blood donation camp
srila pramanik
শ্রীলা প্রামাণিক

বি টেক পাস মেয়ের জন্য ভালো পাত্র পেতে আর দেরি করেননি বাবা। দ্রুত ঠিক করে ফেলেন বিয়ের দিনক্ষণ। ইচ্ছা ছিল মেয়ের বিয়েতে আয়োজনে কোনো ত্রুটি রাখবেন না। কিন্তু বিয়ের কয়েক দিন আগেই মেয়ে আবদার করেন বাবার কাছে। সটান জানিয়ে দেন, বিয়েতে এত আড়ম্বর জাঁকজমক কিছু চাই না তাঁর। বিয়েতে তাঁকে গয়না শাড়ি ইত্যাদি দেওয়ার দরকার নেই। এই সব খরচ কমিয়ে এমন কোনো কাজ করা হোক যাতে মানুষ উপকৃত হবেন। বিয়ের দিন রক্তদান শিবিরের আয়োজন করার কথা তিনি জানান বাবাকে।

নদিয়ার তেহট্ট থানার তেহট্ট বাজারপাড়ার বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক সুবিনয় মণ্ডল অবশ্য মেয়ের দাবি মেনেই শুক্রবার বিয়ের দিন আয়োজন করলেন রক্তদান শিবিরের। সুবিনয়বাবুর এক ছেলে, এক মেয়ে। মেয়ে সৌমিতা বি টেক পাস করেছেন। সম্প্রতি তাঁর বিয়ে ঠিক হয় উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরের অর্পণ হাজরার সঙ্গে। শুক্রবার ছিল বিয়ের দিন। সেই বিয়েতে জাঁকজমক করার খরচ বাঁচিয়ে মুমূর্ষু রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন সৌমিতা। যদিও প্রথমে মেয়ের এমন দাবি শুনে কিছুটা অবাক হয়েছিলেন সুবিনয়বাবু। তবে পরে তিনি এলাকার বাসিন্দা সুমন বিশ্বাস, তন্ময় সরকার নামে দুই যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁরা এলাকার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেন।

শুক্রবার সৌমিতার বিয়ের দিনে আত্মীয়স্বজন ছাড়াও আশপাশের অন্যরাও রক্ত দিলেন। এ দিন  ৪০ জন রক্ত দান করেন। প্রথমেই রক্ত দেন সৌমিতার মা ডালিয়া মণ্ডল। শিক্ষকতা করার পাশাপাশি সবিনয়বাবু এলাকার সমাজসেবী হিসাবে পরিচিত। নানা সমাজসেবামূলক কাজে এবং মানুষের সাহায্যে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন আগাগোড়া। সেই দেখে মেয়েও এগিয়ে এসেছে উৎসাহিত হয়ে। এ দিন সৌমিতা বলেন, “আমি বাবার কাছে আবদার করি আমার বিয়ের দিন বিয়ের খরচ বাঁচিয়ে রক্তদান শিবির করতে। বাবা আমার আবদার মেনে নিয়ে রক্তদান শিবির করেছে। তার পরে আরও বেশি আনন্দ হচ্ছে আমার মা প্রথম রক্তদান করেছে বলে। বিয়েতে জাঁকজমক করার থেকে মুমূর্ষু রোগীদের জন্য কিছু করাটা জরুরি ছিল।”

সৌমিতার এই দৃষ্টিভঙ্গিতে খুশি তাঁর বাবা-মা। সুবিনয়বাবু বলেন, “মেয়ের আবদার রাখতে বিয়ের খরচ কাটছাঁট করে এই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছি। মানুষের উপকারে লাগবে ভেবে আমরা খুশি।” পেশায় স্বাস্থ্যকর্মী সৌমিতার মা ডালিয়া মণ্ডল বলেন, “মেয়ের বিয়েতে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে সেই শিবিরে আমি প্রথম রক্ত দিচ্ছি, এর থেকে আনন্দের আর কী হতে পারে। বিয়েতে জাঁকজমক না হয় কম করলাম। কিন্তু বহু মানুষ এতে উপকৃত হবে। এটাই বা কম কী।”

বান্ধবীর বিয়েতে এসে এই রক্তদান শিবির দেখে রক্ত দিয়েছে সৌমিতার বান্ধবী অনুশ্রী বিশ্বাস। তিনি বলেন, “আমি আসার আগেও জানতাম না এই ধরনের এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ তাঁরা নিয়েছেন। এসে দেখে আর নিজেকে ঠিক রাখতে না পেরে এই উদ্যোগে রক্তদান করে আমিও শামিল হলাম।” আর এই শিবিরের অন্যতম উদ্যোগী দুই যুবক তন্ময় সরকার ও সুমন বিশ্বাস বলেন, “সুবিনয়বাবু আমাদের যখন এই কথা বলেন আমরা একটু অবাক হয়েছিলাম। পরে সকলের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই রক্তদান শিবিরের ব্যবস্থা করি। আরও মানুষ এ ভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে এগিয়ে আসবেন বলে আশা করা যায়।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here