পুলিসের জিপে রাখি শাহ

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ট্রেজারি কর্তার মৃত্যুর ঘটনায় এই প্রথম মুখ খুললেন স্ত্রী রাখি শাহ।তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, দুশ্চরিত্র ছেলের কলঙ্ক ঢাকতে তাকে ফাঁসিয়েছে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। শ্বশুর নাসির শাহ তাকে জোর করে এতদিন চুপ করিয়ে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ তার। আর সবটাই ছেলের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কগুলি যাতে বাইরে বেরিয়ে না আসে তার জন্য।

স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় ২৮ ডিসেম্বর গ্রেফতার হয়েছিলেন স্ত্রী রাখি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটদিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেয় জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ।শনিবার হেফাজতের মেয়াদ শেষে ফের তাকে জলপাইগুড়ি আদালতে তোলা হয়।আদলতে নিয়ে যাওয়ার পথেই শ্বশুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন রাখি।

আরও পড়ুন: জলপাইগুড়িতে ট্রেজারি কর্তার মৃত্যুর ঘটনায় শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার স্ত্রী

জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত ট্রেজারি আধিকারিক ছিলেন নাদির শাহ।বাড়ি কলকাতার বড়োবাজারে।

স্ত্রী রাখিকে নিয়ে জলপাইগুড়ির রাজবাড়ি পাড়ার কম্পোজিট কমপ্লেক্সে সরকারি আবাসনে থাকতেন।মাত্র কয়েক মাস আগেই তাদের বিয়ে হয়।

গত ১৩ ডিসেম্বর সেই আবাসনেই অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় নাদির শাহর। রাখি পুলিশের কাছে দাবি করেছিলেন তার স্বামী গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।যদিও ১৫ ডিসেম্বর নাদির শাহর বাবা নাসির শাহ কোতোয়ালি থানায় ছেলেকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এরপর ফরেন্সিক তদন্তের জন্য রাখিকে কলকাতা থেকে ডেকে পাঠানো হয়। উত্তরববঙ্গ মেডিকেল কলেজের মেডিকেল টিম জলপাইগুড়ির ওই আবাসনে তদন্তে আসেন। তারা সেখানে ঘটনার পারিপার্শ্বিক বেশ কিছু অসঙ্গতি পান।

এরপর গত ২৮ ডিসেম্বর স্ত্রী রাখি শাহকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতে তুলে তাকে আটদিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেয়। খুন হোক বা আত্মহত্যা, তার পেছনে রাখির হাত ছিল বলে সন্দেহ হয় পুলিশের।

নাদির শাহ ও রাখি শাহ

এদিকে ঘটনার পর থেকেই নাদির শাহর একাধিক বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কথা সামনে আসছিল। রাখির ভাই এবং নাদির শাহর শ্যালক তাহের শেখ জানিয়েছিলেন,তার জামাইবাবু একধিক মহিলার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িত।তা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর অশান্তি চরমে পৌছেছিল। ১৩ ডিসেম্বর গভীর রাতেও দুজনের বচসার আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলেন আবাসনের অন্য বাসিন্দারা। সেদিন রাতেই দেড়টা নাগাদ অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় নাদির শাহর। শনিবার রাখি জানান স্বামীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে ওই রাতেও বচসা হয়।তারপরেই নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে আত্মহত্যা করেন নাদির।রাখি জানিয়েছেন কলকাতার এবং ময়নাগুড়ির দুই তরুণীর সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল নাদিরের। এদের মধ্যে এক তরুণী বিয়ের জন্য এবং অপরজন পাঁচলক্ষ টাকা চেয়ে চাপ দিচ্ছিলেন নাদিরকে,চাঞ্চল্যকর অভিযোগ রাখির। সেইসব চাপ সহ্য করতে না পেরেই সে আত্মহত্যা করে।

রাখির দাবি ঘটনার পর কলকাতা থেকে শ্বশুর নাসির শাহ এসে রাখিকে মুখ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।সব কথা জানাজানি হলে পরিবারে সুনাম নষ্ট হবে তা বুঝিয়েই রাইর মুখ বন্ধ করা হয়। সে যাতে পরে আর বাইরে মুখ খুলতে না পারে সেইজন্যই থানায় খুনের অভিযোগ করে তাকে গ্রেফতার করিয়েছেন,দাবি রাখির।যদিও এসব অভিযোগ মানতে চাননি নাসিরের বাবা নাসির শাহ। তার বক্তব্য ঘটনার দিন ওই ফ্ল্যাটে ছেলে ছাড়া একমাত্র তার বউমাই ছিল।তিনি কাউকে ফাঁসাননি।

এদিন পুলিশি হেফাজত শেষে ফের আদালতে তোলা হয় রাখিকে। তদন্তের অগ্রগতির জন্য ফের  ছয়দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে চাওয়া হয়। আদলতের সরকারি আইনজীবী সিন্ধুকুমার রায় জানান,বিচারক চারদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে রাখি জানিয়েছেন,যে দুই মহিলার কারণে তার স্বামী আত্মহত্যা করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক পুলিশ।যদিও পুলিশ এই বিষয়ে আজ মুখ খোলেনি।তবে রাখির বয়ানে ঘটনা নতুন মোড় নেওয়ায় পুলিশি তদন্ত এখন কোন দিকে যায় সেটাই দেখার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here