molestation

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: নির্জনে দুর্জনদের হাতে নয়, নিজের বাড়িতেই পাশবিক অত্যাচারের শিকার কিশোরী! অভিযুক্ত নিজের জন্মদাতা। ডুয়ার্সের একটি চা বাগানের এই ঘটনায় সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্রটা ফের এক বার উঠে এল।

নাগরাকাটার এই চা বাগানের এক শ্রমিক পরিবারের মেয়ে অনিতা (নাম পরিবর্তিত)। মা সবিতা গৃহবধূ, বাবা চা-শ্রমিক। বছরখানেক আগেই মদ্যপ বাবার লালসার শিকার হয় মেয়েটি। এক বার নয়, বার বার। কিন্তু লজ্জায়, ভয়ে কাউকে জানাতে পারেনি। কারণ কুকীর্তির পর বাবা হুমকি দিয়েছিলে মাকে জানালে মা-মেয়ে দু’জনকেই খুন করে ফেলবে। কিন্তু মায়ের মন কু ডেকেছিল। সবটা বুঝতে না পারলেও মেয়ের মনমরা হাভভাব দেখে সন্দেহ হয়েছিল তাঁর। মদ্যপ স্বামীর স্বভাবও অজানা নয়। তাই আর দেরি করেননি। মেয়েকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন অনেকটা দূরে মেটেলিতে সম্পর্কিত এক বোনের বাড়িতে। সেখানেই পড়াশোনা করছিল কিশোরী। কিন্তু সম্প্রতি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হতেই স্কুলে ছুটি পড়ে যায়। ছুটির কয়েকটা দিন কাটানোর জন্য বাড়ি ফেরে সে। হয়ত ভেবেছিল এত দিনে নিজের ভুল বুঝতে পেরে পালটে গেছে বাবা। তার মাও হয়তো সেই সাহসেই ভর করে ছুটির কয়েকটা দিন মেয়েকে নিজের কাছে এনে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বুঝতে পারেননি কয়লার রঙের মতো স্বভাবও ময়লা হয়ে গেলে তা আর শোধরায় না।

দিনটা ছিল ২১মার্চ। স্বামী বাড়ি ছিলেন না। কাজ থেকে ফিরে রাত ৮টা নাগাদ সবিতাদেবী মেয়েকে এক ঘরে রেখে পাশের ঘরে টিভি দেখছিলেন। কিছুক্ষণ পরই মেয়ের আর্তনাদ শুনতে পান তিনি। ছুটে গিয়ে দৃশ্য দেখে কিছুক্ষণের জন্য স্তম্ভিত হয়ে যান। ঘরের মধ্যে বিছানায় প্রায় বিবস্ত্র কিশোরী মেয়ে ছটফট করছে আর মদ্যপ স্বামী তার লালসা পূরণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। দৃশ্য দেখেই চিৎকার করে ওঠেন। সেই চিৎকারে ভয় পেয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায় ভক্ষক পিতা। কোনো মতে মেয়েকে নিয়ে পাশের আত্মীয়বাড়িতে চলে যান। সব কিছু খুলে বলেন আত্মীয়-পাড়াপড়শিদের। তাঁরাও ঘটনা শুনে স্তম্ভিত। ক্ষিপ্ত কেউ কেউ গুণধর বাবাকে পিটিয়ে মেরা ফেলার মতো নিদানও দেন। যদিও তাঁদের বুঝিয়েসুঝিয়ে নিরস্ত করা হয়। এই ক’ দিন নিজের সঙ্গে যুঝে অবশেষে সিদ্ধান্ত নেন সবিতা দেবী। কিশোরী মেয়েকে সঙ্গে করে শুক্রবার সটান চলে আসেন নাগরাকাটা থানায়। ঘটনা শোনার পর দেরি করেনি পুলিশও। এ দিনই অভিযুক্ত বাবা সোলেমন ওরাঁওকে গ্রেফতার করা হয়।

নাগরাকাটা থানার ওসি সৈকত ভদ্র জানিয়েছেন, পকসো আইনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ধৃত পিতাকে শনিবার জলপাইগুড়ি আদালতে পাঠানো হবে।

ডাক্তারি পরীক্ষার পর মায়ের হাত ধরে বাড়ি ফিরে গিয়েছে কিশোরী। কিন্তু যে আতঙ্ক তার মনে চেপে বসেছে তা কবে কাটবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে তার কাউন্সেলিং-এর পরামর্শ দিয়েছেন মনোবিদরা।

গত জানুয়ারি মাসে মেয়ের সম্ভ্রম বাঁচাতে স্বামীকে খুন করেছিল স্ত্রী। ডুয়ার্সের কারবালা চা বাগানের সেই ঘটনায় শিউরে উঠেছিল মানুষ। স্বামীকে শাস্তি দিয়ে সেই মা এখন সংশোধনাগারে।

এ দিনের ঘটনায় রক্ষক থেকে ভক্ষক হয়ে যাওয়া পিতাকে শাস্তি দেবে আইন-আদালত। কিন্তু নিরাপরাধ কিশোরীকে ‘শান্তি’ দেবে কে? প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছে চা বাগানের ইতিউতি। যার উত্তর বোধহয় এই ক্ষয়ে যাওয়া সমাজের কাছে নেই!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here