CPIM

ওয়েবডেস্ক: কলকাতা পুরসভার মেয়রপদ থেকে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ইস্তফা দেওয়ার দিনেই রাজ্যের পুর আইন সংশোধনের বিল পাশ করে সরকার। ওই দিনই কলকাতা পুরসভার নতুন মেয়র হিসাবে পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে দলীয় ভাবে মনোনীত করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে রাজ্য সরকারের ওই আইন সংশোধনীকে চ্যালেঞ্জ করে সে দিনই আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রাক্তন পুরমন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য। সেই মতোই বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করলেন কলকাতা পুরসভার এক কাউন্সিলার।

এ দিন সকালে পুরসভার ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিলকিস বেগমের আইনজীবী কলকাতা হাইকোর্টে এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করার অনুমতি চান। দুপুরেই সেই অনুমতি দেয় আদালত। স্বাভাবিক ভাবেই তৎক্ষণাৎ পুর আইন সংশোধনকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করেন বিলকিসের আইনজীবী।

মামলাকারী আবেদনে জানান, এ ভাবে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিরিখে নিমেষে পুরআইন সংশোধন আইন বহির্ভূত। বিধানসভায় যে ভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আইন সংশোধনের বিল পেশ করে তা পাশ করিয়ে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

ashok bhattacharya
অশোক ভট্টাচার্য

এর আগেই অবশ্য রাজ্যের প্রাক্তন পুরমন্ত্রী তথা শিলিগুড়ি পুরসভার মেয়র অশোক ভট্টাচার্য দাবি করেছিলেন, এ ভাবে আইন সংশোধনে একাধিক গাফিলতি রয়ে গিয়েছে। তাঁর দাবি, বিধানসভায় কোনো বিল পাশ করে আইন সংশোধন করতে হলে তার ৭২ ঘণ্টা আগে সেই বিলের খসড়া কপি বিধায়কদের হাতে তুলে দিতে হয়। কিন্তু তড়িঘড়ি ফিরহাদ হাকিমকে মেয়রপদে বসাতে গিয়ে সে সব নিয়মেরও তোয়াক্কা করেনন মমতা। তাঁর দাবি, মাত্র ৩০ মিনিট আগে খসড়া বিল বিধায়কদের দিয়েই সেটা পাশ করিয়ে নেওয়া সম্পূর্ণ ভাবে আইনবিরুদ্ধ।

firhad hakim
ফিরহাদ হাকিম

একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি, রাজ্যপাল এবং বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে দরবার করবে সিপিএম। অশোকবাবু বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গ পুর আইন তো বটেই পাশাপাশি কলকাতা পুরসভা আইন এবং সংবিধানের কোথাও এ ধরনের সিদ্ধান্তগ্রহণের অনুমতি দেওয়া নেই। উল্টে বলা হয়েছে, কোনো কারণে যদি মেয়রকে সরে দাঁড়াতে হয় বা অপসারণ করতে হয় সে ক্ষেত্রে ডেপুটি মেয়র ওই পদের দায়িত্ব সামলাতে পারেন।

sovan chatterjee
শোভন চট্টোপাধ্যায়

উল্লেখ্য, গত ২০ নভেম্বর একটি সরকারি অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই রাজ্যের দমকল এবং আবাসনমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ছড়িয়ে পড়ে। ওই দিনই সন্ধ্যায় তিনি মন্ত্রিত্ব ছাড়ার জন্য ইস্তফাপত্র জমা করেন। এর পর মাঝে এক দিন বাদে বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) তিনি পুরসভার মেয়রপদ থেকেও পদত্যাগ করেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here