নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : কোথাও কাজ ফিরে পাওয়ায় আলোর রোশনাই, কোথাও কাজ হারিয়ে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ। একই দিনে দুই চিত্র দেখল জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ ব্লক।

এক বছরের মাথায় ফের তালা ঝুলল রাজগঞ্জের তিস্তা অ্যাগ্রো ইণ্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে। কাজ হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে এই সার কারখানার প্রায় ৩০০ শ্রমিক।

বৃহস্পতিবার সকালে কাজে এসে কারখানার গেটে সাসপেনশন অফ ওয়ার্কের নোটিশ দেখতে পান শ্রমিকরা। তার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। শ্রমিক সংগঠনগুলির তরফে জানা গিয়েছে, মূল সমস্যা ঠিকাদারের অধীন শ্রমিকদের নিয়ে। তাদের মজুরি বৃদ্ধি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, স্বাস্থ্য পরিষেবা-সহ একাধিক দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছিল। এর আগে ২০১৫ সালেও আন্দোলনের জেরে প্রায় তিন মাস বন্ধ ছিল কারখানা। এ বারও বঞ্চনার বিরুদ্ধে সরব হওয়াতেই কারখানার মালিকপক্ষ শ্রমিক পরিবারগুলিকে অন্ধকার ভবিষ্যতের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন কারখানার শ্রমিক নকুল রায়, শক্রু মহম্মদ। যদিও কারখানার ম্যানেজার সন্তোষ মাহান্তি জানিয়েছেন, শ্রমিকরা আন্দোলনের নামে অরাজকতা তৈরি করেছিলেন। সময়মতো কাজে না আসা, অন্য কর্মীদের কাজ করতে না দেওয়ার ফলে কারখানা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছিল বলে দাবি ম্যানেজার সন্তোষ  মাহান্তির।

তবে তৃণমূল প্রভাবিত শ্রমিক সংগঠনের নেতা তপন দে জানিয়েছেন, কারখানা খোলা রেখে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হোক। কারখানা খোলার দাবিতে জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ শ্রমিকরা। জলপাইগুড়ির উপ-শ্রম আধিকারিক পার্থ বিশ্বাস জানিয়েছেন, শুক্রবারই মালিক এবং শ্রমিকপক্ষকে ডেকে পাঠানো হয়েছে যাতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে সমস্যার সমাধান করা যায়। এখন সে দিকেই তাকিয়ে হতদরিদ্র শ্রমিক পরিবারগুলি।

এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও আজ একটুকরো খুশির হাওয়া রাজগঞ্জেরই ভোলাপাড়া-প্রণবানন্দ টি এস্টেটে। ২১ দিন বন্ধ থাকার পর শুক্রবার থেকে ফের খুলে যাচ্ছে এই চা-বাগানটি। কাজ ফিরে পেলেন প্রায় ১০০ জন শ্রমিক। মজুরি বকেয়ার জেরে আন্দোলনে নেমেছিলেন চা-বাগানের শ্রমিকরা। নিরাপত্তার অজুহাত তুলে গত ১৪ এপ্রিল বাগান বন্ধের নোটিশ ঝুলিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। দু’-দু’টি বৈঠক নিস্ফলা হওয়ার পর বৃহস্পতিবার তৃতীয় ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে সমাধান সূত্র মেলে। আজ জলপাইগুড়ি উপ-শ্রম আধিকারিকের উপস্থিতিতে বাগানের ম্যানেজার স্নেহজিৎ সেনগুপ্ত প্রতিশ্রুতি দেন, আগামী কাল বাগান খুলে দেওয়ার পাশাপাশি তিনটি ধাপে বকেয়া মজুরি মিটিয়ে দেওয়া হবে। তৃণমূল শ্রমিক নেতা তপন দে ও স্বপন সরকার জানান, শ্রমিকরা শুক্রবার থেকেই কাজে যোগ দেবেন। বাগান খুলে যাওয়ার খবরে খুশির হাওয়া ছড়িয়ে পড়ে শ্রমিক পরিবারগুলিতে। বাগানের শ্রমিক অসিমুদ্দিন মহম্মদ জানিয়েছেন, বাগান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিলেন।

এখন সেই অনিশ্চয়তার মেঘ সরে যাওয়ায় আলোর রোশনাই শ্রমিক মহল্লায়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here