খবরঅনলাইন ডেস্ক: বুধবার সকালে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন জনপ্রিয় কল্পবিজ্ঞান লেখক অনীশ দেব। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। এই বর্ষীয়ান সাহিত্যিকের মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন তাঁর কন্যা মোনালিসা দেব। তাঁর মৃত্যুতে বাংলার সাহিত্যজগত শোকস্তব্ধ।

কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পর অনীশবাবুকে কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভরতি করা হয়।

অনীশ-কন্যা মোনালিসা জানান, বলেন, তাঁর বাবার অক্সিজেনের মাত্রা খুব কমে গিয়েছিল। চিকিৎসকরা বলেছিলেন প্লাজমা দিলে হয়তো অবস্থার কিছুটা উন্নতি হবে। প্লাজমা জোগাড়ও করা হয়। কিন্তু মঙ্গলবার রাতেই তাঁর অবস্থা আরও খারাপ হওয়ায় ভেন্টিলেশনে দিতে হয়। তার পরেই তাঁর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। বুধবার সকালে বাবার মৃত্যুর খবর পান তিনি।

বিজ্ঞানের কৃতী ছাত্র অনীশ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাপ্লায়েড ফিজিক্সে এম টেক করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই বিভাগেই লেকচারার হিসাবে নিজের কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৮৩ সালে। পরে রিডার হন। প্রফেসর হিসাবে কর্মজীবন থেকে অবসর নেন। কৃতী ছাত্র হিসাবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দু’টি স্বর্ণপদক ও একটি রৌপ্যপদক পান।

কর্মজীবন তিরিশের গোড়ায় শুরু হলেও তাঁর লেখালেখির শুরু কৈশোরেই। তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় মাত্র ১৭ বছর বয়সে, অধুনালুপ্ত ‘মাসিক রহস্য’ পত্রিকায়। তাঁর কলম কখনও থামেনি। কল্পবিজ্ঞানের পাশাপাশি তিনি গোয়েন্দাকাহিনি, রোমাঞ্চগল্প, ভূতের গল্প এবং অলৌকিক কাহিনিও লিখতেন। পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সব খ্যাতনামা ম্যাগাজিনে তাঁর লেখা প্রকাশিত হত।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ষাট ঘণ্টা তেইশ মিনিট’, ‘এক বিন্দু সন্দেহ’, ‘লাশতালাশ’, ‘ঘাসের শীষ নেই’, ‘সাপের চোখ’, ‘তীরবিদ্ধ’, ‘জীবন যখন ফুরিয়ে যায়’, ‘অনীশের সেরা ১০০’, ‘বিজ্ঞানের হরেকরকম’, ‘সহজ কথায় ইন্টারনেট’, ‘রোমাঞ্চকর ধুমকেতু’ ইত্যাদি। এ ছাড়াও তাঁর সম্পাদনায় একগুচ্ছ বই প্রকাশিত হয়েছে। ‘বিদ্যাসাগর পুরস্কার’ ছাড়াও সাহিত্যজগতে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অনীশ দেব নানা পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: Covid crisis: কলকাতার একাধিক জায়গায় কড়াকড়ি বিধিনিষেধ, তা হলে কি ভোট মিটলেই লকডাউন?  

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন