হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পরেও শিল্পের জন্য অধিগৃহীত ৩০০ একর জমিতে গড়ে উঠছে আবাসন!

0

ওয়েবডেস্ক: ১৯ বছর আগের ঘটনা। বোলপুরের শিবপুরে শিল্প গড়ে তোলার উদ্দেশে প্রায় ৩০০ একর জমি অধিগ্রহণ করে ওয়েস্ট বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (ডব্লিউবিআইডিসি)। দীর্ঘ দিন পর সেই জমি হস্তান্তরিত হয় হিডকোর হাতে। কোপাই দিয়ে বয়ে গিয়েছে বহু জল, কিন্তু শিল্পের দেখা নেই। উলটে গ্রামবাসীদের অভিযোগ, শিল্পের বদলে গড়ে উঠছে ছোটোখাটো নির্মাণ। যা থেকে আশঙ্কা, এ ভাবেই ধীরগতিতে এখানে গড়ে উঠবে আবাসন এবং ফ্ল্যাটবাড়ি।

জমিদাতারা জানান, ২০০১-০২ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে বোলপুর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরত্বে এই জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। সে সময় প্রায় ১,২০০ জন নিজের জমি দিয়েছিলেন শিল্প গড়ে ওঠার স্বপ্ন নিয়ে। এঁদের মধ্যে দেড়শো জন টাকা নেননি। কিন্তু যাঁরা টাকা নিয়েছিলেন, তাঁরা যা হাতে পেয়েছিলেন, সেটার সঙ্গে বাজার চলতি দরের আকাশ-পাতাল ফারাক।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সে সময় সরকার বলেছিল বিঘাপ্রতি ৬৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। কার্যক্ষেত্রে যার পরিমাণ দাঁড়ায় বিঘাপ্রতি মাত্র ৪৮ হাজার।

সেই জমির দামই এখন ঠেকেছে বিঘাপ্রতি এক কোটি টাকায়। ২০১১ সালে সরকার বদলের পরেও শিল্প নিয়ে কোনো ইতিবাচক আশ্বাস মেলেনি। সরকার অবশ্য বলেছে, এখানে শিল্প না হলে বিশ্ববঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং গীতবিতান সিটি। কিন্তু এমন আশ্বাসের পরেও অভিযোগ, খোলামেলা আবাসন শিল্প মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে শিল্পের জন্য অধিগৃহীত জমিতে।

‘শিল্প না হলে, জমি ফেরত চাই’, রাজ্য সরকারের ‘মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’ ও ‘প্রবঞ্চনা’র বিরুদ্ধে বোলপুরের শিবপুর মৌজার কৃষকদের আন্দোলন চলছে বেশ কয়েক বছর ধরেই। রবিবার গণঅবস্থানে অংশ নেন সেভ ডেমোক্রেসির চঞ্চল চক্রবর্তী এবং মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআরের প্রতিনিধিরা। তাঁদের দাবি, শিল্পের জন্য অধিগৃহীত জমিতে শিল্প-ই হোক। যাতে ভূমিপুত্রদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়। আবাসন শিল্পে তাঁদের কোনও লাভ নেই।

প্রসঙ্গত, শিবপুরের জমি সংক্রান্ত জটিলতা কলকাতা হাইকোর্ট থেকে পৌঁছেছে সুপ্রিম কোর্টেও। হাইকোর্ট আগেই স্থগিতাদেশ জারি করেছিল। বলা হয়েছে, হিডকো ওই জমিতে কোনো নির্মাণকাজ চালাতে পারবে না। তার পরেও কী ভাবে ইট-বালির জঞ্জাল?  উত্তর দেওয়ার নেই কেউ!

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here