষ্ণুপুর ঘরানার বিশিষ্ট শিল্পী যদুভট্ট।

আরও পড়ুন বছর শেষে রাজ্যে আরও দু’টি বিমানবন্দর, কলকাতা-দুর্গাপুর থেকে নতুন উড়ান পরিষেবা

বিষ্ণুপুর মিউজিক ফেস্টিভ্যাল উপলক্ষ্যে অপরূপ আলোকসজ্জায় সেজে উঠেছে জোড় মন্দির প্রাঙ্গণ। এক দিকে পোড়া মাটির হাট, অন্য দিকে সেখানেই শাস্ত্রীয়সংগীত ধ্রুপদের মূর্ছনা। সব মিলে মিশে যেন একাকার। ইতিমধ্যে এই সংগীতের টানে শহরে এসে পৌঁছে গিয়েছেন দেশ-বিদেশের অসংখ্য সংগীতপ্রেমী পর্যটক। বিষ্ণুপুরের মহকুমাশাসক মানস মণ্ডল বলেন, সংগীতচর্চার প্রচারে ও প্রসারে সমস্ত রকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিন দিন ধরে প্রথিতযশা শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করবেন। এর পাশাপাশি সংগীত ও আলোর যুগলবন্দিতে মিউজিক ফেস্টিভ্যাল এক মায়াবী পরিবেশের সৃষ্টি করবে বলেও তিনি দাবি করেছেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here