আমরি হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডের স্মৄতি ফিরে এল শহরে৷ এবার আগুন লাগল রাজ্যের একমাত্র সরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এসএসকেএম-এ৷ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আরো একবার হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ও সরকারি হাসপাতালের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল৷ আগুন লেগেছে নাকি লাগানো হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হবে বলে ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়৷ হাসপাতালের মধ্যেই এখন থেকে সব সময় ২টি ইঞ্জিন থাকবে, জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷

সোমবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিট নাগাদ আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে৷ রোনাল্ড রস বিল্ডিংয়ের ৬ তলায় সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে এই আগুন লাগে৷ প্রাথমিক অনুমান, শর্ট-সার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে৷ তার নীচের ফ্লোরেই ছিল বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার৷ আগুন লাগার মুহূর্তে ৩ জনের অপারেশন চলছিল বলেও জানা গিয়েছে হাসপাতাল সুত্রে৷ প্রত্যেকেরই প্লাস্টিক সার্জারি চলছিল৷ তাদেরকেও নিরাপদে অন্যত্র সরানো হয়৷ সঙ্গে সঙ্গে দমকলে খবর দেওয়া হলেও দমকল আসতে বেশ খানিকটা দেরি করে৷ তার আগেই আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান রোগীর পরিজন ও হাসপাতাল কর্মীরা। বিল্ডিংয়ে মোট ৭১ জন রোগী ছিলেন৷ তাদের নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷ আগুন লাগার খবর পেয়ে উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন দালালরাও৷ মূলত তাদের প্রচেষ্টাতেই রোগীদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে য়াওয়া হয়৷ খবরের আকস্মিকতায় উত্তেজনা ছড়ায় হাসপাতাল চত্বরে৷ রোগী এবং আত্মীয় পরিজনদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়৷ দমকলের ১৬টি ইঞ্জিনের ঘন্টা খানেকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে৷ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় হাসপাতালের বিদ্যুৎসংযোগ৷

sskm-cm
খবর পেয়ে হাঁসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: রাজীব বসু

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ছাড়াও দমকলমন্ত্রী তথা কলকাতার মহানাগরিক শোভন চট্টোপাধ্যায়, মন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম, কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার সহ কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারাও৷ আগুন নেভানোর কাজ সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন দমকল বিভাগের ডিজি সঞ্জয় মুখার্জি৷ 
ঘটনাস্থলে আসেন পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনিয়াররা৷ বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার কাজ চলছে৷ হাসপাতালের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে৷ অগ্নিকাণ্ডের জেরে বড়ো কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলে স্বাস্থ্য দফতর সুত্রে জানা গিয়েছে৷ তবে আগুনের জেরে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে সেন্ট্রাল লাইব্রেরির দুষ্প্রাপ্য সব বইপত্র ও গবেষণাপত্র৷      

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন