কলকাতা: করোনা সংক্রমণ কার্যত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়লেও উদ্বেগের কিছু নেই। কারণ করোনাভাইরাস সংক্রমণের চলতি স্ফীতিতে একটামাত্র উপসর্গই দেখা যাচ্ছে রোগীদের মধ্যে। তা হল ধুম জ্বর। গত দু’বছরের করোনাকালে যে যে উপসর্গ বেশি করে দেখা যেত, অর্থাৎ শ্বাসকষ্ট, সর্দিকাশি, স্বাদ-গন্ধ চলে যাওয়া, সেগুলি এ বার আর দেখা যাচ্ছে না। এমনই বলছেন কলকাতার চিকিৎসকরা।

সিএমআরআই হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রাজা ধর বলেন, “প্রথম দিন রোগীদের খুব হালকা জ্বর হচ্ছে। দ্বিতীয় দিন জ্বরের দাপট বাড়ছে। শরীরের তাপমাত্রা বেশ অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে। তবে চতুর্থ বা পঞ্চম দিনে গিয়ে সেই জ্বর কমে যাচ্ছে। সুস্থ হয়ে উঠছেন রোগীরা। শ্বাসকষ্ট, সর্দিকাশি বা স্বাদ-গন্ধ চলে যাওয়ার মতো উপসর্গ এখন আর দেখা যাচ্ছে না।” কলকাতার পাশাপাশি, দিল্লি ও মুম্বইয়ের কোভিডরোগীদের মধ্যেই এই রকম উপসর্গই দেখা যাচ্ছে বেশি করে।

আরএন টেগোরে হাসপাতালের চিকিৎসক সৌরেন পাঁজা বলেন, “দ্বিতীয় ঢেউয়ের থেকে তৃতীয় ঢেউয়েই করোনার উপসর্গ অনেকটাই মৃদু হয়ে যায়। এখন তো তা আরোই মৃদু হয়ে গিয়েছে। জ্বরের বাইরে আর কোনো উপসর্গই সে ভাবে দেখা যাচ্ছে না রোগীদের মধ্যে।”

এ বার জ্বরের দাপট কেন বেশি, তা নিয়ে অবশ্য নিজস্ব একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন পিয়ারলেস হাসপাতালের চিকিৎসক শুভ্রজ্যোতি ভৌমিক। তিনি বলেন, “বেশিরভাগ মানুষের টিকাকরণ হয়ে গিয়েছে। অনেকেই টিকার তৃতীয় ডোজও নিয়ে নিয়েছেন। এই টিকাকরণের ফলে আমাদের শরীরে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টিবডি এসে গিয়েছে। বাইরের ভাইরাসের সঙ্গে এই অ্যান্টিবডি যখন লড়াই করে, তখনই জ্বরের উপসর্গ দেখা যায়। এর মানে হল টিকায় সত্যিই কাজ হচ্ছে।”

তবে সংক্রমণ যে হুহু করে বাড়ছে, সেটা পরিসংখ্যানেই পরিষ্কার। বুধবার নতুন করে পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪২৪ জন। পশ্চিমবঙ্গে সংক্রমণের হার ছিল ১২.৭৪ শতাংশ। যদিও কলকাতায় সংক্রমণের হার কুড়ি শতাংশেরও বেশি।

মনে করা হচ্ছে, সপ্তাহ দুয়েক পর থেকে সংক্রমণ ফের কমতে পারে রাজ্যে। কারণ ইতিমধ্যেই দিল্লি এবং মুম্বইয়ে সংক্রমণ কমার লক্ষণ দেখা গিয়েছে।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন