shaoli mitra

ওয়েবডেস্ক: “আমি তীব্র ভাবে অসম্মানিত বোধ করছি!”

পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির সভাপতি পদে ইস্তফা দেওয়ার জন্য আপাতত এই কারণটিই দর্শাচ্ছেন প্রখ্যাত বর্ষীয়ান নাট্যব্যক্তিত্ব ও লেখিকা শাঁওলি মিত্র। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের গোড়ার দিকে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির সভাপতি পদে আর কাজ করবেন না। জানিয়েছিলেন, সেখানে স্বাধীন ভাবে কাজ করার পরিকাঠামো নেই। তার পরে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় মন্তব্যও করেন। জানান, শাঁওলির সঙ্গে সব রকম ভাবে সহযোগিতা করবে সরকার!

তার পরেও কেন ফিরে আসার সব দরজা নিজের হাতেই একে একে বন্ধ করে দিলেন শাঁওলি?

“জানিয়ে রাখি, ব্যক্তিগত কোনো কারণ এখানে নেই। পুরোটাই কাজের সঙ্গে যুক্ত। আগেই বলেছি যে ওখানে স্বাধীন ভাবে কাজ করার পরিকাঠামো নেই। আমি কোনো কাজই করে উঠতে পারছিলাম না। তার পর যখন ইস্তফা দিতে চাইলাম, তখন সরকার বললেন যে আমাকে স্বাধীন ভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু এতগুলো মাস অপেক্ষা করার পরেও সরকারের তরফ থেকে আমার সঙ্গে সহযোগিতা করার কোনো রকম উদ্যোগ দেখতে পেলাম না। তাই তীব্র অসম্মানিত বোধ করছি। আর অপেক্ষা করার কোনো মানে হয় না”, সাফ জানাচ্ছেন শাঁওলি।

শাঁওলি মিত্র তাঁর বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন, ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বছর চারেক তিনি আকাদেমিতে স্বাধীন ভাবে কাজ করার সুবিধা পেয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৬ থেকেই সমস্যার সূত্রপাত। নানা ভাবে বাধা দেওয়া হতে থাকে তাঁর কাজে। প্রবাদপ্রতিম নাট্যব্যক্তিত্ব তৃপ্তি মিত্র এবং শম্ভু মিত্রর কন্যা আরও জানিয়েছেন যে সরকারি হস্তক্ষেপে তাঁর কাজ করার ক্ষমতা প্রায় বন্ধই হয়ে যায়। এ নিয়ে প্রতিকার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠিও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, তাঁর সেই চিঠির প্রত্যুত্তর মেলেনি।

“উনি যে রকম কাজ করছেন, সে রকমই করবেন! মুখ্যমন্ত্রী ওঁর অসুবিধা দূর করে দিয়েছেন তো”, শাঁওলির ইস্তফা প্রসঙ্গে সে সময়ে দাবি ছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের!

কিন্তু শাঁওলির পাল্টা দাবি, প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকার থেকে তাঁর সঙ্গে কোনো যোগাযোগই করা হয়নি। ফলে অবশেষে একেবারেই সরে এলেন তিনি দায়িত্ব থেকে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here