Farmers
ছবি: প্রতিবেদক
Samir mahat
সমীর মাহাত

ঝাড়গ্রাম: জঙ্গল মহলের চাষের কাজে অবলুপ্তি ঘটেছে প্রাচীন “পসরি” ও “বেগার “প্রথা, নেই আর বুনো ধানও। কৃষি কাজের ভৌগোলিক পরিভাষায় যাকে বলা হয় ব্যাপক কৃষি, আদি গ্রাম্য স্তরে এই রকম ধান চাষই হল বুনা ধান। এই মর্মে লোক প্রবাদও রয়েছে , “শুনা কথা আর বুনা ধান, অর্ধেক আগড়া অর্ধেক ধান”।

চাষিরাও জানতেন, এই পদ্ধতির চাষে ষোল আনা ফসল মিলবে না। প্রাচীন কালে চাষিদের জমির পরিমাণ ছিল বেশি। ভালো জলা জমিতেই ধান রোয়া বা লাগানো হতো।এ ক্ষেত্রে প্রচলিত ছিল “পসরি” প্রথা। পসরি হল, দলগত ভাবে বিনা পারিশ্রমিকে একে অপরের চাষের কাজে সহযোগিতা করা। জমিতে লাঙল ও ধান রোপণ সময় মতো সম্পন্নের এক মাত্র উপায় ছিল এই পদ্ধতি।

পাশাপাশি অতিরিক্ত ডাঙা জমিতে জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি জমি তৈরি করে বীজ ধান ছিটিয়ে বা বুনে দেওয়া হয়। চারা পুষ্ট হলে তার মধ্যে লাঙল চালিয়ে মাটি আলগা করা হয়। চাষিদের ভাষায় এই পদ্ধতির নাম “কাঢ়ান” দেওয়া।পরবর্তী কাজটি হল, “গাইছান্” বা গাছ চালানো। এ ক্ষেত্রে বেগার প্রথা চালু ছিল। সন্ধ্যায় সৌজন্য ভোজের বিনিময়ে গ্রামবাসীরা দলে দলে আনন্দ স্ফূর্তির মধ্যে গাছ চালানোর মাধ্যমে চাষ উঠানি করত। এই সমস্ত প্রথায় অবলুপ্ত।

Farmers

সম্প্রতিকালে এলাকায় মেশিনের সাহায্যে লাঙল ও ধান কাটা চালু হলেও রোপণের সমস্যা থেকেই গিয়েছে। সময় সাপেক্ষ হওয়ায়ও ‘পসরি’ প্রথা উঠে যাওয়ায় সময় মতো কামিন পাচ্ছে না অনেকেই।

পড়তে পারেন: ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ছাত্রীর পাশে সহপড়ুয়ারা, সহায়তা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনেরও

সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ বিমল মাহাত বলেন, “কৃষি আদি জনজাতিদের শুধু কর্মই নয়, সংস্কৃতিও বটে। আগে ধান লাগানোর সময় কামিনরা গীত গায়তেন। বেগারের সময় নাচ-গানের মাধ্যমে গাছি চালানো হতো। যে দিন যার বাড়িতে বেগার, সেদিন ওই বাড়িতে চাষ সমাপ্তির আনন্দ ভোজ। এই সংস্কৃতিকে প্রত্যক্ষ করেই কবি লিখেছেন, ‘আমরা চাষ করি আনন্দে, মাঠে মাঠে বেলা কাটে, সকাল হতে সন্ধে।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here